কোভিড-১৯ মহামারী বৈশ্বিক দুর্যোগ মোকাবেলায় বিশ্ববাসীর ‘শক্তিহীনতা স্পষ্ট করেছে’: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রকাশিত: ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ, জুন ৫, ২০২০
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি

কোভিড-১৯ প্রমাণ করেছে বৈশ্বিক দুর্যোগ মোকাবেলায় আমরা কতটা শক্তিহীন: শেখ হাসিনা

যুক্তরাজ্য আয়োজিতো একটি ভার্চুয়াল বৈশ্বিক টিকা সম্মেলনে এই মন্তব্য করে মহামারী থেকে মানবজাতিকে রক্ষায় দ্রুত টিকা উদ্ভাবনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, “চলমান কোভিড মহামারী প্রমাণ করেছে কোনো বৈশ্বিক দুর্যোগ মোকাবেলায় আমরা সত্যিকার অর্থে কতটা শক্তিহীন।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ভাইরাসের অনেকগুলো মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকির সৃষ্টি করতে পারে। তাই মানবজাতির টিকে থাকার জন্য বিদ্যমান ও আরো নতুন টিকার প্রয়োজন হবে। সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকা অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপায় হিসেবে প্রমাণিতো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জিএভিআই অ্যালায়েন্স (সাবেক গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনেশন এন্ড ইমিউনাইজেশন)-এর সহায়তা কামনা করেন।

জিএভিআই প্রতিষ্ঠার ২০ বছর উপলক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের সরকার, ফাউন্ডেশন, বেসরকারি খাত ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে বিশ্ব টিকা সম্মেলনের আয়োজন করেছে যুক্তরাজ্য।

শেখ হাসিনা বলেন, “প্রতিষ্ঠার পর থেকে জিএভিআই সারা বিশ্বে ৭৬ কোটির বেশি মানুষকে মারাত্মক রোগের টিকা দিয়েছে এবং এক কোটির বেশি মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “কেবল আমাদের সদিচ্ছাই জিএভিআই’র পূর্ণ তহবিল ও তাদের টিকাদান অবকাঠামো জোরদার নিশ্চিত করতে পারে এবং অতিরিক্ত ৩০ কোটি শিশুকে টিকাদান ও জিএভিআই সহায়তাপুষ্ট দেশগুলোর ৮০ লাখ পর্যন্ত মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে।

“তাই কেবল আমি নই, সারা দুনিয়া জিএভিআই’র সহায়তায় আপনাদের বক্তব্য শুনতে অপেক্ষা করছে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “লাখ লাখ শিশু ও গর্ভবতী মায়ের জীবন বাঁচিয়েছে এমন একটি উদ্যোগের একজন অংশীদার হিসেবে আমি আপনাদের সঙ্গে থাকতে পেরে আনন্দিত।”

বড় ধরনের আর্থিক, সামাজিক ও পরিবেশগত ক্ষতির বিনিময়ে মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশের আশ্রয় দেওয়ার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

এখন সেখানে করোনাভাইরাস মহামারী ঠেকাতে প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমাদের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কর্মীরা করোনা আক্রান্তের সংখ্যা সীমিত রাখতে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে সেখানে ৫ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী শিবির।”

অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, বুরকিনা ফাসোর প্রেসিডেন্ট রোচ মার্ক ক্রিস্টিয়ান কাবোরে, ইথিওপিয়ার প্রেসিডেন্ট শাহলে ওয়ার্ক জিউডে, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গ্যাব্রিয়েসাস এবং বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এবং বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের কো-চেয়ার বিল গেটস এখানে মূল বক্তব্য রাখেন। সমাপনী বক্তব্য দেন জিএভিআই বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. নাগোজি ওকোনজো আইওয়েলা।