মুন্সীগঞ্জের প্রজেক্ট হিলসায় অভিযান চালিয়েছে জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে রেস্টুরেন্টটির বাবুর্চি ও কর্মচারীদের টয়লেটের পর সাবান বা টিস্যু ব্যবহার না করার প্রমাণসহ বেশ কিছু অনিয়ম পেয়েছে তারা।

টয়লেটের পর সাবান বা টিস্যু নেন না প্রজেক্ট হিলসার বাবুর্চিরা!

প্রকাশিত: ৪:৩৭ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৮, ২০২১

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের বদৌলতে অল্পদিনেই পরিচিত পেয়েছে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটের অদূরে ইলিশ মাছের আদলে নির্মিত ‘প্রজেক্ট হিলসা’ দেশের অন্যতম বড় রেস্তোরাঁটি। স্থাপনা নকশার কারণে রেস্টুরেন্টটি আলোচনায় থাকলে সমালোচনা-অভিযোগও কমতি নেই। খাবারের মানে ক্রেতাদের অভিযোগ, সেইসঙ্গে বেশি সার্ভিস চার্জ নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে অসন্তোষ। এবার রেস্টুরেন্টটিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানেও উঠে এলো গুরুতর অনিয়মের চিত্র।

বুধবার (১৬ জুন) দুপুরে প্রজেক্ট হিলসায় অভিযান চালায় মুন্সীগঞ্জ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে রেস্টুরেন্টেটির বাবুর্চি ও কর্মচারীদের টয়লেটের পর সাবান বা টিস্যু ব্যবহার না করার প্রমাণসহ বেশ কিছু অনিয়ম দেখতে পায় বলে ভোক্তা অধিকার সূত্র জানিয়েছে।

মুন্সীগঞ্জের প্রজেক্ট হিলসায় অভিযান চালিয়েছে জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে রেস্টুরেন্টটির বাবুর্চি ও কর্মচারীদের টয়লেটের পর সাবান বা টিস্যু ব্যবহার না করার প্রমাণসহ বেশ কিছু অনিয়ম পেয়েছে তারা। 

অভিযানের বিষয়ে জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসিফ আল আজাদ বলেন, অভিযানে  রেস্তোরাঁটিতে অতিথিদের টয়লেটে সাবানের ব্যবস্থা থাকলেও বাবুর্চি ও স্টাফদের টয়লেটে কোনো সাবান বা লিকুইড সাবান পাওয়া যায়নি। টয়লেটের পর বাবুর্চিরা সাবান ব্যবহার করছিলেন না। এ ছাড়া সেখানে কোনো টিস্যুও পাওয়া যায়নি। টয়লেট ব্যবহারের পর তারা পানি দিয়ে হাত পরিষ্কার করেন। তারা দাবি করেন, লিকুইড সাবান ব্যবহার করছিলেন। রিফিল করতে নিয়ে গেছেন। শুধু কি কিচেনের সাবানই একসঙ্গে শেষ হয়ে গেছে? এর কোনো উত্তর দিতে পারেনি। শুধু পানি দিয়েই হাত পরিষ্কার করছিলেন।

প্রতিষ্ঠানটির টয়লেটে আলাদা স্যান্ডেল নেই উল্লেখ করে আসিফ আল আজাদ বলেন, সেখানে প্রায় ১০০ কর্মচারী রয়েছেন। তারা রান্নাঘরে ব্যবহারের স্যান্ডেল পরেই টয়লেটে যান। আবার সেই স্যান্ডেল রান্নাঘরে ব্যবহার করেন। তাদের টয়লেটের জন্য আলাদা কোনো স্যান্ডেল নেই। এটা খুবই অস্বাস্থ্যকর। সাধারণত মানুষ ঘরেও আলাদা আলাদা স্যান্ডেল ব্যবহার করে। কিন্তু এখানে চিত্রটি সম্পূর্ণই ভিন্ন।

আসিফ আল আজাদ জানান, কিচেন পরিষ্কার থাকলেও ফ্রিজে কাঁচা মাছ-মাংসের সঙ্গে রান্না করা খাবারও মজুদ রাখা হয়েছিল। যা ঠিক নয়। এ ছাড়া বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের  (বিএসটিআই) অনুমোদনহীন বিপুল পরিমাণের সস ও নুডলস পাওয়া গেছে। এসব পণ্যের ক্ষেত্রে অবশ্যই বিএসটিআইয়ের অনুমোদন লাগবে।

মুন্সীগঞ্জের প্রজেক্ট হিলসায় অভিযান চালিয়েছে জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে রেস্টুরেন্টটির বাবুর্চি ও কর্মচারীদের টয়লেটের পর সাবান বা টিস্যু ব্যবহার না করার প্রমাণসহ বেশ কিছু অনিয়ম পেয়েছে তারা।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক জানান, এক-দেড় হাজার মানুষের জন্য রান্না করার মতো খাবার মজুদ ছিল। অর্থাৎ এসব খাবারের মধ্যে বিএসটিআইয়ের অনুমোদনহীন সস, নুডলস ছিল। আলুবোখারা, কিসমিসের প্যাকিং সময় ও মেয়াদ উত্তীর্ণের কোন সময় ছিল না।

এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে তাদেরকে কোনো জরিমানা করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে

আসিফ আল আজাদ জানান, যেহেতু রেস্টুরেন্টটি চালু হয়েছে অল্প কিছু দিন হয়েছে, তাই আইনকানুন সম্পর্কে ভালোভাবে জানে না। তাদেরকে নিয়ম-কানুন জানানো হয়েছে। প্রথমবারের মতো তাদের সতর্ক করা হয়েছে এসব ত্রুটি সংশোধন করার জন্য। পরবর্তীতে নিয়ম অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্প্রতি মুন্সীগঞ্জের পদ্মা নদীর কাছে শিমুলিয়া ঘাটের অদূরে ইলিশ মাছের আদলে তৈরি নান্দনিক প্রজেক্ট হিলসা রেস্টুরেন্টটি চালু হয়। এরপরই থেকে প্রতিদিন দূর-দূরান্তের লোকজন আসতে শুরু করে রেস্টুরেন্টটিতে। বিশেষ করে ছুটির দিনে লোকজনদের হুমড়ি খেয়ে পড়ার ঢল দেখা গেছে। এরমধ্যে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে একের পর উঠে আসছে অনিয়মের চিত্র।