পরিবারের কেউ করোনা আক্রান্ত হলে বাকিদেরও অ্যান্টিবডি তৈরি হয়: ড. বিজন শীল

প্রকাশিত: ৫:৫৪ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০২০

একই মানুষের দ্বিতীয়বার করোনা আক্রান্তের ঝুঁকি নেই বলে মনে করেন গণস্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুজীব বিজ্ঞানী ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের র‍্যাপিড টেস্ট কিটের উদ্ভাবক ড. বিজন কুমার শীল। তার মতে- ঢাকায় করোনা সংক্রমণের ‘পিক বা সর্বোচ্চ মাত্রা’ পার হয়ে গেছে। গণমাধ্যমকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন- আর ভুল না করলে রাজধানীতে খুব বেশি মানুষ সংক্রমিত হবে না। ধীরে ধীরে আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসবে।

ড. বিজন শীলের মতে- পরিবারের কেউ কোভিডে আক্রান্ত হলে বাকিদের শরীরেও অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে। তার পরামর্শ- প্রকৃত অবস্থা জানতে অ্যান্টিবডি টেস্ট করতে হবে দ্রুত।

তিনি বলেন- কী পরিমাণ মানুষের মধ্যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে সেটি জানতে একটি স্টাডি করা প্রয়োজন। এর ভিত্তিতে পরিকল্পনা সাজাতে হবে। এজন্য, অ্যান্টিবডি টেস্ট করা জরুরি।

গণস্বাস্থ্য উদ্ভাবিত অ্যান্টিবডি ও অ্যান্টিজেন টেস্ট কিটের অনুমোদন নিয়েও দারুণ আশাবাদী তিনি। জানান- আরও আপগ্রেড করে ল্যাবে ৯৭ শতাংশ নির্ভুল ফলাফল দিয়েছে কিট।

দেশে চলমান ভ্যাকসিন গবেষণাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এই গবেষক। তবে- তার মতে দ্রুতই ভ্যাকসিন বাজারে আসবে না। এজন্য বেশ কয়েকদফা হিউম্যান ট্রায়াল ও এটি কতটুকু অ্যান্টিবডি তৈরি করছে, তা কতটুকু কাজ করছে সেটি পরীক্ষা করে দেখতে হবে। এজন্য সময় লাগবে।

ড. বিজন বলেন- এই মহামারীতে কাজে না লাগলেও পরবর্তী মহামারী ঠেকাতে ভ্যাকসিন কাজে লাগবে। ভ্যাকসিন থাকলে এমন মহামারী পরিস্থিতি আমরা ঠেকাতে পারতাম। তবে- এই মহামারীতে ভ্যাকসিন কাজে আসবে বলে আমি মনে করি না।

সম্প্রতি, করোনা চিকিৎসায় ফ্যাভিপিরাভির ওষুধে সাফল্য পাওয়ার দাবি উঠলেও ড. বিজনের মতে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো এত সহজ নয়। এ ধরণের গবেষণাকে সাধুবাদ জানালেও তিনি বলেন- আমার মতে প্লাজমা থেরাপি এর চেয়ে বেশি কার্যকর। রোগীর সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও সে অনুযায়ী তাকে বিভিন্ন ধরণের থেরাপি দেয়া, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা করোনা প্রতিরোধে অধিক কার্যকর।

আসন্ন ঈদে যেনো করোনা সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান এই গবেষকের।