ট্রাম্পের হুমকি সত্ত্বেও বিক্ষোভ চলছে

প্রকাশিত: ৫:৪৪ অপরাহ্ণ, জুন ৩, ২০২০

অ্যামেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকিকে আমল দিলেন না বিক্ষোভকারীরা। মঙ্গলবার রাতেও অ্যামেরিকা জুড়ে বিক্ষোভ হলো।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেনা নামানোর হুমকি, রাস্তায় প্রচুর পুলিশ ও ন্যাশনাল গার্ডের জওয়ান, রাতে কার্ফু সত্ত্বেও অ্যামেরিকা জুড়ে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে। হোয়াইট হাউসের সামনেও দীর্ঘক্ষণ ধরে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। তবে গত কয়েকদিনের তুলনায় মঙ্গলবার রাতের বিক্ষোভের ফারাক হলো, বিক্ষোভকারীরা হিংসা ও লুঠতরাজ বন্ধ করার দিকে বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছিলেন। নিরাপত্তা বাহিনীর বাড়াবাড়িও কম হয়েছে।

বর্ণবিদ্বেষী পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর পর এই বিক্ষোভের ফলে ট্রাম্প আরও চাপে পড়েছেন। বিক্ষোভের মধ্যে তিনি যেভাবে চার্চে গিয়ে ফটো আপ করেছেন, তার প্রতিবাদে শুধু অ্যামেরিকা নয়, বিভিন্ন দেশে প্রতিবাদীরা সোচ্চার হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে কার্ফু অগ্রাহ্য করে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী হোয়াইট হাউসের সামনে জড়ো হয়েছিলেন। তাঁরা দীর্ঘক্ষণ প্রতিবাদ জানাতে থাকেন।

ডিডাব্লিউর প্রতিনিধি আলেকজান্দ্রা ফন নামেন ছিলেন হোয়াইট হাউসের সামনে। তিনি জানাচ্ছেন, ”রাতের কার্ফু শুরু হয়ে গিয়েছে। তা সত্ত্বেও প্রচুর বিক্ষোভকারী এখানে আছেন। তাঁরা গর্জন করে বলছেন, ‘আমরা কী চাই? শান্তি। কখন চাই? এখনই।’ বেশ কিছু বিক্ষোভকারীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তাঁরা বলছেন, ট্রাম্প আমাদের ভয় দেখাতে চাইছেন। উস্কানি দিচ্ছেন।”

এই বিক্ষোভে রাজনীতিকরাও যোগ দিচ্ছেন। ডেমোক্র্যাট পার্টির আইনজীবী অ্যান্ড্রু উইনস্টাইন জানিয়েছেন, সেনেটর এবং প্রেসিডেন্টের পদে প্রাক্তন প্রার্থী এলিজাবেথ ওয়ারেন বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন।

ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করেছেন স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি। তিনি বলেছেন, ”ট্রাম্পের উচিত আগের প্রেসিডেন্টের মতো এই ক্ষোভ দূর করার জন্য কাজ করা। তা না করে তিনি বিক্ষোভের আগুন আরও উসকে দিচ্ছেন।” ট্রাম্পের নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির সেনেটর মিটচ ম্যাকনেলও বলেছেন, ”আমি এই বিক্ষোভের কারণ বুঝতে পারি। এটা অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই যে, অ্যামেরিকায় এখনও বর্ণবিদ্বেষ কিছুটা রয়ে গিয়েছে।” এই বিক্ষোভ, সমালোচনা সত্ত্বেও ট্রাম্প তাঁর আগের মনোভাব থেকে সরে আসেননি।

অন্যদিকে জর্জ ফ্লয়েডের ছয় বছরের মেয়েকে নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে এসেছিলেন তাঁর মা রক্সি ওয়াশিংটন। তিনি বলেছেন, ”আমি চাই, সবাই জানুক ওই পুলিশ অফিসাররা কী ছিনিয়ে নিয়েছে। তাঁরা তো দিনের শেষে তাঁদের পরিবারের কাছে ফিরে যান। জর্জ পারে না। আমি আমার বাচ্চার জন্য এখানে এসেছি। জর্জের জন্য এখানে এসেছি। আমি চাই জর্জ ন্যায় পাক। যে যাই বলুক, আমি জানি, সে ভালো মানুষ ছিলো।’

মঙ্গলবার রাতে অ্যামেরিকা জুড়ে বিক্ষোভ হয়েছে। নিউ ইয়র্কে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে বলেছে, ”আমাদের সামনে হাঁটু মুড়ে বস।” পুলিশ অবশ্য তাদের জায়গাতেই দাঁড়িয়ে ছিলো। ওয়াশিংটন ও নিউ ইয়র্কে বিক্ষোভকারীরা সমানে গেয়েছেন, ‘উই শ্যাল ওভারকাম’। লস এঞ্জেলসের পুলিশ প্রধান বলেছেন, এখনও পর্যন্ত দুই হাজার ৭০০ বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বিক্ষোভ অন্য দেশেও ছড়াচ্ছে। বার্লিন ও লন্ডনে আগে থেকেই প্রতিবাদ চলছে। তার সঙ্গে যোগ দিয়েছে প্যারিস। সেখানে হাজার কয়েক বিক্ষোভকারী পথে নেমেছিলেন। তাঁদের হঠাতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। দুনিয়া জুড়ে একটাই রব উঠছে, অ্যামেরিকায় বর্ণবিদ্বেষ শেষ হোক। শাস্তি পাক বর্ণবিদ্বেষী পুলিশ, যাঁরা জর্জকে খুন করেছে।

DW/জিএইচ/এসজি(এপি, রয়টার্স, এএফপি)