করোনা হটস্পট নারায়নগঞ্জে টেস্টিং কিট সঙ্কট!

প্রকাশিত: ৭:৩৬ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৪, ২০২০
কেমন এই পরীক্ষা? গলা বা গলা ও নাকের অংশ থেকে তরল নমুনা নেওয়া হয়৷ তারপর সেই নমুনা বিশেষ অণুবীক্ষণ যন্ত্রের মাধ্যমে পরীক্ষা করলেই ধরা পড়বে যে সেখানে করোনা ভাইরাস আছে কি না৷ এই পরীক্ষা করতে প্রায় ৫ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে৷ জার্মানিতে এই পরীক্ষা করাতে কোনো খরচ লাগেনা, কারণ তা রোগীর নিজস্ব স্বাস্থ্যবিমার আওতায় থাকে৷

নারায়ণগঞ্জ হলো করোনাভাইরাসের হটস্পট। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউন নিয়ে তোড়জোর চললেও করোনা টেস্টিং কিটের সঙ্কটে সেই নারায়ণগঞ্জের খানপুর হাসপাতালে কয়েকদিন দিন ধরে নমুনা পরীক্ষা বন্ধ।

নারায়ণগঞ্জের খানপুর তিনশ’ শয্যা হাসপাতালে গত ১৮ জুন থেকে পিসিআর পদ্ধতিতে করোনা টেস্ট হচ্ছে না। এই কয়েক দিন থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার সম্ভাব্য রোগী হাসপাতালে করোনা টেস্ট করাতে এসে ফিরে যাচ্ছেন। মানুষকে জানিয়ে দেয়া হচ্ছে কিট না আসা পর্যন্ত আর কোনো টেস্টের সিরিয়াল দেয়া হবে না। কবে এই কিট পাওয়া যাবে তা বলা যাচ্ছে না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে করোনা পরীক্ষার কিটের জন্য বাংলাদেশ এখন পুরোপুরি চীনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. নাসিমা সুলাতানা বলেন, করোনা পরীক্ষার কিটের জন্য বাংলাদেশ পুরোপুরিই চীনের ওপর নির্ভরশীল। আমদানিকারকরা ঠিক সময় আমদানি করতে না পারায় কিট নিয়ে মাঝেমধ্যে ঝামেলা হচ্ছে। তবে আমরা চেষ্টা করছি যাতে কিটের কোনো সঙ্কট না হয়।

হাসপাতালের রেসিডেন্ট ফিজিশিয়ান ডা. শামসুদ্দোহা সরকার জানান, কিট শেষ হওয়ার ৭ দিন আগেই সিভিল সার্জনের মাধ্যমে কিটের জন্য আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু কিট পাওয়া যাচ্ছে না। কবে পাবো তাও জানানো হয় নি। তাই পরীক্ষা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছি। নারায়ণগঞ্জের এই চিত্র কার্যত সারাদেশে। হাজার হাজার মানুষ করোনা পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নমুনা দিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। কিন্তু পরীক্ষা করাতে পারছেন না। কেউ নমুনা দিতে পারলেও পরীক্ষার রেজাল্টের জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

অবশ্য গত সোমবার এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন, চাহিদা অনুযায়ী কিট পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ বর্তমান বিশ্বের সব দেশেই কিটের চাহিদা রয়েছে। তবে যা মজুদ আছে তাতে ঘাটতি হওয়ার কথা নয়।