নিজের পাকিস্তানি পাসপোর্ট বিলেতের হাইট পার্কে জনসম্মুখে ছিঁড়ে ফেলেছিলেন ডা. জাফরুল্লাহ

প্রকাশিত: ৮:১৬ অপরাহ্ণ, জুন ৮, ২০২০

‘১৯৭১ সালে বিলেতে এফআরসিএস সেকেন্ড পার্ট পরীক্ষা না দিয়ে এমনকি নিজের পাকিস্তানি পাসপোর্ট বিলেতের হাইট পার্কে জনসম্মুখে ছিঁড়ে ফেলে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের জন্য আবু সাঈদ চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে বিত্তবানদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে রসদ জোগাড় করে ভারতের আগরতলায় হাসপাতাল তৈরি করেছেন ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা করেছেন। দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ চলার পর বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে সেই হাসপাতালের নাম হয়েছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। নামটি বঙ্গবন্ধু নিজে দিয়েছেন’।

ডা. জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী সম্পর্কে এমনটাই জানিয়েছেন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত)-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. দেলওয়ার হোসেন।

আজ সোমবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ডা. জাফরুল্লাহ্ চৌধুরীর জীবনের কিছু উল্লেখযোগ্য অবদান সম্পর্কে তিনি এসকল কথা জানান।

ডা. মো. দেলওয়ার হোসেন জানান, গণস্বাস্থ্যের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের গরিব জনগোষ্ঠীর নিকট চিকিৎসা সেবা জনগণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেয়া। এ প্রত্যয় নিয়ে বাংলাদেশের গ্রামে-গঞ্জে বহু সাব সেন্টার খোলা হয়েছে। পরবর্তী সময় তিনি দেশে ওষুধ নীতি প্রণয়ন করেছেন। তার আসল উদ্দেশ্য হলো গরিব শোকার্ত মানুষ যাতে ওষুধ স্বল্প মূল্যে কিনে খেতে পারে। তার কিছুদিন পর অর্থাৎ ১৯৮৯ সালে পুনরায় তিনি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এনে স্বাস্থ্য নীতি প্রণয়ন করেছিলেন যা এখন পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। তার জীবনের একটি মুহূর্তও বসে থাকেননি। সবর্দাই চিন্তা ছিল কিভাবে দেশের সাধারণ মানুষেকে সঠিক পথ দেখানো যায়। সেজন্য তিনি বিনা লাভে গণ বিশ্ববিদ্যালয় ও গণস্বাস্থ্য সমাজ ভিত্তিক মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং গনস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালস এর পাশে ক্যান্সার হাসপাতাল তৈরি প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে। নগর হাসপাতাল ধানমন্ডিতে ৫০০ টাকায় ডায়ালাইসিস এর ব্যবস্থা করেছেন। এটা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ডায়ালাইসিস সেন্টার এবং ডা. জাফরুল্লাহ্ চৌধুরীর একটি যুগান্তকারী অধ্যায়।

তিনি বলেন, গত কয়েক বছর যাবত তিনি কিডনি রোগে ভুগছেন। এজন্য তাকে সপ্তাহে তিনবার ডায়ালাইসিস করতে হয়। এরই মধ্যে বাংলাদেশ ও বিশ্ববাসী করোনা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। ওনার মাথায় তখন হঠাৎ করে চিন্তা আসে তার বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক ও উন্নত বিশ্বের ন্যায় মানসম্মত ল্যাব আছে এবং বেশ কয়েকজন ডক্টরেট অধ্যাপক আছেন। তাদের সাথে পরামর্শ করেন। ড. বিজন কুমার শীল নামক একজন বিজ্ঞানীকে তিনি দুই বছর পূর্বে নিয়োগ দিয়েছিলেন এবং এই ড. বিজন কুমার শীল সার্স ভাইরাস কিট উদ্ভাবনে কাজ করেছেন। যেটা চীন ওনার নিকট থেকে কিনে নিয়েছে। ড. বিজন কুমার শীল আরও তিন গবেষক নিয়ে করোনাভাইরাস নির্ণয়ের জন্য কিট আবিষ্কারের কথা ডা. জাফরুল্লাহ্ চৌধুরীকে জানান। উনি সেই অনুযায়ী জাতির ক্রান্তিলগ্নে প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে মার্চ মাসে এটা ঘোষণা দেন।

তিনি আরও বলেন, প্রথমদিকে সরকারের সদিচ্ছার কোনো ঘাটতি ছিল না। যখনই আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে গিয়েছেন তখনই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে তা উদ্ধার পেয়েছে।

এখন করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য স্বল্প ব্যয়ে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রো বায়োলজি ল্যাবে কিট প্রস্তুত করে সেই কিট দিয়ে ডা. জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী ও তাঁর পরিবারের সবার পরীক্ষা করে করোনা পজিটিভ ফলাফল পেয়েছেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত এই কিটটি স্বীকৃতি পায়নি তাই সাধারণ মানুষ তার ফল ভোগ করতে পারছে না। এটা ওষুধ নয় যে খেলেই কেউ মারা যাবে। এটি রোগ নির্ণয়ের জন্য একটি কিট মাত্র।

দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণে কিটগুলো ব্যবহারে যথার্থ সার্থকতা লাভ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।