পল্লবী থানায় হেলেনা জাহাঙ্গীরের নামে আরেক মামলা

প্রকাশিত: ৭:২২ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩১, ২০২১
আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপকমিটি থেকে সদ্য অব্যাহতি পাওয়া হেলেনা জাহাঙ্গীর। ছবি : ফোকাস বাংলা

আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপকমিটি থেকে সদ্য অব্যাহতি পাওয়া হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্লবী থানায় আরেকটি মামলা করেছে র‍্যাব। এখন পর্যন্ত তাঁর নামে তিনটি মামলা করল র‍্যাব।

গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে র‍্যাব-৪-এর একজন পরিদর্শক এ মামলাটি করেন বলে জানিয়েছেন র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন আইনের ৩৫, ৫৫ ও ৭৩ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে। এ মামলায় পুলিশ তাঁকে (হেলেনা জাহাঙ্গীর) শোন অ্যারেস্ট দেখাবে হয়তো।’

এর আগে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশান থানায় র‌্যাব বাদী হয়ে হেলেনা জাহাঙ্গীরের নামে আরও দুটি মামলা করে। এর মধ্যে একটি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এবং অপরটি বিশেষ ক্ষমতা আইনে।

বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় তিনটি ধারা যুক্ত করা হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে মাদক আইন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন আইনের ধারা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, হেলেনা জাহাঙ্গীরকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার গুলশান থানায় দায়ের করা এ মামলায় আসামি হেলেনা জাহাঙ্গীরকে রাত ৮টার দিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক রাজেশ চৌধুরী তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোহাম্মদ জনি এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, হেলেনা জাহাঙ্গীরের পক্ষে আইনজীবী শফিকুল ইসলাম জামিনের আবেদন করেন। অপরদিকে, ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু রিমান্ড শুনানির আবেদন করেন। বিচারক শুনানি শেষে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে গুলশান ২ নম্বরে হোটেল ওয়েস্টিনের পেছনে ৩৬ নম্বর সড়কের পাঁচ নম্বরে হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাসায় অভিযান চালায় র‍্যাব। প্রায় চার ঘণ্টা অভিযান চলে। এ সময় তাঁর বাসা থেকে বিদেশি মদ ও মুদ্রা, হরিণ ও ক্যাঙ্গারুর চামড়া, ওয়াকিটকি সেট এবং ক্যাসিনোর সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয় বলে অভিযান শেষে জানান র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু।

শুক্রবার বিকেলে র‍্যাব সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেছিলেন, ‘হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মিথ্যাচার, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে। এ ছাড়া মাদক, বিদেশি মুদ্রা ও বন্যপ্রাণীর চামড়া জব্দের ঘটনায় আলাদা আলাদা মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

পাশাপাশি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া ‘জয়যাত্রা’ নামক টেলিভিশন চ্যানেল পরিচালনার কারণে আলাদা মামলা হবে বলে জানিয়েছিলেন র‍্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক।

এরপর বিকেলে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়।