পাইপলাইনে তেল সরবরাহের উদ্যোগ ‘আত্মঘাতী’, ‘বাড়াবে বেকারত্ব’

প্রকাশিত: ৯:৫৯ অপরাহ্ণ, জুন ১২, ২০২০

পাইপলাইনে তেল সরবরাহের উদ্যোগকে ‘আত্মঘাতী‘ অভিহিত করে এই পদক্ষেপ বন্ধে সরকারের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশন।

সংগঠনটি মনে করে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে হাজার হাজার নৌ-শ্রমিক; যারা জ্বালানি তেল পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত তাদেরকে বেকারত্বের ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দেওয়া হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, লোকসান ঠেকাতে এবং পরিবেশ দূষণ কমাতে এমনকি যেকোনও প্রতিকূল পরিবেশে জ্বালানি পরিবহন, পরিচালনা ও সরবরাহ ঠিক রাখতে পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি আমদানির পরিকল্পনা করছে সরকার। এ লক্ষ্যে ট্যাংকার, নৌকা বা রেলের বগির পরিবর্তে পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি নিয়ে আসার বিষয়টি সরকারের ভাবনায় রয়েছে।

এ জন্য ‘ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন‘ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। পাইপলাইন প্রকল্পের জন্য এরইমধ্যে প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধাদি উন্নয়ন সংক্রান্ত জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় একটি প্রকল্প নিয়েছে বলেও গণমাধ্যম থেকে জানা গেছে। বাংলাদেশ নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশন সরকারের এই প্রকল্পের বিরোধিতা করছে।

এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে এক স্মারকলিপিতে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ও জাতীয়ভাবে প্রতিটি রাষ্ট্র ও জনগণের সামনে করোনা পরিস্থিতি কঠিন এক চ্যালেঞ্জ হিসাবে এসেছে। দেশের এই কঠিন পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলসহ পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে নৌ-পরিবহন এক অনন্য ভূমিকা পালন করে চলেছে।’

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, ‘সমকালীন জ্বালানি তেল সংরক্ষণের সীমাবদ্ধতাতে তেলবাহী নৌ-যানসমূহ এক হিসেবে ফ্লোটিং রিজার্ভার হিসেবে কাজে লাগছে। এই শিল্প ও শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিকরা সকল ক্রান্তিকালে দায়িত্ব নিয়েই কাজ করে থাকে। এই পরিবহন ব্যবস্থায় পরিবহন কাজে নিয়োজিত থাকার মধ্যদিয়ে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হয়; যার দায় সরকারকে নিতে হয় না। বর্তমান সময়ে যেখানে সরকারের জরুরি প্রয়োজনে আর্থিক দায় অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে।’

সরকারি ব্যয় সংকোচন যখন অত্যন্ত জরুরি তখন আমরা নানাভাবে জানতে পারছি পাইপলাইনে তেল সরবরাহের মতো প্রকল্প বাস্তবায়নের তোড়জোড় চলছে; বিষয়টি উদ্বেগজনক- বলে উল্লেখ করা হয় নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশনের স্মারকলিপিতে।

এতে আরও বলা হয়, ‘যেখানে করোনার কারণে এমনিতেই নানা শিল্পে এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ঝুঁকিতে রয়েছে দেশ- সেখানে সম্পূর্ণ ব্যক্তিমালিকানায় কর্মসংস্থানের এই ব্যবস্থাটিকে বাধাগ্রস্ত করে হাজার হাজার মানুষকে বেকারত্বের ঝুঁকির মধ্যে ফেলা ও প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রের দায় বাড়ানো কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত নয় বরং জাতীয়স্বার্থ পরিপন্থী।’

ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে পাইপলাইনে তেল সরবরাহের প্রকল্প বাতিল করে নৌ-পরিবহণ ব্যবস্থায় তেল পরিবহনের কার্যক্রম কার্যকর রাখার বিষয়ে অনুরোধ জানান।