করোনা আক্রান্তদের দ্বিতীয়বার পরীক্ষার প্রয়োজন নেই: আইইডিসিআর

প্রকাশিত: ১:১৮ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৩, ২০২০

করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তির কোয়ারেন্টিনে থাকার সময় টানা তিন দিন প্যারাসিটামল ছাড়া যদি শরীরে জ্বর না আসে তাহলে ধরে নিতে হবে তিনি সুস্থ হয়েছেন। অর্থাৎ তিনি করোনা নেগেটিভে পরিণত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানিয়েছেন আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর। তিনি বলেন- ‘এখন থেকে করোনা পজিটিভ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আর দ্বিতীয়বার নমুনা পরীক্ষার প্রয়োজনীতা থাকছে না। তবে কেউ যদি খুব ক্রিটিক্যাল অবস্থায় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন থাকেন তাহলে তাঁর নমুনা পরীক্ষা করার প্রয়োজনীতা থাকলে চিকিৎসক সেই সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে সাধারণত করোনা পজিটিভ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আর দ্বিতীয়বার পরীক্ষা করার সুযোগ থাকছে না।’

আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বলেন- ‘কোনো ব্যক্তি পজিটিভ শনাক্ত হওয়ার পর যদি প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ সেবন ছাড়াই টানা তিন দিন জ্বরমুক্ত থাকেন তাহলে ধরে নেওয়া হবে তিনি সুস্থ। এমন অবস্থার রোগীকে নমুনা সংগ্রহের দিন থেকে ১৩ দিন পর তাঁকে করোনা নেগেটিভ হিসেবে গণ্য করা হবে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরাও তাই জানাচ্ছেন। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই হিসাব ১৩ দিন না হয়ে ১৪ দিন ধরা হবে বলে নতুন গাইডলাইনে চূড়ান্ত করা হয়েছে।’

ডা. এ এস এম আলমগীর বলেন- ‘আক্রান্ত হওয়ার ১৪ দিন পর জ্বর নেই কিন্তু কারও যদি হালকা কাশি থাকে তাতেও খুব একটা সমস্যা হবে না। তাকে অসুস্থ বলা যাবে না। এ ছাড়া ১৪ দিন পর আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর থেকে ভাইরাসটি আর ছড়ানোর সুযোগ থাকে না। কিন্তু যারা আইসিইউতে থাকবে এবং গুরুতর অসুস্থ হবে ১৪ দিন পরও তাদের কাছ থেকে ভাইরাসটি ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকতে পারে।’

যেহেতু নমুনা সংগ্রহের তারিখ থেকে সবকিছু গণনা করা হয় সেজন্য সবাইকে সতর্ক করে দিয়ে এ এস এম আলমগীর বলেন- ‘নমুনা সংগ্রহের দিন থেকে সবাই নিজেকে হোম আইসোলেশনে রাখবেন। নতুবা নমুনা দেওয়ার পর আপনি বাইরে গেলে আপনার দ্বারা অন্যরা আক্রান্ত হতে পারেন।’