টিকা গ্রামে যাচ্ছে ৭ আগস্ট থেকে

প্রকাশিত: ১২:৫০ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৭, ২০২১

করোনার টিকা দেওয়ায় গতি বাড়ছে আগামী ৭ আগস্ট থেকে। দিনে সাড়ে আট লাখ করে প্রতি সপ্তাহে ৬০ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। এ জন্য দেশে বিদ্যমান সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) কার্যকর করা হবে কভিড টিকার ক্ষেত্রেও।

গ্রাম পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্য অস্থায়ী টিকাদানকেন্দ্রগুলোকেও কাজে লাগানো হবে। স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মীরাও টিকাদান কার্যক্রমে অংশ নেবেন।

প্রয়োজনে অতি বয়স্ক এবং যাঁরা চলাফেরা করতে পারেন না, তাঁদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে নিবন্ধনপ্রক্রিয়া আরো সহজতর হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে এসব কেন্দ্রে হাজির হলেই পাওয়া যাবে টিকা। এরই মধ্যে এ জন্য মাঠ পর্যায়ে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সারা দেশে। পাশাপাশি কভিড টিকা ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় কর্মকর্তারাও বেরিয়ে পড়েছেন মাঠের প্রস্তুতি দেখতে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও মাঠ পর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে টিকা দেশে আসা এবং টিকা দেওয়ায় গতি বাড়াতে এসব পরিকল্পনা সাজানো হলেও এখন পর্যন্ত যাঁরা নিবন্ধন করেছেন, তাঁদের বড় একটি অংশ টিকা দেওয়ার দিনক্ষণ জানতে না পারায় তাঁদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, দু-তিন সপ্তাহ আগে নিবন্ধন করেও এখনো টিকার দিনক্ষণের এসএমএস পাননি। তবে নীতিনির্ধারকরা বলছেন, প্রবাসীদের অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে কিছু কেন্দ্রে অন্যদের টিকার তারিখ পেতে দেরি হচ্ছে। দ্রুত এ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।

তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, এ দফায় গত ৭ জুলাই থেকে দেশে কভিড টিকার প্রথম ডোজ নেওয়ার জন্য নিবন্ধন শুরু হওয়ার পর থেকে গতকাল সোমবার দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত নিবন্ধন করেছেন ৫১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৪৮ জন। এর মধ্যে গতকাল পর্যন্ত টিকা নিতে পেরেছেন ১৬ লাখ ৫২ হাজার ১০ জন বা ৩১.৮৬ শতাংশ। আর দেশে এ পর্যন্ত মোট (গতকাল বিকেল পর্যন্ত) নিবন্ধন হয়েছে এক কোটি ২৬ লাখ ১২ হাজার ৪৪৭ জনের, যাঁদের মধ্যে মোট টিকা পেয়েছেন (প্রথম ডোজ) ৭৭ লাখ ৭৭ হাজার ৪৩০ জন (৭০ শতাংশ)। প্রথম ডোজ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্য থেকে এ পর্যন্ত মোট দ্বিতীয় ডোজ সম্পন্ন হয়েছে ৪৩ লাখ ১০ হাজার ৪৪৩ জনের। এ ক্ষেত্রে পূর্বনির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার প্রথম ডোজ নেওয়া ১৫ লাখ ২১ হাজার ৯২৯ জন ওই টিকার দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষায় আছেন।

গতকাল এক দিনে টিকা নিয়েছেন প্রথম ডোজ হিসেবে দুই লাখ ১৭ হাজার ৫৮ জন ও দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন চার হাজার ৪৭৮ জন। সব মিলিয়ে গতকাল পর্যন্ত দেশে মোট এক কোটি ২০ লাখ ৮৭ হাজার ৮৭৩ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে কভিড টিকা ব্যবস্থাপনা কমিটির সমন্বয়কারী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা গতকাল বলেন, ‘আমরা প্রতি সপ্তাহে ৬০ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছি। লকডাউন শেষে হলেই আশা করছি আগামী ৭ আগস্ট থেকে ওই পরিকল্পনা অনুসারে বিশেষ ক্যাম্পেইন আকারে মাঠ পর্যায়ে টিকা দেওয়া শুরু হয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে যখন যে এলাকায় শিডিউল থাকবে সেই এলাকার ১৮ ঊর্ধ্ব সবাইকে টিকা দেওয়া শেষ করে অন্য এলাকায় যাওয়া হবে, যাতে সেখানকার কেউ টিকা ছাড়া না থাকে। এ ক্ষেত্রে ওই এলাকার সবাই টিকার আওতায় এসে যাবে। এ জন্য ওই এলাকায় আগে প্রচার-প্রচারণা চালানো হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে কেন্দ্রে এলেই টিকা দেওয়া হবে। টিকাদানকর্মীরা শিথিল পন্থায় নিবন্ধনের কাজটি সেরে নেবেন।’

এদিকে গত দু-তিন সপ্তাহ আগে টিকার জন্য নিবন্ধন করেও এখনো যাঁরা এসএমএস পাননি, তাঁদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও পড়েছে চাপের মুখে। নিবন্ধনকারীরা নানাভাবে তাদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। প্রতিদিন অনেকেই ভিড় করছেন বিভিন্ন হাসপাতালে।

এদিকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার প্রথম ডোজ নেওয়া যে ১৫ লাখ ২১ হাজার ৯২৯ জন দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষায় আছেন, তাঁদের জন্য কিছুটা হলেও সুখবর মিলছে। এই টিকার জোগান বিলম্বিত হওয়ায় সরকার এত দিন তা দিতে না পারলেও দুই দিন আগে জাপান থেকে দুই লাখ ৪৫ হাজার ২০০ ডোজ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেশে এসেছে; দু-এক দিনের মধ্যে যা দিয়ে আবারও দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

টিকা, জনবল ও অক্সিজেনের সংকট থাকছে না
গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠক থেকে বেরিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন দ্রুত সময়ের মধ্যে জেলা-উপজেলায় কভিডের টিকা চালু করার জন্য। এ ছাড়া বয়স্কদের অগ্রাধিকার দিতে বলেছেন। এখন পর্যন্ত ২১ কোটি টিকা পাওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। জনবলসংকট কাটাতে শিগগিরই চার হাজার ডাক্তার ও চার হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়া হবে। অক্সিজেনসংকট কাটাতে প্রতি সপ্তাহে আসবে ২০০ টন করে অক্সিজেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কাল-পরশু (আজ-কাল) চীন থেকে আরো ৩০ লাখ ডোজ সিনোফার্মের টিকা আসবে। এ ছাড়া আগস্ট মাসে কোভ্যাক্স সুবিধার আওতায় ফাইজার-বায়োএনটেকের আরো ৬০ লাখ ডোজ টিকা আসছে। এ ছাড়া পর্যায়ক্রমে অন্য কয়েকটি সোর্স থেকে টিকা আসবে। ফলে টিকার সংকট থাকছে না।’