‘গ্রামে অবস্থান করা শ্রমিকদের চাকরি হারানোর শঙ্কা নেই’

প্রকাশিত: ৪:৩৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩১, ২০২১

শিল্প এলাকায় উপস্থিত শ্রমিকদের দিয়েই কাল-কারখানা চালু করতে চান মালিকরা। এক্ষেত্রে গ্রামে অবস্থান করা শ্রমিকদের চাকরি হারানোর কোনো শঙ্কা নেই বলেও আশ্বস্ত করেছেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার অ্যান্ড এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)।

ঈদুল আজহার একদিন পর থেকে চলছে টানা দুই সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধ। আগেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকরের সময় চলবে না সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিল্প কারখানা। কিন্তু পোশাক শিল্পের মালিকদের দাবির মুখে হুট করে রোববার (১ আগস্ট) থেকে কারখানা চালু করার প্রজ্ঞাপন দেওয়া হয়।

পোশাক শিল্প মালিকরা বলছেন, কারখানা চালু করায় তাদের ক্ষতি কিছুটা কমবে।

অন্যদিকে গ্রাম থেকে কর্মস্থলে ফিরতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন শ্রমিকরা। গণপরিবহন বন্ধ থাকালেও চাকরি হারানোর শঙ্কায় পায়ে হেঁটেই কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন তারা।

বিকেএমইএ সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘একটা লাইনে যদি আমার ৩০টা মেশিন থাকে, ৩০ জন ওয়ার্কার আমার লাগে। এই ৩০ জনের মধ্যে যদি একজনও অনুপস্থিত থাকে তাহলে কাজের ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়ে যায়। এরকম হলে উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব না। ‘ফলে এই জায়গাটা একটু কঠিন হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে আমরা যাদেরকে পাব তাদেরকে নিয়ে একটা সমন্বয় করার চেষ্টা করব। কিন্তু তারপরও এটা অনেকটা চ্যালেঞ্জিং হয়ে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে গ্রামে অবস্থান করা কর্মীদের চাকরি হারানোর শঙ্কা নাই। তারা লকডাউন পরবর্তীতে এসে কাজে যোগদান করতে পারবে।’

শ্রমিক নেতারা বলছেন, অনেক কারখানা ১ আগস্ট কাজে যোগ দিতে ঢাকার বাইরে থাকা শ্রমিকদের টেলিফোন করেছেন তাই তাড়াহুড়ো করে শ্রমিকরা ঢাকায় ফিরছেন। পরিবহন চালু না করে হুট করে কারখানা খোলার ঘোষণায় শ্রমিকদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

অর্থনীতিবিদ ড. ইউসুফ বলেন, ‘অর্থনীতির স্বার্থে কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল করা হলে ঝুঁকি এড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদী চিন্তা করে আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। অনেক দেশ বেশিরভাগ মানুষকে টিকার আওতায় নিয়ে এসেছেন। তাদের অর্থনীতির গতি ফিরে এসেছে। আমরা তো তার বাইরে না। আমাদেরকেও সেরকম পরিকল্পনা নিতে হবে।’

রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন জানিয়েছে, শ্রমিকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করোনার টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।