করোনায় বাসায় মৃতের সংখ্যা বাড়ছে

প্রকাশিত: ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ, জুন ২০, ২০২০
ছবি: প্রতীকী

করোনা আক্রান্ত হয়ে বাসায় মৃত্যু বাড়ছে। প্রতিদিনই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী বাসায় মারা যাচ্ছেন। শুরুর দিকে বাসার মৃত্যুর বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তথ্য প্রকাশ না করলেও সম্প্রতি এ সংখ্যা জানানো হচ্ছে নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে।

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট ও সংক্রমণ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাসায় যারা মারা যাচ্ছেন তারা হয় হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছেন না। আর না হয় হাসপাতালে চিকিৎসা সুবিধা পাওয়া যাবে না এমনটা ভেবে বাসায় থেকেই চিকিৎসা দেন। এছাড়া সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার ভয়ে হয়তো কেউ কেউ আক্রান্ত হওয়ার তথ্য গোপন করে বাসায় থাকছেন।

স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে সক্রিয় করে তুলতে হবে। সেবার মান বাড়াতে হবে এবং সেবা জনসহায়ক হবে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশপাশি বাসায় থেকেও যেসকল রোগী চিকিৎসা নিবেন তাদেরকে চিকিৎসকরে ফলোআপে রাখতে হবে। যাতে করে আরো বেশি জীবন রক্ষা করা যায়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ১০ই জুন সারা দেশে ৩৭ জন করোনা আক্রান্ত মারা যান। এর মধ্যে হাসপাতালে ২৫ জন ও বাড়িতে ১২ জন। ১১ই জুন ৩৭ জন মৃত ব্যক্তির ২৮ জন হাসপাতালে ও বাড়িতে ৯ জন মারা যান। ১২ই জুন ৪৬ জনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে ৩২ জন হাসপাতালে ও ১৪ জন বাড়িতে মারা যান। ১৩ই জুন মৃত্যুবরণ করেছেন ৪৪ জন। যার মধ্যে ২৭ জন হাসপাতালে ও ১৪ জন বাড়িতে মারা যান। ১৪ই জুন মৃত ৩২ জনের মধ্যে ২০ জন হাসপাতালে ও ১১জন বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন। ১৫ই জুন মৃত ৩৮ জনের মধ্যে ২৫ জন হাসপাতালে ১১ জন বাড়িতে মারা যান। ১৬ই জুন সর্বোচ্চ ৫৩ জনের মৃত্যু হয়, এর মধ্যে ৩৪ জন হাসপাতালে ও ১৮ জন বাড়িতে মারা যান। ১৭ ই জুন মৃত্যুবরণ করেছেন ৪৩জন। এর মধ্যে ২৭ জন বাড়িতে ও হাসপাতালে ১৫ জন মারা যান। আর ১৮ই জুন ৩৮ মৃত ব্যক্তির ২৪ জন হাসপাতালে ও বাড়িতে ১৪ জনের মৃত্যু হয়। অধিদপ্তর সূত্রে আরও জানা যায়, ১৩ই জুন থেকে ১৭ই জুন পর্যন্ত ৫ দিনে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে ৮ ব্যক্তিকে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বেনজির আহমেদ বলেন, করোনা রোগীর পাশাপাশি নন করোনা রোগীও বাড়ছে। যাদের অনেকেই হাসপাতালে ভর্তি হতে পারছে না। ঠিকমত চিকিৎসা পাচ্ছেনা। তাই অনেকেই বাসায় মারা যাচ্ছে। নন করোনা রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থা যদি প্রসারিত করা না যায় তবে এমনটা হবে। প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতেই বেশি সংখ্যক রোগীর চিকিৎসা হয়। কিন্তু এখন প্রাইভেট হাসপাতালে নন করোনা রোগীরাও সঠিক সেবা পাচ্ছে না। আরা করোনা রোগীরাও হাসপাতালে বেড পাচ্ছে না। আইসিইউ পাচ্ছে না। তাই অনেকে বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে। তিনি বলেন, হাসপাতালগুলোতে সেবার পরিধি বাড়াতে হবে। যাতে করে লোকজন সহজেই চিকিৎসা পেতে পারে। পাশপাশি প্রাইভেট হাসপাতালগুলোকে অতি দ্রুত সক্রিয় করতে হবে। এবং আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা জনসহায়ক হতে হবে। উদাহরণ দিয়ে এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেন, একজন অসুস্থ হলে তার কিছু খুঁজতে হবে না। বাড়িতে এম্বুলেন্স গিয়ে রোগী নিয়ে আসবে। এরকম যদি একটা মেকানিজম দাঁড় করানো যায় তাহলে লোকজন হাসপাতালমুখী হবে। বাড়িতে মৃত্যুর হার কমবে। এমনকি সামগ্রিক মৃত্যুর হারও কমবে।