তালেবানদের সক্ষমতা সম্পর্কে শিগগিরই জানতে পারবে ভারত

প্রকাশিত: ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৭, ২০২১

তালেবানদের সক্ষমতা সম্পর্কে শিগগিরই জানতে পারবে ভারত। তারা জানতে পারবে, তালেবানরাও মসৃণভাবে দেশ পরিচালনা করতে সক্ষম। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সংশয়ের জবাবে এ মন্তব্য করেছেন তালেবানের সুপরিচিত নেতা শাহাবুদ্দিন দিলওয়ার। উল্লেখ্য, তালেবানদের আফগানিস্তান দখল নিয়ে নরেন্দ্র মোদি একটি বিবৃতি দিয়েছিলেন। তাতে তিনি বলেছিলেন, সন্ত্রাসের ওপর ভিত্তি করে যে সাম্রাজ্য তার প্রাধান্য সাময়িক। কিন্তু এর অস্তিত্ব কখনো স্থায়ী হয় না। এর জবাবে ওই মন্তব্য করেছেন দিলওয়ার।

এ খবর দিয়েছে পাকিস্তানের অনলাইন ডন।

এতে বলা হয়, নরেন্দ্র মোদি ওই মন্তব্য টুইট করেছিলেন ২০শে আগস্ট। এর জবাবে রেডিও পাকিস্তানের কাবুল প্রতিনিধি বিলাল খান মেহসুদকে বৃহস্পতিবার একটি সাক্ষাৎকার দেন শাহাবুদ্দিন দিলওয়ার। এ সময় তিনি আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করতে সতর্ক করে দেন ভারতকে।

তিনি বলেন, পাকিস্তান হলো আফগানিস্তানের প্রতিবেশী এবং বন্ধুপ্রতীম দেশ। কমপক্ষে ৩০ লাখ আফগান শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়ার জন্য তিনি পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানান। পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে তালেবানরা সব দেশের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক চায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়ার পর দ্রুত গতিতে আফগানিস্তান দখল করে নেয় তালেবানরা। সর্বশেষ একটি গুলিও খরচ না করে গত ১৬ই আগস্ট তারা রাজধানী কাবুল দখল করে নেয়।

এদিন বিপুল পরিমাণ ধনসম্পদ নিয়ে গোপনে বিদেশে পালিয়ে যান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গণি। পক্ষান্তরে প্রেসিডেন্টের বাসভবন দখলে নিয়েছে তালেবানরা। ওই সময় তালেবানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাঈম আল জাজিরা টেলিভিশনকে বলেন, এই দিনটি আফগান জনগণ এবং মুজাহিদিনদের জন্য এক মহান দিন। তারা গত ২০ বছরের প্রচেষ্টা এবং আত্মত্যাগের ফল প্রত্যক্ষ করছে।

বর্তমানে সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি সরকার গঠনের জন্য কাজ করছে তালেবানরা। তাদের মুখপাত্ররা এ কথাই বার বার বিবৃতিতে বলেছেন। সোমবার পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রশিদ বলেছেন, আফগানিস্তানের তালেবানরা পাকিস্তান সরকারকে আবারও নিশ্চয়তা দিয়েছে।

তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, পাকিস্তানে নিষিদ্ধ তেহরিকে তালেবান পাকিস্তানকে (টিটিপি) পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অপারেশন পরিচালনা করতে অনুমোদন দেবে না আফগানিস্তান। টিটিপির কিছু সদস্য, যেমন মৌলভী ফকির মোহাম্মদের মতো সদস্যদের মুক্তি দেয়ার বিষয়ে তালেবানের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে পাকিস্তান সরকার। পাকিস্তানের অভিযোগ টিটিপিকে অর্থ সহায়তা দেয় ভারত ও তার গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এ বিষয়টি জানতো আশরাফ গণির সরকার।

ভারত তাদেরকে অর্থ দিতো আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস চালাতে। ওদিকে তালেবানরা আফগানিস্তান দখল করার পর পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী বলেছেন, টিটিপি বিশৃংখল অবস্থায় আছে। কারণ, তাদেরকে ভারত যে অর্থ সহায়তা দেয় তা স্থগিত হয়ে গেছে।