জাবি’তে ল্যাব প্রস্তুত, সংক্রমণের ভয়ে শুরু হচ্ছে না করোনা পরীক্ষা

প্রকাশিত: ১২:৩৭ অপরাহ্ণ, জুন ২৬, ২০২০

দুটি আরটি-পিসিআর মেশিন থাকার পরও করোনা সংকটে কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে একটি ল্যাব পুরোপুরি প্রস্তুত থাকার পরও কয়েকজন শিক্ষকের আপত্তির কারণে তা চালু করা যায় নি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রে রয়েছে অত্যাধুনিক আরটি-পিসিআর মেশিন। কিন্তু বায়োসেফটি কেবিনেট, লোকবল আর আলাদা রুমের অভাবে তা দিয়ে করোনা শনাক্তের পরীক্ষা করা যাচ্ছে না।

কিন্তু প্রাণ রসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের ল্যাবটি করোনা শনাক্তের পরীক্ষার জন্য পুরোপুরি তৈরি রয়েছে। স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কাজ করতেও আগ্রহী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সমন্বয় করা গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ল্যাবে প্রতিদিন অন্তত চারশো করোনার নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগ অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ বলেন, ‘আধুনিক যন্ত্রপাতি সেটা আছে, প্রয়োজনীয় যে জনবল সেটাও আছে। আমার বিভাগে পরীক্ষা এককভাবে করা সম্ভব। আমার বিভাগে গ্র্যাজুয়েট বায়োকেমিস্ট ও মলিক্যুলার বায়োলিজিস্টদের ভলান্টিয়ার হিসেবে নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে আমরা দেশের জন্য কাজ করতে চেয়েছিলাম। আমরা এখনও প্রস্তুত।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. এ এ মামুন বলেন, ‘শিক্ষকরা এখানে সপরিবারে বাস করেন। তারা যে আক্রান্ত হবেন না তার গ্যারান্টি চাইতে পারেন। এখানে টেস্ট করি নি তাই বলে ক্যাম্পাসে যে একজনেরও হয় নি তা না। ক্যাম্পাসে ৭-৮ জনের করোনা হয়েছে। কিন্তু আমরা যদি আগে থেকেই টেস্ট করতাম তাহলে তারা বলতো এই ৭-৮ জনের হতো না, যদি না ওইখানে আমাদের টেস্ট না করা হতো। খালি প্রতিবাদটাই বেশি করতে চায় মানুষ।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ল্যাব থেকে ভাইরাস ছড়াবে এমন আশংঙ্কা ভিত্তিহীন। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টারের পরিচালক ডা. আবুল খায়ের মোহাম্মদ শামসুজ্জামান বলেন, ‘সেরকম কোনো সম্ভাবনা আসলে নাই। জৈব যে সুরক্ষা, জৈব যে নিরাপত্তা সেটা নিশ্চিত করেই কিন্তু পিসিআর ল্যাবে টেস্ট করানো হয়।’

অবশ্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত করেও সেখানে করোনার সংক্রমণ ঠেকানো যায় নি। এ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের অন্তত ৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আর মারা গেছেন ১ জন।