ঢাকা, শনিবার ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১০ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

করোনা পরীক্ষা করছেন কম লোক, বাড়ছে শনাক্তের হার


প্রকাশিত: ৮:৪৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০২০

করোনা পরীক্ষায় আরটি-পিসিআর ল্যাবের সংখ্যা বেড়ে চললেও কমেছে পরীক্ষার সংখ্যা। যদিও সংক্রমণের হার গত চারদিন ধরে সবচেয়ে বেশি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দাবি- পরীক্ষা কমানো হয় নি মানুষজনই কম পরীক্ষা করাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন- স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকেই যেতে হবে মানুষের কাছে, বাড়াতে হবে পরীক্ষার সংখ্যা।

জুনের শেষ নাগাদ সারা দেশে মোট ৬৮টি আরটি-পিসিআর ল্যাবে করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছিলো। তখন দিনে ১৮ হাজারের মত নমুনা পরীক্ষা করা হতো। জুলাইয়ের ১৪ তারিখ এসে ল্যাবের সংখ্যা ৭৯ হলেও কমে এসেছে পরীক্ষার সংখ্যা।

২রা জুলাই ১৮ হাজার ৩৬২টি পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছিলো ৪০১৯ জন। টেস্ট অনুপাতে শনাক্তের হার ছিলো ২১.৮৯ শতাংশ। পরের দিন থেকেই কমতে শুরু করে পরীক্ষার সংখ্যা। সেদিন হয়েছিলো ১৪ হাজার ৬৫০টি নমুনা পরীক্ষা। গত ১২ দিনে সবচেয়ে কম পরীক্ষা হয়েছে ১২ই জুলাই। মাত্র ১১ হাজার ৫৯টি নমুনা।

 

ল্যাবের সংখ্যা বেড়েছে, শনাক্তের হারও উর্ধ্বমুখী। তাহলে পরীক্ষার সংখ্যা কমছে কেনো? স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন- ‘আমরা কমাই নি, টেস্টের হার আমরা কীভাবে কমাবো? লোকদের তো আসতে হবে যে আমাকে টেস্ট করান। যদি কেউ না আসে তাহলে তো আমরা পরীক্ষা করাতে পারবো না। আগে দেখা যেত ৩টার পরেও লম্বা লাইন। এখন দেখা যায় ১টার পরই লোকশূণ্য। বুথে টেস্ট করানোর লোক গিয়ে বসে থাকে।’

 

২য় টেস্ট না করানো নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নতুন নির্দেশনা এবং ফি নির্ধারণও পরীক্ষার সংখ্যা কমার কারণ বলে মনে করেন নাসিমা সুলতানা। তবে উপসর্গ নিয়ে পরীক্ষা করতে চাইলে কাউকেই ফেরানো হবে না বলে জানান তিনি। নাসিমা সুলতানা আরও বলেন- ‘এখন যাদের পরীক্ষা করা দরকার শুধু তাদেরই পরীক্ষা হচ্ছে। আগে অনেক নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এমনও হয়েছে কারো পাশ দিয়ে একজন রোগী হেঁটে গেছে তো টেস্ট করতে হবে। যারা নমুনা দিতে আসবে আমরা অবশ্যই নমুনা নিবো।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এসব যুক্তি মানতে নারাজ আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক বে-নজির আহমেদ। সংক্রমণ কমাতে টেস্ট বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই বলে জানিয়ে তিনি বলেন- ‘মানুষ আসবে কি-না এটা ইস্যু না। কেউ আক্রান্ত হলে খুঁজে বের করা যেটাকে আমরা ট্রেসিং বলি। তাকে টেস্ট করা, আইসোলেশন করা ও যারা তার সংস্পর্শে এসেছে তাদের কোয়ারেন্টিন করা। এটাই হলো নীতিমালা। নাহলে যেটা দাঁড়াবে, আমাদের যে রোগীগুলো তাদের থেকে নতুন রোগী বাড়বে। আমরা তাদের আইসোলেট না করলে সংক্রমণটা আরো ছড়াবে।’

মঙ্গলবার (১৪ই জুলাই) পর্যন্ত মোট ৯ লাখ ৬৬ হাজার ৪০০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। করোনায় আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন ১ লাখ ৯০ হাজার ৫৭ জন।