কোরবানির পশুর চামড়া ব্যবস্থাপনায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং টিম

প্রকাশিত: ৮:৪৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৯, ২০২১

আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়া ব্যবস্থাপনা তদারকির জন্য সিটি করপোরেশন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তিনটি কমিটি গঠন করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আব্দুল লতিফ বকসী গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

 

যথাযথভাবে সংগ্রহ ও সংরক্ষণের জন্য ক্রেতা ও বিক্রেতা পর্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টি, মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানাসহ অন্যান্য স্থানে সংরক্ষিত কাঁচা চামড়ায় যথাসময়ে প্রয়োজনীয় লবণ প্রয়োগ নিশ্চিতকরণ; বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে শহরগুলোতে চামড়া ক্রয়ের আড়ত বা স্থানের পরিস্থিতি মনিটরিং করা; সিটি করপোরেশন, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে লবণেরর সররাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখা; বিশেষ পরিস্থিতিতে উদ্বৃত্ত কাঁচা চামড়া অস্থায়ী ভিত্তিতে সংরক্ষণের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা উপযুক্ত কোনো স্থান ব্যবহার করা; লবণের পরিবহণ নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা; পচন রোধে কোরবানির দিন থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কাঁচা চামড়া যাতে রাজধানী অভিমুখে পরিবহণ না করা হয়, সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করা ইত্যাদি নিশ্চিত করার জন্য সিটি করপোরেশন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

 

সিটি এলাকায় গঠিত কমিটিতে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব যথাক্রমে সভাপতি ও সদস্য সচিব-এর দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটির সদস্যরা হলেন—

বিভাগীয় কমিশনারের প্রতিনিধি, ডিআইজি সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ-এর প্রতিনিধি, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য)-এর প্রতিনিধি, বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা’র প্রতিনিধি, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অতিরিক্তি প্রধান প্রকৌশলী, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক, বিসিক আঞ্চলিক কার্যালয়ের আঞ্চলিক পরিচালক, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালকের পক্ষে সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ-এর প্রতিনিধি, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকের প্রতিনিধি এবং এফবিসিসিআই’র সভাপতির প্রতিনিধি।

 

জেলা পর্যায়ে গঠিত কমিটির সভাপতি সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক এবং সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক)। কমিটির সদস্যরা হলেন—

জেলা পুলিশ সুপার, জেলা প্রাণিসম্পদ কতর্মকর্তা, জেলা তথ্য কর্মকর্তা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক, সংশ্লিষ্ট জেলার বিসিক-এর উপ-মহাব্যবস্থাপক, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী এর জেলা কম্যান্ডেন্ট-এর প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট পৌরসভার মেয়রের প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট জেলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র সভাপতি এবং জেলা চামড়া ব্যবসায়ী বা আড়তদার সমিতির সভাপতি।

 

উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কমিটির সভাপতি এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) কমিটির সদস্যসচিব-এর দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটির সদস্যেরা হলেন—

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, বিসিক-এর কর্মকর্তা, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি, চামড়া ব্যবসায়ী বা আড়তদার সমিতির সভাপতি।

 

এসব কমিটি পর্যায়ক্রমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগীয় কমিশনারের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করবে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রয়োজনীয় চামড়া ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কন্ট্রোল সেল স্থাপন করবে। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে জনসচেতনতামূলক প্রচার চালানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ

 

