করোনা উপসর্গে দেশে ২২ চিকিৎসকের মৃত্যু: ড্যাব

প্রকাশিত: ৮:১৪ অপরাহ্ণ, জুন ৫, ২০২০

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এবং করোনা উপসর্গ নিয়ে ২২জন চিকিৎসক মৃত্যুবরণ করেছে বলে জানিয়েছে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)। বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের এই সংগঠন করোনাভাইরাস ইস্যুতে কোভিড-১৯ মনিটরিং কমিটি গঠন করে। এই মনিটরিং কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী সারা দেশে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত এক হাজার ৪১ জন চিকিৎসক এবং এক হাজার ৪০০ জন নার্স, হেলথ টেকনোলজিস্ট, স্যাকমোসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসা এবং পরীক্ষা করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন। এই সময়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৮ জন এবং করোনা উপসর্গ নিয়ে ৪ জনসহ সর্বমোট ২২ জন চিকিৎসক মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত্যুযাত্রায় নবীন থেকে প্রবীণ চিকিৎসকও রয়েছেন।

ড্যাবের করোনা মনিটরিং কমিটির আহ্বায়ক ডা. একেএম মহিউদ্দীন ভুঁইয়া মাসুম ও সদস্য সচিব ডা. সায়ীদ মেহবুব উল কাদির। ডা. মেহবুব উল কাদির স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়- গত ১৬ এপ্রিল করোনা ভাইরাসে বাংলাদেশে প্রথম মৃত্যুবরণ করেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মঈন উদ্দিন আহমেদ। এরপর ৩ মে প্রফেসর (অবসরপ্রাপ্ত কর্ণেল) ডা. মোঃ মনিরুজ্জামান, ১১ মে ফরেন্সিক মেডিসিনের প্রফেসর ডা. আনিসুর রহমান, ১২ মে ইবনে সিনা হাসপাতালের রেডিওলজি বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. আবুল মুকারিম এবং স্বনামধন্য সার্জন প্রফেসর ডা. মীর মাহবুবুল আলম, পরবর্তীতে ডা. সারোয়ার ইবনে আজিজ, ডা. আজিজুর রহমান রাজু, ডা. এমএ মতিন, ডা. দিলরুবা খানম, ডা. আমিনা খান, অর্থপেডিক সার্জারীর প্রফেসর মোঃ মোশাররফ হোসেন, রংপুরের ডা. আব্দুর রহমান, ডা. সাইদুর ইসলাম, বক্ষব্যাধী বিশেষজ্ঞ ডা. ওয়াহিদুজ্জামান আকন্দ, ইউরোলজিস্ট ডা. মঞ্জুর রাশিদ চোধুরী, ডিজি হেলথের সাবেক ইভালুয়েটর ডা. কেএম ওয়াহিদুল হক, বারডেম মাইক্রোবায়োলজী বিভাগের প্রফেসর ডা. মহিউদ্দিন, চট্টগ্রামের ডা. সৈয়দ জাফর হোসাইন রুমি এবং ডা. এহসানুল করিম সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার মারা যান পিজির ইউরোলজি বিভাগের ডা. গোলাম কিবরিয়া।

প্রতিবেদনে বলা হয়- প্রতিদিন করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে স্বাস্থ্যসেবায় জড়িতো ব্যক্তিদের আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যাও বাড়ছে। ত্রুটিপূর্ণ পিপিই, মানহীন মাস্ক, ফেসশিল্ডসহ মানহীন সুরক্ষা সামগ্রি, পিপিই ব্যবহারের পর ডিসপোজাল করার জন্য বায়োহ্যাজার্ড ব্যাগ অপ্রতুলতা, চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের পিপিই পরিধান এবং খোলা যাকে ডোনিং- ডোফিং বলা হয় এ বিষয়ে কোনো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা হয়নি। কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী এবং অন্যান্য জরুরী রোগীর চিকিৎসার সঠিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত গাইডলাইন না থাকায় স্বাস্থ্যসেবার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আক্রান্ত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে রোগী উপসর্গ গোপন করাও অন্যতম একটি কারণ।