গুমের মতো অমানবিক ঘটনার হিড়িক পড়ে গেছে: রিজভী

প্রকাশিত: ৪:৫০ অপরাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০২০

করোনাকালে সরকারি ব্যর্থতাকে আড়াল করতেই সরকার দেশব্যাপী বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার ও কারান্তরীণ করছে বলে অভিযোগ করেছেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রিজভী বলেন- ‘জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আকরামুল হাসান মিন্টুকে গতকাল নরসিংদী জেলা শহরের নিজ বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করার ঘটনায় আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এছাড়া গুমের মতো অমানবিক ঘটনারও যেনো হিড়িক পড়ে গেছে।’

আজ শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক ভিডিও কনফারেন্সে রিজভী এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন- বৈশ্বিক করোনা মহামারী শুরুর পর থেকে বর্তমান সরকার ক্রমাগত ব্যর্থতা প্রদর্শন করে আসছে। একের পর এক এমন হৃদয়বিদারক ঘটনার মধ্যে এখন আবার করোনা টেস্ট নিয়ে ভুয়া সার্টিফিকেট ও জালিয়াতির জন্য বিদেশের গণমাধ্যমে নেতিবাচক খবরের শিরোনাম হচ্ছে বাংলাদেশ। দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমের খবরে আরও জানা গেছে- ইতালি, চীন, জাপান, ভিয়েতনাম, কাতার, আরব আমিরাতসহ অনেকগুলো দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে বিমান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। ইতালিতে পৌঁছার পর ১৫২ বাংলাদেশিকে দেশটিতে ঢুকতে না দিয়ে এয়ারপোর্ট থেকে ফেরত দেওয়া প্রমাণ করে, বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন সরকার দেশের জনগণের স্বার্থের প্রতি কতটা উদাসীন। সরকারের দৃষ্টি শুধুই যেন প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের প্রতি, প্রবাসীদের স্বার্থের প্রতি নয়।

বিএনপির এই নেতা বলেন- ‘গত ২২ মে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান করোনা টেস্টের গুরুত্ব সম্পর্কে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্পষ্ট করেই বলেছিলেন- করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কম দেখিয়ে নিজেদের কাগুজে সাফল্য দেখানোর চেয়ে বেশি জরুরি করোনাভাইরাস টেস্ট নিয়ে দেশে-বিদেশে বাংলাদেশের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন। কারণ, গ্লোবাল ভিলেজের এ সময়ে করোনাভাইরাস টেস্টের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক বিশ্বে বাংলাদেশ বিশ্বাসযোগ্যতা হারালে ভবিষ্যতে নাগরিকদের অত্যন্ত চড়া মূল্য দিতে হতে পারে। নাগরিকদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দেশে যেমন ভয়ংকর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, অদূর ভবিষ্যতে আমাদের নাগরিকদের বিদেশের শ্রমবাজারে থাকা না-থাকার বিষয়টিও বেশ ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।’

রিজভী বলেন- করোনাভাইরাস ‘ট্রেস-টেস্ট এবং ট্রিটমেন্ট’ নিয়ে সরকার কী করছে, কী ধরণের পদক্ষেপ নিচ্ছে, এগুলো জনগণকে জানাতে হবে। এমনকি করোনা মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে প্রয়োজনে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করার জন্যও সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছিলো। সরকার সেই দাবি কানে নেয় নি; বরং এখন খবর বেরোচ্ছে- স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় করোনা মোকাবিলায় ‘জেকেজি হেলথ কেয়ার’ এবং ‘রিজেন্ট হাসপাতাল’ নামে কিছু ভুয়া প্রতিষ্ঠানকে ‘করোনা টেস্ট ও ট্রিটমেন্টের’ অনুমোদন দিয়েছে। তাদের একমাত্র যোগ্যতা ছিলো- এসব ভুয়া প্রতিষ্ঠানের কর্ণধাররা ক্ষমতাসীন দলের নেতা কিংবা ঘনিষ্ঠ। অনুমোদন পেয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতিবাজ টাকার বিনিময়ে হাজার হাজার মানুষের নমুনা পরীক্ষা না করেই ‘করোনামুক্ত সার্টিফিকেট’ ইস্যু করত। এদের সার্টিফিকেট নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গিয়ে আটক কিংবা ফেরত আসতে শুরু করায় এখন সরকারের টনক নড়েছে।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন- ‘কখনো হলমার্ক কেলেঙ্কারি, কখনো রিজার্ভ ফান্ড লুট, কখনো ক্যাসিনো কেলেঙ্কারি আর এখন করোনা পরীক্ষা এবং চিকিৎসা নিয়ে কেলেঙ্কারি চলছে। প্রতিটি কেলেঙ্কারির হোতা সরকারি দলের পদপদবিধারী নেতা কিংবা সরকারের বিশেষ আনুকূল্যপ্রাপ্ত দুর্নীতিবাজরা। বাংলাদেশে ভোট ডাকাত, ব্যাংক ডাকাত, দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, করোনার ভুয়া প্রত্যয়নপত্রবাজে এখন দেশ ভরে গেছে। দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার থাকলে করোনা কেলেঙ্কারি ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতায় বর্তমান সরকার প্রধানের উচিত ছিল ন্যূনতম পক্ষে জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া। সেটি না করে আমরা দেখলাম প্রধানমন্ত্রীর মুখে ভিন্ন সুর। গতকাল তিনি বলেছেন, তারা চোর ধরছেন অথচ তাদেরই চোর বলা হচ্ছে।’

রুহুল কবির রিজভী বলেন- বছরের পর বছর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার, বিরোধী দল ও মতের মানুষকে গুম-খুন-অপহরণ আর নির্মম নির্যাতন-নিপীড়নের মাধ্যমে নিজেদের অপশাসনকে দীর্ঘায়িত করাকেই নিজেদের সাফল্য হিসেবে প্রচার করছিলো। কিন্তু চলমান করোনা সংকট প্রমাণ করেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে গুম-খুন-অপহরণ করানো ছাড়া এই সরকারের পক্ষে ভালো কিছু করার দৃষ্টান্ত নেই।