দুই এসপিসহ দেড়শ জনের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণে অস্বীকৃতি

প্রকাশিত: ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৯, ২০২০

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে শিপ্রা দেবনাথের করা ফৌজদারি অভিযোগ আমলে নেয় নি কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ। তাঁকে কক্সবাজারের রামু থানা অথবা বিশেষ ট্রাইব্যুনালে মামলা করার পরামর্শ দিয়েছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খায়রুজ্জামান। এমনটি জানিয়েছেন শিপ্রার আইনজীবী মাহবুবুল আলম টিপু।

সাতক্ষীরা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মোস্তাফিজুর রহমান ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) এসপি মিজানুর রহমান শেলীসহ অজ্ঞাত দেড়শ জনের বিরুদ্ধে মামলা করতে গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদর থানায় যান নিহত অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের সহযোগী ও রাজধানীর স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শিপ্রা দেবনাথ।

এর আগে ব্যক্তিগত ছবি ফেসবুকে পোস্টকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলে এক ভিডিওবার্তায় ঘোষণা দিয়েছিলেন শিপ্রা দেবনাথ। শিপ্রা ভিডিওতে বলেন, ‘আমি স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অষ্টম সেমিস্টারে অধ্যয়নরত এবং ফ্রিল্যান্সার মিডিয়া কর্মী। আজ একটি নৃশংস ঘটনা দেশবাসীর কাছে তুলে ধরতে চাই।’

শিপ্রা বলেন, ‘পুলিশ বাহিনী আমাদের গর্ব। অথচ ৩১ জুলাই রাতে এই বাহিনীর কুখ্যাত ওসি প্রদীপ ও তাঁর সহচর পরিদর্শক লিয়াকত মেজর সিনহাকে ঠাণ্ডা মাথায় গুলি করে হত্যা করেন।’

পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইস নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করে শিপ্রা বলেন, ‘মেজর সিনহা হত্যাকাণ্ডের পর রাতে এসে আমাদের কটেজ থেকে পুলিশ দুটি মনিটর, ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, ক্যামেরা, লেন্স, তিনটি হার্ডড্রাইভ এবং আমাদের ফোনসহ সব ডিভাইস নিয়ে যায়। জব্দ তালিকায় যার কোনোটির কোনো উল্লেখ নেই। আমি জানি না, এখন কীভাবে বা কার কাছে সেসব ফেরত চাইব।’

শিপ্রা আরো বলেন, ‘আমাদের পারসোনাল প্রোফাইল ও ডিভাইস থেকে বিভিন্ন ছবি চুরি করে কিছু বিকৃত মস্তিষ্কের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাই ফেসবুক ও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন। আমার নামে খোলা হয়েছে ভুয়া ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম আইডি। আমার ব্যক্তিজীবনকে যাঁরা অসহনীয় করে তুলেছেন বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও তৈরির মাধ্যমে, তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আমি তথ্যপ্রযুক্তি আইনে যথাযথ ব্যবস্থা নেব, কথা দিলাম।’

শিপ্রা প্রশ্ন রাখেন, ‘আমাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করে এভাবে আমার ব্যক্তিগত জীবনকে নিগৃহীত করার প্রচেষ্টা বাংলাদেশের আইনে কি শাস্তিযোগ্য অপরাধ নয়? আমি সমস্ত পুলিশ বাহিনীকে দায়ী করছি না। এখানে অনেক সৎ কর্মকর্তা রয়েছেন। কিন্তু এরূপ হত্যাকারী কর্মকর্তা এবং একজন নারীকে সামাজিক মাধ্যমে বিকৃতভাবে উপস্থাপনকারী অসুস্থ মানসিকতাসম্পন্ন কিছু পুলিশ সদস্যকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় না আনা হলে এই কলঙ্কের দায়ভার জাতি সম্পূর্ণ বাহিনীর ওপর ন্যস্ত করবে।’

শিপ্রা দেবনাথ আরো বলেন, ‘একজন মানুষ হত্যাকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য আমার টুঁটি চেপে ধরে আমাকে আত্মহননের দিকে ঠেলে দিলে লাখো তরুণ-তরুণী এর প্রতিশোধ নেওয়া থেকে নিশ্চয়ই বিরত থাকবে না।’

এ ভিডিওবার্তা ছাড়ার একদিনের মাথায় তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করতে সদর থানায় যান শ্রিপা। সেখানে মামলাটি না নিয়ে তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

শিপ্রার আইনজীবী মাহবুবুল আলম টিপু বলেন, ‘ওসি বলেছেন ঘটনাস্থল সদর থানা এলাকায় নয়। তাই মামলাটি এ থানায় নথিভুক্ত করা যাবে না। ইলেকট্রনিকস ডিভাইসগুলো রামু এলাকায় খোয়া গিয়ে থাকলে সে থানায় গিয়ে মামলা করা যাবে বা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি চাইলে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করতে পারেন।’

শিপ্রা ওসিকে জানান, পুলিশের মামলায় জামিন পাওয়ার পর থেকে তাঁর বসবাস সৈকত এলাকার জলতরঙ্গ রিসোর্টে। তা সদর থানার আওতায়। এ কারণে তিনি সদর থানায় মামলা করতে এসেছেন। এরপরও ওসি মামলাটি গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে সদর থানার ওসি মো. খায়রুজ্জামান ও পরিদর্শক মাসুম খানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। উভয়ের মুঠোফোনে রিং হলেও ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য জানা সম্ভব হয় নি।

সূত্র- গণমাধ্যম