করোনায় সুখবর! দেশে করোনা আক্রান্তদের জীবন রক্ষায় ডেক্সামেথাসোন সরবরাহ করবে নুভিস্তা

প্রকাশিত: ১১:১০ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৭, ২০২০

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীদের জীবন রক্ষায় ডেক্সামেথাসোন প্রথম কার্যকরি ওষুধ বলে দাবি করেছে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক। ওষুধটি দামে কম ও সহজলভ্য। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে তারা জানিয়েছেন, ডেক্সামেথাসোন প্রয়োগ করে ভেন্টিলেশনে থাকা রোগীও সুস্থ হচ্ছে।

সুখবর হলো, বাংলাদেশে বেক্সিমকো ফার্মার সহযোগী প্রতিষ্ঠান নুভিস্তা ফার্মাসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এই ওষুধটি তৈরি করে।

জেনেরিক নাম ডেক্সামেথাসোন হলেও বাংলাদেশের নুভিস্তা ফার্মা রোক্সাডেক্স নামে এই ইনজেশন তৈরি করছে। যার একটি ডোজের দাম মাত্র ২৯ টাকা। আর একই জেনেরিকের একটি ওরডেক্স ট্যাবলেটের দাম মাত্র এক টাকা ১৫ পয়সা। দেশের করোনা চিকিৎসার জাতীয় নির্দেশিকায়ও এসব ওষুধের নাম অন্তর্ভূক্ত রয়েছে।

নুভিস্তা ফার্মার এমডি রাব্বুর রেজা জানিয়েছেন, এটি সস্তা এবং সহজেই পাওয়া যায়। অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি স্টেরয়েডটি সফলভাবে যুক্তরাজ্যের হাসপাতালগুলোতে ব্যবহৃত হয়।

তিনি আরও জানান, ওষুধের পর্যাপ্ত কাঁচামাল মজুদ রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উৎপাদনে কোনো ঘাটতি হবে না।

চিকিৎসকরা জানান, কভিড-১৯ মুমূর্ষু রোগীদের দশ দিন ডেক্সামেথাসোন দিতে হবে। যাদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা নেই, তাদের এ ওষুধ দিয়ে লাভ নেই।

পশ্চিমা বিশ্বে করোনার ভয়াবহতা কমে এলেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এ অবস্থায় অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকরা জানান, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া প্রায় ২ হাজার করোনা রোগীর দেহে ডেক্সামেথাসোন পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করে সুফল পাওয়া গেছে। তাদের দাবি, করোনা মহামারির শুরুতে এই ওষুধের কার্যকারিতা জানা গেলে অন্তত ৫ হাজার মানুষের মৃত্যু ঠেকানো যেতো।

গবেষকরা জানায়, যেসব রোগী ভেন্টিলেটারে ছিলেন তাদের মধ্যে মৃত্যুর ঝুঁকি এই ওষুধ নেবার ফলে ৪০% থেকে কমে ২৮%এ দাঁড়ায়। আর যাদের অক্সিজেন দিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে তাদের ক্ষেত্রে মৃত্যুর ঝুঁকি ২৫% থেকে কমে আসে ২০%।

চিকিৎসকরা জানান, রোগীর শ্বাসকষ্ট দূর করতে এই জেনেরিকের ট্যাবলেট কিংবা ইনজেকশন বেশ উপকারী।

নুভিস্তা ফার্মার এমডি রাব্বুর রেজা জানায়, অক্সফর্ডের গবেষেণা জানায়, ডেক্সামেথেসোন প্রয়োগের মাধ্যমে ভেন্টিলেটরে থাকা আটজন রোগীর মধ্যে একজনের জীবন রক্ষা করা সম্ভব।