জীবিত ব্যক্তিকে মৃত হিসেবে শনাক্ত, পরে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন

প্রকাশিত: ১১:২৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৯, ২০২০
ছবি: প্রতীকী

চেহারায় মিল থাকায় জীবিত ব্যক্তিকে মৃত হিসেবে শনাক্ত করে স্বজনরা, পরে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন।

গত মঙ্গলবার পিরোজপুর শহরের একটি ড্রেন থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন ৫৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পিরোজপুর সদর থানা পুলিশ। সে পিরোজপুরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াত। ধারণা করা হয় রাতের কোনো এক সময় সে ড্রেনে পড়ে মারা যায়।

মরদেহটি উদ্ধারের পর পিরোজপুর সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের পর এর ময়না তদন্তের প্রস্তুতি নেয় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক মোঃ ফারুক হোসেন। তবে, ময়না তদন্ত শুরু হওয়ার আগেই পিরোজপুর সদর উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের সোহেল নামে এক যুবক থানায় এসে মৃত ব্যক্তিকে তার চাচা লাল মিয়া হিসেবে শনাক্ত করে। এরপর মরদেহের ময়না তদন্ত শেষে সোহেল তার স্বজনদের নিয়ে মৃতদেহটি গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যায় দাফন করার জন্য। কবর খোঁড়ার পাশাপাশি রাত ৯টায় জানাজা দেয়ার জন্য মাইকিংও করা হয়। কিন্তু সন্ধ্যার পর বাড়িতে গিয়ে হাজির হন লাল মিয়া। সাথে সাথে সোহেল বিষয়টি সদর থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ পুনরায় মৃতহেদটি থানায় নিয়ে আসে। এরপর পিবিআই এর সহায়তায় হাতের ছাপ নিয়ে মৃতদেহটির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালায় পুলিশ। তবে তাকে কোনোভাবেই শনাক্ত করা যায় নি। ধারণা করা হচ্ছে মারা যাওয়া ওই ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র করা হয় নি।

তবে, লাল মিয়ার ভাইয়ের ছেলে সোহেল জানান, তার চাচা লাল মিয়াও একজন মানসিক ভারসাম্যহীন এবং বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ায়। তবে মারা যাওয়া ব্যক্তির সাথে বাহ্যিকভাবে লাল মিয়ার হুবহু মিল ছিল। তাই তাদের মৃতদেহটি শনাক্ত করতে ভুল হয়েছে। আর রাতে লাল মিয়া ফিরে না আসলে তারা কোনোভাবেই জানতে পারত না যে তিনি বেঁচে আছেন।

এরপর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে পুনরায় আজ বুধবার মৃতদেহটির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের জন্য পিরোজপুর সদর হাসপাতাল মর্গে নিয়ে যান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফারুক হোসেন। এরপর আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম এর মাধ্যমে অজ্ঞাত মৃতদেহটি পিরোজপুর পৌরসভার কবরস্থানে দাফন করা হয়। তবে মৃহদেহটির পরিচয় পাওয়ার জন্য সব ধরণের ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।