ছুটির দিনেও ঢাবিতে ক্লাসে উপস্থিত উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত: ৩:২৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০২১
শিক্ষকসহ ক্লাসে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের একাংশ।

মহামারি করোনা আতঙ্ক কাটিয়ে দীর্ঘ দেড় বছর পর রোববার (১৭ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) সশরীরে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এতদিন অনলাইনে ক্লাস চললেও রোববার থেকে সশরীরে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত হয়ে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

 

এরই ধারাবাহিকতায় সাপ্তাহিক ছুটির দিনে শনিবার (২৩ অক্টোবর) শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে রিকভারি ক্লাস নিতে দেখা যায় ঢাবির উর্দু বিভা‌গের ২য় ব‌র্ষে। ক্লাসটি কলাভব‌নের ৩০৫৫নং ক‌ক্ষে দুপুর ১টা থে‌কে সোয়া ২টা পর্যন্ত চলে।

 

ক্লাসে অধ্যায়নরত ঢাবির উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

 

শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ক্লাসের বাইরে থাকার কারণে তাদের যে পড়াশোনার ক্ষতি হয়েছে তা রিকভারি করার জন্য ক্লাসে উপস্থিত হতে পেরে তারা অনেক আনন্দিত।

তারা আরো বলেন, স্যারদের আন্তরিকতার কারণেই তারা ছুটির দিনেও ক্লাসে উপস্থিত হতে পারছেন। তারা আরো জানান, ছুটির দিনেও যদি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহন নিয়মতান্ত্রিক রুটে চলাচল করে, তবে ক্লাসে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ আরো সহজ হবে।

 

উল্লেখ্য, এর আগে অনার্স চতুর্থ বর্ষ ও মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের জন্য গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার এবং ৫ অক্টোবর হল খুলে দেওয়া হয়। এরপর ১০ অক্টোবর সব বর্ষের জন্য হল খুলে দেওয়া হয়।

 

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, সেশনজট নিরসনের জন্য, লস রিকভারি প্ল্যান সামনে রেখে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে প্রশাসন। লস রিকোভারি প্ল্যানের আওতায় সেমিস্টার পদ্ধতির ক্ষেত্রে পরীক্ষাসহ সেমিস্টারকাল ৬ মাসের পরিবর্তে ৪ মাস এবং বার্ষিক কোর্স পদ্ধতির ক্ষেত্রে ১২ মাসের পরিবর্তে ৮ মাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

ঢাবি ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান গত রোববার (১৭ অক্টোবর) সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘ক্লাস ও পরীক্ষাগুলো পরিচালনার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যলায় কর্তৃক প্রণীত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসেডিওরস পালনের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করা হবে। যেসব বিভাগ, ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেশি ওই বিভাগগুলোতে দুইধাপে ক্লাস নেওয়া হবে।’

 

তিনি আরও বলেন, ঘাটতি পূরণে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। সে অনুযায়ী আমরা কাজ করছি। কারণ, আমরা চাই শিক্ষার্থীদের যে সময়টুকু নষ্ট হয়েছে, সে সময়টুকু যেন আমরা পুনরুদ্ধার করতে পারি। কম সময়ে অধিক কাজ করে, শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, পরীক্ষা গ্রহণ প্রভৃতি ক্ষেত্রে সময়সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

কোভিড-১৯ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে অন্তত এক ডোজ টিকা নেওয়ার শর্তে ও মানসম্মত পরিচালনা পদ্ধতি সামনে রেখে ক্লাস পরিচালিত হবে বলে জানা গেছে।