কাবা ঘরের ছবিসম্বলিত জায়নামাজে নামাজ পড়ার বিধান  

প্রকাশিত: ৮:৪৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ৫, ২০২০

কাবা ঘর বা মসজিদে নববী কিংবা এ ধরণের কোনো ইসলামী স্থাপনার ছবিসম্বলিত জায়নামাজে নামাজ হয়ে যাবে৷ তবে এ ধরণের জায়নামাজ ব্যবহার করা অনুত্তম৷ সহীহ বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনা- আম্মাজান আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূল ﷺ একবার কোনো একটা কাপড়ের উপর নামাজ আদায় করেছিলেন৷ ঐ কাপড়ে কিছু অঙ্কন করা ছিল। নবী করীম ﷺ নামাজ শেষ করার পর বললেন, “তোমরা এই কাপড়টি নিয়ে যাও, এবং আরেকটি কাপড় নিয়ে আসো, যেটাতে কোনো ছবি অঙ্কন করা থাকবে না”৷ নবী করীম ﷺ কাপড়টি পরিবর্তন করিয়ে নিলেন এবং কারণ হিসেবে বললেন যে, “এটি আমার সালাতের মনোযোগকে নষ্ট করছিলো”।

এই হাদীস থেকে আমরা একটি স্পষ্ট ধারণা পেলাম যে, আমরা যখন নামাজ পড়বো তখন এমন কোনো পরিষ্কার কাপড় বা জায়নামাজের উপর নামাজ পড়বো যেটাতে কোনো ছবি থাকবে না৷ যেন আমরা আমাদের মনোযোগকে নামাজের দিকে, নামাজে কী পড়ছি সেদিকে নিবদ্ধ রাখতে পারি৷ জায়নামাজের উপর কোনো ছবি থাকলে স্বভাবতই আমাদের নামাজে মনোযোগের ঘাটতি হবে। আর নামাজের মধ্যে এই মনোযোগ-ঘাটতি কাবা ঘরের ছবির কারণেও যদি হয়, তবুও নিন্দনীয়৷ তাই আমাদের উচিৎ ছবিবিহীন কোনো জায়নামাজে নামাজ পড়া৷

তাছাড়া আমরা জানি- খৃষ্টানরা তাদের ধর্মবিশ্বাস থেকে তাদের বিভিন্ন এবাদতগাহে/উপাসনালয়ে ক্রুশের ছবি অঙ্কন করে রাখে৷ যদিও ছবিসম্বলিত জায়নামাজে সেজদা করার সময় আমরা ছবিটিকে সেজদা করছি না বরং আমরা সেজদা করছি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালাকে৷ তবুও বিষয়টাতে খৃষ্টানদের সাথে কিছুটা হলেও কেমন যেনো সাদৃশ্য থাকছে যে আমরাও কাবা ঘরকে আমাদের জায়নামাজে সিম্বল বানিয়ে রেখেছি৷

আরেকটি লক্ষণীয় বিষয় হলো- কাবা ঘরের প্রতীক সম্বলিত জায়নামাজে কখনো কখনো পা লাগতে পারে বা ঘুরে বসলে নিতম্ব লাগতে পারে। আর কাবা ঘরের ছবিতে এরূপ পা বা নিতম্ব লাগা কেমন যেন আদব বহির্ভূত মনে হয়৷ তাই আমাদের যেসব জায়নামাজে কাবা ঘরের ছবি বা মাসজিদুল হারামের বা অন্য কোনো ইসলামিক স্থাপনার ছবি থাকবে, সেসব জায়নামাজ ব্যবহার না করাই ভালো৷ এ বিষয়টি ব্যবসায়ী মহলেরও গোচরীভূত করা দরকার যাতে তারা জায়নামাজ তৈরিতে এমন নকশা এড়িয়ে চলে৷ আল্লাহ আমাদের সবাইকে বিষয়টি বুঝার তাওফিক দান করুন, আমীন।

– শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিডিও অবলম্বনে