গণস্বাস্থ্যের কিট নিয়ে বিএসএমএমইউ এর প্রতিবেদনে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝর

প্রকাশিত: ১০:৫৭ অপরাহ্ণ, জুন ১৮, ২০২০

করোনাভাইরাস শনাক্তে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্ভাবিত কিট (র‌্যাপিড ডট ব্লট) কার্যকর নয় বলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) যে প্রতিবেদন দিয়েছে তা নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ফেইসবুকে এই প্রতিবেদন নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলে ক্ষোভ জানিয়েছেন নেটিজেনরা।

গত বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে বিএসএমএমইউ-এর মিল্টন হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভিসি অধ্যাপক কনক কান্তি বড়ুয়া ওই প্রতিবেদনের কথা জানান। তিনি বলেন, করোনাভাইরাস শনাক্তে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্ভাবিত কিট (র‌্যাপিড ডট ব্লট) কার্যকর নয়। এই কিট মাত্র ১১ থেকে ৪০ শতাংশ রোগীর রোগ শনাক্ত করতে সক্ষম। তবে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই কিট সহায়তা করতে পারে।

ফেইসবুকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল লিখেছেন, ‘‘গণস্বাস্থ্যের কিট নাকি করোনা শনাক্তে কার্যকর নয়! বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক কনক কান্তি বড়ুয়া আজ জানিয়েছেন এটি। প্রশ্ন হচ্ছে ডা. জাফরুল্লাহ্ চৌধুরীর করোনা সনাক্তকরন ও পরে তা নেগেটিভ হওয়ার সময় – দুবারই গণস্বাস্থ্যের কিট কিভাবে সঠিক প্রমাণিত হয়েছিল? আপনারা কেউ কি বিশ্বাস করেন এটি কার্যকর নয়? যদি না করেন আমাদের প্রশ্ন তোলার অধিকার আছে মানুষের জীবন নিয়ে কেন এসব ছিনিমিনি খেলা?’’

মঞ্জুরুল ইসলাম লিখেছেন, ‘‘এর থেকে বোঝা গেল বাংলাদেশে নিরপেক্ষ কোন সেক্টর নেই। অন্যান্য দেশ তারা কিন্তু এই কিট দিয়েই পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যান্য দেশ অনুমতির জন্য তিন বছরের যে পরীক্ষা দরকার হয়, সেটা তিনদিনই পারমিশন দিয়ে দিয়েছে। আমরা দুর্নীতিতে জর্জরিত। বহির্বিশ্বেও আমরা দুর্নীতির নাম কামাচ্ছি।’’

এসকে শাকিব ইসলাম লিখেছেন, ‘‘গণস্বাস্থ্যের কিট যে অকার্যকর ঘোষণা আসবে তা সবারই জানা। কারণ এই কীট পরীক্ষার ফলাফল চিকিৎসা বিজ্ঞানের মাধ্যমে হয় নাই, হয়েছে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মাধ্যমে।’’

সম্পদ বড়ুয়া লিখেছেন, ‘গণস্বাস্ব্যের কিট সঠিক নয়’ এই বক্তব্য আবার পরীক্ষা করে দেখা উচিত! কারণ এদেশে ৫ হাজার দিলেই করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট পাওয়া যায়!’’

আমিন সজিব লিখেছেন, ‘‘আজ স্বাস্থ্য খাতের যে বেহাল দশা যেটা জাতি হাঁড়ে হাঁড়ে টের পাচ্ছে। আজ উনারা এতো দিন এই কিট নিয়ে তালবাহানা করে এখন বলছে এই কিটে করোনা টেষ্ট সম্ভব নয়।’’

মামুন প্রশ্ন তুলেছেন, ‘‘অকার্যকর হলে কিভাবে ডাঃ জাফর উল্যাহ, প্রফেসর জমির উদ্দিন ও তাদের পরিবার গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের কীট দিয়ে করোনা সনাক্ত হয়েছিল, তারপর আরটিপিসিআরেও একই রেজাল্ট এসেছিল।’’

শাহিন লিখেছেন, ‘‘গণস্বাস্থ্যের কিট কার্যকর নয়, নাকি যেই যন্ত্র দিয়ে কিট টেস্ট করেছে সেই যন্ত্র অকার্যকর? সরকারি যন্ত্রপাতির কী বেহাল দশা সেটা তো সবাই জানে!’’

খন্দকার তালহা লিখেছেন, ‘‘তা তো হবেই, সেম কিট ভারতীয় দাদারা বানালে সেটার কার্যকারীতা হতো ১০১%, তারপর সেই কিট আমদানি হত, কয়েকশত কোটি টাকার চুরি বাণিজ্যও হয়ে যেত সেই সাথে…।এইসব চুলনীতি দেশের পাব্লিক ভালো করেই বুঝে।’’

কামাল হোসাইন খান লিখেছেন, ‘‘জনাব জাফরউল্লাহ স্যার একজন ভিন্ন মতাবলম্বী মানুষ, উনি দেশের প্রতিটা মানুষ নিয়ে ভাবেন। তার মানে এই নয় গনস্বাস্থের উদ্ভাবিত কিটস্ অকার্যকর বা অনুমোদন দোওয়া যাবেনা। এই কিটস্ দিয়ে বাংলাদেশের গরীব মানুষগুলো কম খরচে টেষ্ট করাতে পারত, সবকিছুকে রাজনৈতিক ভাবে নির্নয় করা ঠিক না।’’