‘দলের নাম ভাঙ্গিয়ে কাউকে ভাগ্য বদলাতে দেওয়া যাবে না’

প্রকাশিত: ৫:৫৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৩, ২০২০
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

দলের ভেতরে বর্ণচোরা সেজে যারা অর্থসম্পদ বৃদ্ধির চেষ্টা করে দলের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করবে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে নিজের সরকারি বাসভবনে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি। এসময় আওয়ামী লীগ এদেশের মাটি ও মানুষের সংগঠন, জনগণের বুকের গভীরে রয়েছে এর শেকড় উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন- দলে এসেই যারা দলের নাম ভাঙ্গিয়ে অনিয়মের আশ্রয় নেয় তাদের কাউকে ভাগ্য বদলাতে দেওয়া যাবে না। দলের দুঃসময়ের পরীক্ষিত কর্মীদের পেছনে রেখে, আওয়ামী লীগে আশ্রয়ী, লোভী, ষড়যন্ত্রকারীদের আর সুযোগ নেই। অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর, এ বিষয়ে শেখ হাসিনা সরকার স্ব-প্রণোদিত হয়ে দুর্নীতি উদঘাটন করে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে আসছে।

তিনি আরও বলেন- ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান থেকে শুরু করে ত্রাণ কার্যক্রম, স্বাস্থ্যখাতসহ যেখানেই অনিয়ম-দুর্নীতি সেখানেই কঠোর অবস্থানে সরকার। করোনার এই পরিস্থিতিতে জনগণকে বাঁচানোর লক্ষ্যে সর্বাত্বক কাজ করছে সরকার ও আওয়ামী লীগ। ইতিমধ্যে সকল রাজনৈতিক কর্মসূচি বাদ দিয়ে ক্ষেত্রবিশেষ সীমিত করে জনগণের দুর্দশা কমানো, সংক্রমণ রোধ এবং জীবিকার নিরাপত্তা বিধানকে রাজনীতি হিসেবে নিয়েছে বলে জানান সেতুমন্ত্রী।

ওবায়দুল কাদের আরও জানান- বিএনপি অসহায় মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে সমালোচনার নামে সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতাকাল উদযাপন করছে। তারা জনগণের দুর্দশা ও অসহায়ত্ব চোখে দেখে না। বিএনপি সার্কাসের হাতির মতো নেতিবাচকতার বৃত্তে ঘুরপাক খাওয়া আর চিরাচরিত মিথ্যাচারকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে নিয়েছে। জনগণ এখন আর তাদের মিথ্যাচারে বিভ্রান্ত হয়না, বিএনপির মরিচাধরা কৌশল আজ অকৌশলে রুপ নিয়ে বুমেরাং হচ্ছে। ক্ষমতায় থেকে যারা দুর্নীতি, সাম্প্রদায়িকতা আর অনিয়মকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছিলো এবং বঙ্গবন্ধুর খুনীদের আশ্রয়, প্রশ্রয় ও পুনর্বাসিত করেছিলো- তাদের মুখে অনিয়ম নিয়ে কথা বলা শোভা পায় না বলেও জানান ওবায়দুল কাদের।

মির্জা ফখরুলের কথায় মন্ত্রীদের পদত্যাগ দাবী প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন- আন্দোলন ও নির্বাচনে ব্যর্থতার জন্য বিএনপির টপ টু বটম পদত্যাগ করা উচিত। দেশের মানুষ এখন দোষারোপের রাজনীতি পছন্দ করে না, অথচ বিএনপি এমন মিথ্যাচার করে যে তার জবাব না দিয়েও পারা যায় না। এখন রাজনীতি হতে হবে মানুষকে বাঁচানো ও বৈশ্বিক সংকট করোনার সংক্রমণ রোধ।

এসময় সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী আসন্ন কোরবানির ঈদে পশুর হাট বসানোর ক্ষেত্রে ঢাকা মহানগরীর দুই সিটি করপোরেশন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের অনুরোধ জানিয়ে বলেন- দেশব্যাপী পশুর হাটের অনুমতি প্রদানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাস্তবতা ও করেনার সংক্রমণ রোধে প্রধান্য দিতে হবে এবং পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের স্লটার হাউসগুলোকে কাজে লাগাতে হবে।