ঢাকাকে লকডাউন ঘোষণা চেয়ে রিটে আদেশ আসছে কাল

প্রকাশিত: ৭:৫৭ অপরাহ্ণ, জুন ১৪, ২০২০

করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে ঢাকা শহরকে লকডাউন ঘোষণা ও চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত হাই ফ্রো-নেজাল অক্সিজেন ক্যানোলা সংগ্রহের নির্দেশনা চেয়ে দাখিল করা রিটের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে। রোববার (১৪ জুন) বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের ভার্চ্যুয়াল আদালত শুনানি শেষে কাল সোমবার আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। পরে মনজিল মোরসেদ জানান, আদালত বলেছেন হাট-বাজারে লোক সমাগম দেখে তো মনে হয়না যে, মহামারী আছে। এসময় আদালত সকলকে মাঠে ময়দানে সচেতনা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করার অনুরোধ জানান।

তিনি আরও জানান, শুনানিতে বলেছি যে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোভিড-১৯ প্রতিরোধে বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং আমাদের দেশের সংক্রামক প্রতিরোধ আইন ২০১৮-তে এ ধরণের মহামারীর সময় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে যথেষ্ট ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আদালতের নির্দেশে একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করেছে এবং ১৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করেছেন। জাতীয় টেকনিক্যাল বিশেষজ্ঞ কমিটি বর্তমান করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা শহর লকডাউন ঘোষণার সুপারিশ করেছে। কিন্তু সে ব্যাপারে পদক্ষেপ না নেওয়ায় অনেক মানুষের মধ্যে ভাইরাস সংক্রমণ হতে পারে, এর পরিপ্রেক্ষিতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যেতে পারে।
বেঁচে থাকার অধিকার সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুসারে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত এবং আদালতকে উক্ত অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনে যেকোনো আদেশ নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদে দেওয়া হয়েছে। উক্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে ঢাকা শহর লকডাউন ঘোষণার জন্য আদেশের প্রার্থনা করেছি।

মনজিল মোরসেদ আরও জানান, সরকার পক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা বিরোধিতা করে বলেন, সরকার কাজ করছে এবং বুঝে প্রয়োজন অনুযায়ী এলাকাভিত্তিক লকডাউন করছে, তিনি এ বিষয় চীনের উদাহরণ দেন। তিনি আরও বলেন যে, এ পর্যায় রিট পিটিশন চলে না।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জনস্বার্থে অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্টে এ রিট দায়ের করেছেন। রিটে ক্যাবিনেট, স্বাস্থ্য, অর্থ ও প্রধানমন্ত্রীর সচিবলায়ের সচিব, ডিজি হেলথ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (হাসপাতাল), অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন), পুলিশ কমিশনার, ডিজি র‌্যাব ও ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রদের বিবাদী করা হয়।