গরিবদের জন্য ‘ভ্যাকসিনের’ ব্যবস্থা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

প্রকাশিত: ১০:১৬ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০২০

করোনার ভ্যাকসিন এখোনো আবিষ্কার হয়নি। তবে সম্ভাব্য কিছু এলেই ধনী রাষ্ট্রগুলো সব মজুদ করে পিছিয়ে পড়া রাষ্ট্রগুলোকে বঞ্চিত করবে বলে আশঙ্কা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। তাই সব রাষ্ট্রের মানুষের জন্য ভ্যাকসিন নিশ্চিতে নতুন এক অংশীদারী কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে তারা।

এ বিষয়ে ডব্লিউএইচও’র প্রধান ট্রেডোস গেব্রিয়েসাস সোমবার এক টুইটে বলেন, আমরা আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন সংস্থা ‘দ্য কোয়ালিশন ফর দ্য এপিডেমিক প্রিপ্রেয়ার্ডনেস ইনোভেশন্স (সিপিইআই) ও গাভির সঙ্গে অংশীদারীত্বের ভিত্তিতে ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ করবো। যাতে করে সবাই ভ্যাকসিন গ্রহণের সুযোগ পায়। বিশেষ করে, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, একসঙ্গে কাজ করে গেলেই কেবল আমরা এই মহামারি ঠেকাতে পারবো। জীবন ও জীবিকা বাঁচাতে পারবো।

করোনাভাইরাসের একটি কার্যকর ভ্যাকসিন বা ওষুধ আবিষ্কারের পর তা বিশ্বের ধনী রাষ্ট্রগুলো মজুদ করে বাকি সবাইকে বঞ্চিত করতে পারে। এমন শঙ্কা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডব্লিউএইচও।

আল আরাবিয়া বলছে, ওষুধ মজুদের ঘটনা ইতোমধ্যে ঘটেও গেছে। গিলিয়াড সায়েন্সেসের আবিষ্কৃত রেমিডিসিভির প্রথম ওষুধ, যা উৎপাদনের অনুমোদন পেয়েছে। এই ওষুধ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের ওপর কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। জুলাই মাসে এর সরবরাহ শুরু হলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে তা কেউ পাবে না।

এর কারণ গিলিয়াড সায়েন্সেসের সঙ্গে মার্কিন সরকারের চুক্তি অনুযায়ী, জুলাই মাসে উৎপাদনকৃত সব ওষুধ মার্কিন সরকার মজুদ করবে। এরপর আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের ৯০ শতাংশ উৎপাদনও তাদের মজুদে যাবে। যার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে এই ওষুধের ব্যবহার আগামী কয়েক মাস কেউ করতে পারছে না।

ওষুধ ও ভ্যাকসিনের এমন বৈষম্যের শিকার যাতে কেউ না হয় তাই ডব্লিউএইচও, সিপিইআই ও গাভি যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা ১৮ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে, যাতে আবিষ্কৃত ভ্যাকসিনের ২ বিলিয়ন ডোজ তারা মজুদ করতে পারবে। যা পরবর্তীতে উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর মাঝে সরবরাহ করা হবে।