চামড়ার বাজার: হতাশা ও নৈরাজ্যের অন্য নাম

প্রকাশিত: ৮:১৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৭, ২০২০

 

বাংলাদেশের কাঁচা চামড়া শিল্পের সবচেয়ে বড় যোগান আসে কোরবানীর পশু থেকে। ধর্মপ্রাণ মানুষ পশু কোরবানী করে এর চামড়া বিক্রির প্রাপ্ত অর্থ দরিদ্র, অভাবী, কওমী মাদরাসা ও এতিমখানায় দান করে দেয়। যুগ যুগ ধরেই এই চর্চা চলে আসছে।

 

গত কয়েক বছর ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে- কোরবানীর চামড়ার দাম আশংকাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। গত বছরের বিপর্যয়ের কারণে সরকার এবার কোরবানীর চামড়ার দাম আগে থেকেই ঠিক করে দিয়েছে। যদিও সরকারের ঠিক করে দেয়া দাম গতবারের চেয়ে ক্ষেত্র বিশেষে ২০% থেকে ২৯% পর্যন্ত কমানো হয়েছে। তারপরও এ বছরের বিপর্যয় গত বছরকে ছাড়িয়ে গেছে।

 

সরকার নির্ধারিত দামে ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৩৫ থেকে ৪০ টাকা ধরা হয়েছে। আর ঢাকার বাইরে ধরা হয়েছে প্রতি বর্গফুট ২৮ থেকে ৩২ টাকা। এ ছাড়া সারা দেশে খাসির চামড়া গত বছরের প্রতি বর্গফুট ১৮ থেকে ২০ টাকা থেকে কমিয়ে ১৩ থেকে ১৫ টাকা করা হয় । সরকারের নির্ধারণ করে দেয়া এ দাম শুধু কাগজ কলমেই সীমাবদ্ধ। বাস্তব পরিস্থিতি ভয়াবহ। দেড় লাখ টাকার গরুর চামড়া তিন থেকে চারশ টাকায় বিক্রি হয়েছে। খাসির চামড়া দুই থেকে পাঁচ টাকায়। বর্তমান বাজারে একটি দেয়াশলাইয়ের দাম দুই টাকা। আবার একটি খাসির চামড়ার দামও দুই টাকা। কী আশ্চর্য! কী অনাচার!

 

কোন কোন এলাকায় স্তূপাকারে চামড়া পড়ে ছিলো। ক্রেতা নেই অথবা ক্রেতা থাকলেও যে দাম বলা হচ্ছে সে দামে চামড়া বিক্রি করার চেয়ে না করাই ভালো। সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে- হাজার হাজার চামড়া নদীতে ফেলে দেয়া হচ্ছে, মাটিতে পুঁতে ফেলা হচ্ছে। আসলে চামড়া মাটিতে পোঁতা হচ্ছে না। পোঁতা হচ্ছে অভাবী, দরিদ্র মানুষের মুখের হাসি।

 

কয়েক বছর আগেও চামড়ার বাজারে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা হতো। আর এখন অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট এবং সংঘবদ্ধ অপরাধীদের কারণে এই শিল্প বিপর্যস্ত। সরকার দাম নির্ধারণ করেই তার দায়িত্ব শেষ করেছে। কিন্তু বাজারে এই দামে চামড়া বিক্রি হচ্ছে কিনা সে ব্যাপারে কোন মনিটরিঙের ব্যবস্থা রাখে নি। ঈদের দু’দিন আগে চামড়া রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হলো। রপ্তানির সার্বিক প্রস্তুতির জন্য দু’দিন সময় কি যথেষ্ট? অনুমতি যেহেতু দেওয়া হবেই তাহলে আরো আগেই কেনো দেওয়া হলো না?

 

কিছু দিন পরপরই একেকটা সিন্ডিকেটের কথা শোনা যায়। চাল সিন্ডিকেট, পেঁয়াজ সিন্ডিকেট, চামড়া সিন্ডিকেটসহ আরও অনেক সিন্ডিকেট। আর এসব সিন্ডিকেটের ভুক্তভোগী হলো সাধারণ মানুষ। এসব সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কখনোই সরকারের তরফ থেকে জোরালো কোন ভূমিকা চোখে পড়ে নি। এসব সংঘবদ্ধ অপরাধীদের সামনে সরকারকে এক রকম অসহায়ই মনে হয়েছে। সরকারের কি আসলেই কিছু করার নেই?

 

সাধারণ মানুষের পক্ষে এসব সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সরকারের জোরালো ভূমিকা কামনা করছি। আশা করছি- সরকার কঠোর হাতে এসব অপরাধীদের দমন করবে, আবারও ঘুরে দাঁড়াবে চামড়ার বাজার, অসহায়, দরিদ্র মানুষ তাদের ন্যায্য হিস্যা ফিরে পাবে।