জীবনকে উপভোগ করুন

প্রকাশিত: ৭:২৫ অপরাহ্ণ, জুন ১, ২০২০

ডাঃ মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান আল আরিফী

অনুবাদঃ সাব্বির আহমাদ

কিছুদন আগে আমার ফোনে একটি মেসেজ আসলো। তাতে লিখা- জনাব, ইসলামে আত্মহত্যার বিধান কী? প্রশ্নটি করেছে এক তরুণ। আমি সরাসরি তার সাথে যোগাযোগ করলাম।

বললামঃ তোমার প্রশ্নটি আমি বুঝতে পারি নি।

– না বুঝার কী আছে , ইসলামে আত্মহত্যার বিধান কী ?

– মুস্তাহাব।

– কী বললেন , মুস্তাহাব?

-আজ্ঞে হ্যাঁ, মুস্তাহাব।

-আমরা তোমাকে আত্মহত্যা করতে সহায়তা করি,- এটাই কি তুমি চাচ্ছো?

-আচ্ছা, বলো তো- কী কারণে তুমি আত্মহত্যা করতে চাচ্ছো?

-আমি বেকার। সবাই আমাকে অপছন্দ করে । আমি ব্যর্থ । আমার জীবনে সফলতা বলতে কিছু  নেই।

সে তার ব্যর্থতার গল্প শুনালো। জীবন যুদ্ধে সে হেরে গেছে। ভাগ্য তার সহায় হয় নি। একজন মানুষ নিজেকে অবহেলা করার এ হলো চিত্র! সফলতার শীর্ষে থাকা ব্যক্তিকে দেখে সে আফসোস করে। কিন্তু নিজে কখনো সে পর্যায়ে পৌঁছানোর চেষ্টাই করে নি!

আপনি জানেন কি- আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেললে, পারিপার্শ্বিক সীমাবদ্ধতার কাছে আত্মসমর্পণ করলে জীবনে সফলতা অর্জন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে ? মনোবল হারিয়ে যায়-“আমার দ্বারা এই কাজ সম্ভব না, এই পরিস্থিতিতে কিভাবে কী করবো” ? – এ রকম নানাবিদ চিন্তা মাথায় উঁকি দেয়।  জীবনের কঠিন বাস্তবতার কাছে সে তখন হেরে যায়।

বিশিষ্ট এক আলেমের সাথে আমি এক মজলিসে ছিলাম । সবাই খুবই বিনয়ের সাথে বসে ছিলো। ঐ আলেম পাশে বসা সবার সাথে কথা বলছিলেন । সেখানে অতি বৃদ্ধ একজন লোক ছিলেন। অতি বৃদ্ধ হওয়ার কারণে সকলেই তাকে খুব সম্মান করছিলো। কথার ফাঁকে আমি আব্দুল আযীয বিন বাযের উদ্ধৃতি দিয়ে একটি মাসআলার কথা বলছিলাম। কথা শেষ হবার পর দেখলাম ঐ বৃদ্ধ গর্ব করে বলছেঃ “চল্লিশ বছর আগে আমি আর বিন বায একসাথে পড়াশুনা করেছি”।

লক্ষ করলাম, এতে তিনি খুব গর্বিত ও আনন্দিত। বিশ্ববিখ্যাত এক আলেমের সাথে পড়ালেখা করার সুযোগ হয়েছে – এটাই তাঁর কাছে অনেক বড় ব্যপার।

কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো, আচ্ছা, আপনি কেনো উনার মতো হতে পারলেন না। সফল হওয়ার পথ ও পদ্ধতি আপনিও জানতেন। ওনি জগদ্বিখ্যাত হলেন। সারা দুনিয়া তাঁকে চিনে। তাঁর জ্ঞানের সুবাসে সবাই সুভাসিত হলো। তাঁর প্রজ্ঞায় সবাই আলোকিত হলো। আপনিও তো তার মতো বিখ্যাত হতে পারতেন। পারলেন না কেন? তিনি মারা গেলে সারা দুনিয়া তাঁর মৃত্যুতে কাঁদবে। অথচ আপনি চলে গেলে আত্নীয়-স্বজন ছাড়া কেউ হয়তো জানবেও না আপনার মৃত্যু সংবাদটা। –এটাই হলো আপনার আর তাঁর মধ্যে পার্থক্য।

আমরা প্রায়ই বলি, আমি অমুক বিখ্যাত ব্যক্তিকে চিনি। তাঁর সাথে আমার ভালো পরিচয় আছে। এটা নিয়ে আমরা রীতিমত গর্ব করি। অথচ এটা কোন গর্বের বিষয় না। আমি যদি তাঁর মতো বড় হতে পারি তাহলে সেটা হবে গর্বের বিষয়।

আত্মপ্রত্যয়ী হোন। নিজের মধ্যে ভালো কিছু নিয়ে আসার চেষ্টা করুন । একজন সফল মানুষ হতে চাইলে চ্যালেঞ্জ মুকাবেলা করার মতো হিম্মত লালন করুন। সর্বদা হাস্যোজ্জ্বল থাকার চেষ্টা করুন। প্রতিজ্ঞা করুন, “আমি আমার সকল হতাশা দূর করবো কর্ম ব্যস্ততা দিয়ে , মূর্খতাকে জয় করবো জ্ঞান দিয়া, রাগ সংবরণ করবো বুদ্ধিমত্তা দিয়ে, নিজেকে আলোকিত করবো ঈমান দিয়ে। আর বিশ্বটাকে জয় করবো ভালোবাসা দিয়ে”।

দেখুন, আমাদের জীবনটা খুবই সংক্ষিপ্ত। হতাশা, অবশাদ, দুশ্চিন্তা জীবনে থাকবেই। কিন্তু এগুলোকে প্রশ্রয় দেয়া যাবে না, এগুলো নিয়ে পড়ে থাকা যাবে না। এগুলোকে বাদ দিয়ে, এক পাশে সরিয়ে রেখে গা ঝেড়ে উঠে দাঁড়ান। জীবনটাকে উপভোগ করুন। আমরা আছি আপনার সাথে। শুনবো আপনার গল্প, শুনাবো আমাদের গল্প । শুনাবো আরো অনেক সফল মানুষের সফলতার গল্প। আমাদের সাথেই থাকুন।