গ্রামীণ উন্নয়নকে প্রাধান্য দিয়ে ‘একনেকে’ ১০টি প্রকল্প অনুমোদন

প্রকাশিত: ৫:৪৮ পূর্বাহ্ণ, জুন ২২, ২০২০

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) নয় হাজার ৪৬০ কোটি টাকার ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। যার মধ্যে স্থানীয় এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ছয় হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা ব্যয় করতে পারবেন সংসদ সদস্যরা।

একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল রোববার পরিকল্পনা কমিশনে এনইসি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বিদায়ী ২০১৯-২০ অর্থবছরের ২৪তম একনেক সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এতে অংশগ্রহণ করেন।

একনেক সভা শেষে এক ভার্চুয়াল প্রেস ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আজকের একনেক সভায় নয় হাজার ৪৬০ কোটি নয় লাখ টাকার ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আনন্দের ব্যাপর হলো পুরোপুরি সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে এ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।

১০টি প্রকল্পের মধ্যে ছয়টি নতুন এবং চারটি সংশোধিত।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ‘অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-৩‘ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ এলাকার রাস্তা, সেতু ও কালভার্টের মতো অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য গ্রামাঞ্চল থেকে নির্বাচিত প্রত্যেক সংসদ সদস্যকে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে। তবে শহরাঞ্চলের সংসদ সদস্যরা এর আওতাভুক্ত হবেন না।

এম এ মান্নান বলেন, ‘প্রকল্পটি ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে। আমি মনে করি, এটি মানুষের কল্যাণে খুব কাজে আসবে।’

একনেক সভায় অনুমোদিত অন্য পাঁচটি নতুন প্রকল্প হলো- ৯৯৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে মনু নদীর ভাঙন থেকে মৌলভীবাজার জেলার সদর, রাজনগর ও কুলাউড়া উপজেলা রক্ষা প্রকল্প, ৫৫৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে হাওর অঞ্চলে টেকসই পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও হাইজিন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প, ৭৪ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের ১০০টি মিটার গেজ যাত্রীবাহী ক্যারেজ পুনর্বাসন (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্প, ৬১২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে টেকেরহাট-গোপালগঞ্জ (হরিদাসপুর)-মোল্লাহাট (ঘোনাপাড়া) আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প এবং ২১০ কোটি টাকা ব্যয়ে জামালপুর জেলা কারাগার পুনর্নির্মাণ প্রকল্প।

সংশোধিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে অতিরিক্ত ২৫৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা (মোট ৬৯২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা) ব্যয়ে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (চট্টগ্রাম জোন) (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প, অতিরিক্ত ১১৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা (মোট ৪০৯ কোটি টাকা) ব্যয়ে জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্প, অতিরিক্ত ১৫৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা (মোট ৬৯১ কোটি ৮০ লাখ টাকা) ব্যয়ে বৃহত্তর পটুয়াখালী জেলার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলা) (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্প এবং বিএএফও বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স নির্মাণ, যশোর (তৃতীয় সংশোধিত) প্রকল্পটি ব্যয় বৃদ্ধি ব্যতিরেকে মেয়াদ বৃদ্ধির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

একনেক সভায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং সংশ্লিষ্ট অন্যরা পরিকল্পনা কমিশনে এনইসি মিলনায়তন থেকে অংশ নেন।