কুড়িগ্রামে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি: নতুন করে প্লাবিত ৪০ গ্রাম

প্রকাশিত: ৭:২৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০২০
ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত

কুড়িগ্রামে ধরলা ও ব্রহ্মপূত্র নদের পানি অস্বাভাবিকহারে বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ফলে বেড়েছে বানভাসীদের দুর্ভোগ।

মঙ্গলবার ভোর থেকে কুড়িগ্রাম-ভূরুঙ্গামারী মহাসড়কের দু’টি জায়গার উপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ভাঙন ঠেকাতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে বালুর বস্তা ফেলা হলেও দ্রুত বন্যার পানি নেমে না গেলে মহাসড়কের অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হবে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন।

এদিকে বিকেলে বন্যার পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে ধরলা নদীতে ব্রীজ পয়েন্টে ১০৩ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপূত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে ৯৬ ও নুনখাওয়া পয়েন্টে ৮৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নতুন করে পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার ৬০ ইউনিয়নের ৫২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে ৩ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পরেছে।

নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় লোকজন পরিবার নিয়ে বাঁধের রাস্তা ও মহাসড়কে আশ্রয় নিয়েছে। প্রথম দফায় যারা আক্রান্ত হয়েছিলো, তারা ১৮ দিন ধরে রাস্তার ধারে পলিথিন দিয়ে শেড করে সেখানে আশ্রয় নিয়েছে। রাতভর মুসলধারে বৃষ্টি ও বাতাসের কারণে বানভাসীরা চরম দুর্ভোগের মধ্যে রাত কাটিয়েছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আলী নুরাইন জানান- কুড়িগ্রাম-নাগেশ্বরী সড়কের চণ্ডিপুর নামক স্থানে মহাসড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। রাস্তার যাতে ক্ষতি না হয় এজন্য আমরা স্রোতের তীব্রতা ঠেকাতে বস্তা দিয়ে সেগুলো নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি।

জেলা প্রশাসক মো: রেজাউল করিম জানিয়েছেন- পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় নৌকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া জেলায় ৪৩৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ৪০০ মে. টন চাল, ১১ লাখ টাকা ও ৩ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার উপজেলা পর্যায়ে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।