চামড়া শিল্পখাতের অন্যতম প্রধান কাঁচামালের শতকরা প্রায় ৫০ ভাগ ঈদুল আজহার সময় সংগৃহ করা হয়ে থাকে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ঈদুল আজহায় পাওয়া কাঁচা চামড়ার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য যথাযথভাবে চামড়া সংগ্রহ, প্রয়োজনীয় লবণ প্রয়োগ, সংরক্ষণ, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহণসহ জনসচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা কার্যক্রম এবং কমপ্রিহেনসিভ মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মনিটরিং টিম গঠন করেছে। লবণের পর্যাপ্ত মজুদ বজায় রাখাসহ সহনীয় মূল্যে প্রয়োজনীয় লবণের সরবরাহ রক্ষা করার লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয় ও বিসিক-কে অনুরোধ জানানো হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে লবণের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে বলে বিসিক জানিয়েছে। লবণ পরিবহণে যাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এরই মধ্যে লবণ প্রয়োগ এবং সঠিকভাবে চামড়া সংগ্রহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জনসচেতনতামূলক প্রচারের জন্য ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে অনুরোধ অনুরোধ জানানো হয়েছে।

 

এ ছাড়া কোরবানির পর দ্রুততার সঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম গ্রহণে স্থানীয় সরকার বিভাগকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ঈদের দিন ঢাকামুখী পরিবহণ চামড়ার মান দ্রুত নষ্ট করে। তাই, কোরবানির দিন থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যাতে মাঠ পর্যায় থেকে কাঁচা চামড়া ঢাকার উদ্দেশে পরিবহণ না করা হয়, সে বিষয়ে জননিরাপত্তা বিভাগের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

 

এ ছাড়া ট্যানারি মালিকদের জন্য স্বল্প সুদে বা সার্ভিস চার্জে এবং সহজ শর্তে পর্যাপ্ত ঋণ প্রদানের জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুরোধ জানিয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগ এরই মধ্যে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।

 

এ ছাড়া লবণের পরিবহণ নির্বিঘ্ন করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগকে অনুরোধ জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ব্যাপক মনিটরিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করেছে। বাণিজ্য সচিবকে আহ্বায়ক করে কেন্দ্রীয় যৌথ সমন্বয় কমিটি; বিভাগে সমন্বয়ের লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবদের সভাপতিত্বে সমন্বয় এবং মনিটরিং কমিটি; ঢাকার সাভার, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং নাটোর জেলার জন্য মনিটরিং টিম; বিভাগীয় শহরের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়াধীন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তার সমন্বয়ে মনিটরিং টিম; জেলা শহরের জন্য জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগণের জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালনের জন্য জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

 

এ ছাড়া কাঁচা চামড়া সংক্রান্ত বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে কন্ট্রোল সেল গঠন করা হয়েছে।

 

কাঁচা ও ওয়েট-ব্লু চামড়া রপ্তানির অনুমতি

 

রপ্তানি নীতি ২০১৮-২১-এ কাঁচা ও ওয়েট-ব্লু চামড়া রপ্তানিতে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে গত বছরের ২৯ জুলাই গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পর কেস-টু-কেস ভিত্তিতে কালাম ব্রাদার্স ট্যানারি লি., লেদার ইন্ডাস্ট্রিজ অব বাংলাদেশ লি. (ইউনিট-২), অঝক ইনভেস্টমেন্ট, মেসার্স কাদের লেদার কমপ্লেক্স, আমিন ট্যানারি লি., মুক্তা ট্যানারি লি.—এই ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে ২০ লাখ বর্গফুট করে মোট এক কোটি ২০ লাখ বর্গফুট ওয়েট-ব্লু চামড়া শর্তসাপেক্ষে রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

 

গত ১৫ জুলাই বাণিজ্যমন্ত্রী কাঁচা চামড়ার প্রতি বর্গফুটের মূল্য ঘোষণা করেছেন। ঘোষণায় লবণযুক্ত গরুর কাঁচা চামড়ার মূল্য প্রতি বর্গফুট ঢাকায় ৪০-৪৫ টাকা, ঢাকার বাইরে ৩৩-৩৭ টাকা, খাসির কাঁচা চামড়া সারা দেশে ১৫-১৭ টাকা, বকরির কাঁচা চামড়া সারা দেশে ১২-১৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

গত বছরের তুলনায় গরুর চামড়ার মূল্য পাঁচ টাকা এবং খাসি ও বকরির চামড়ার মূল্য দুই টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে।