করোনা শনাক্তের হারে ‘রেড জোনে’ রাজশাহী

প্রকাশিত: ৬:৩৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ৫, ২০২০

করোনা শনাক্তের হারে এখন রেড জোনে রাজশাহী। তবুও দেয়া হয় নি লকডাউন। সিভিল সার্জন বলছেন- লকডাউনে অনেক মানুষ উপার্জন ক্ষমতা হারাবেন। তাই শুধু আক্রান্তদের বাড়ী লকডাউন করে করোনা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।

গত ঈদুল ফিতরে লকডাউন তুলে দেয়ার পরেই শুরু হয় মানুষের বেপরোয়া চলাচল। পথ-ঘাট ও বাজারগুলোতে মানুষের ভীড়ে পা রাখাই দায়। স্বাস্থ্যবিধি বলে কিছুই নেই। কেউ মাস্ক পড়েন থুতনিতে। কেউ রাখেন পটেকে। ঘনিষ্ট হয়ে এক অটোরিকসায় চড়ছেন অনেকেই।

আলুপট্টি মোড়ের সাহেববাজার রাস্তায় দাঁড়ালে রোববার দুপুরে দেখা যায়- একই অটোরিকসায় অসংখ্য মানুষ চড়ে বেড়াচ্ছেন। অটোচালকের পাশের সিটেও বসছেন অনেকেই। জানতে চাইলে এক যাত্রী বলেন- পেছনের সিটে বসছে চার থেকে ৬জন। তাই তিনি চালকের পাশের সিটে বসছেন। আটোচালক বলছেন- সবাই আমার পাশেই বসছে। নিষেধ করলেও শুনছে না। আরেকটি অটোচালককে দেখা যায় মাস্ক ছাড়াই গাড়ী চালাচ্ছেন। জানতে চাইলে বলেন- মাস্ক পকেটে আছে। পড়ছি। বলেই পড়তে থাকেন।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. গোপেন্দ্রনাথ আচার্য বলেন- মানুষের বেপরোয়া চলাচল এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রবণতায় এখন সামাজিক সংক্রমণের চরম মাত্রায় পৌছেছে করোনা ভাইরাস। তিনি বলেন- মানুষ সচেতন না হলে কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। মানুষ একই অটোতে অসংখ্য মানুষ উঠছে। বাজারে গাদাগাদি করে চলাফেরা করছে। হাত ধোয়া বা মুখে মাস্কও পড়ছে না। এসব কারণেই সংক্রমণ দ্রুত সময়ে ছড়িয়েছে।

রাজশাহী জেলা সিভিল সার্জন ডা. এনামুল হক বলেন- আক্রান্তের হারে রাজশাহী এখন রেড জোন। তবে কঠোর লকডাউন দিলে অনেক মানুষ উপার্জন ক্ষমতা হারাবেন বলে লকডাউন দেয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন- এর আগেও লকডাউন দেয়া হয়েছিলো। মানুষ লকডাউন মানে নি। তাই এবার আর লকডাউনে যাচ্ছি না। তিনি আশংকা প্রকাশ করে বলেন, মানুষ যেভাবে বেপরোয়াভাবে চলাফেরা করছে, তাতে আগামী ঈদুল আযহায় করোনা সংক্রমণে চরম মাত্রায় পৌছাবে রাজশাহী।