করোনায় আশার আলো: বিশ্বে প্রথমবারের মতো ওষুধ প্রয়োগ শুরু রাশিয়ায়

প্রকাশিত: ১:১৩ পূর্বাহ্ণ, জুন ৩, ২০২০
কেমন এই পরীক্ষা? গলা বা গলা ও নাকের অংশ থেকে তরল নমুনা নেওয়া হয়৷ তারপর সেই নমুনা বিশেষ অণুবীক্ষণ যন্ত্রের মাধ্যমে পরীক্ষা করলেই ধরা পড়বে যে সেখানে করোনা ভাইরাস আছে কি না৷ এই পরীক্ষা করতে প্রায় ৫ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে৷ জার্মানিতে এই পরীক্ষা করাতে কোনো খরচ লাগেনা, কারণ তা রোগীর নিজস্ব স্বাস্থ্যবিমার আওতায় থাকে৷

বিশ্বে প্রথমবারের মতো ওষুধ ‘ফাভিপিরাভিয়ার’ প্রয়োগ শুরু করেছে রাশিয়া

করোনা নিরাময়ে দেশে-বিদেশে নানা গবেষণা চলছে। পরীক্ষাধীন ওষুধের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালও শুরু করেছে কিছু দেশ। তবে রাশিয়াই প্রথম যে আগামী সপ্তাহ থেকে রোগীদের পরীক্ষামূলক ওষুধ দিতে শুরু করবে। সে জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদনও পেয়ে গিয়েছে তারা।

রাশিয়ার অ্যান্টিভাইরাল ওষুধটির নাম রাখা হয়েছে ‘আভিফাভিয়ার’। ১১ জুন থেকে রোগীদের এই ওষুধ দেয়া যেতে পারে বলে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে হাসপাতালে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাসে ৬০ হাজার জনকে ওই ওষুধের জোগান দিতে পারবে বলে জানিয়েছে ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা।

‘আভিফাভিয়ার’ ওষুধটির জেনেরিক নাম ‘ফাভিপিরাভিয়ার’। ১৯৯০-এর শেষের দিকে সেটি তৈরি করে জাপানের একটি সংস্থা। আরএনএ ভাইরাস প্রতিরোধে ভালো কাজ দেয় ওষুধটি।

‘রাশিয়ান ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড’-এর প্রধান কিরিল দিমিত্রিয়েভ জানিয়েছেন, ‘ফাভিপিরাভিয়ার’-এর ক্ষমতা আরও বাড়িয়ে নতুন ওষুধটি তৈরি করা হয়েছে। এর গুণাগুণ কী কী বাড়ানো হয়েছে, আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে তা প্রকাশ করবে মস্কো।

ভ্যাকসিন তৈরির দৌড়ে এগিয়ে জাপান ও থাইল্যান্ড

এদিকে জাপানেও এই ওষুধটির প্রয়োগ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। সেখানে এর নাম ‘আভিগান’। জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে এক প্রকার অনুমোদনও দিয়ে ফেলেছেন। এবং এই খাতে ১২ কোটি ৮০ লাখ ডলার সরকারি তহবিল থেকেও দিয়েছেন। কিন্তু সেখানে রোগীদের উপর প্রয়োগের ছাড়পত্র এখনও মেলেনি।

এদিকে, গতমাস থেকে থাইল্যান্ড তাদের পরীক্ষামূলক ভ্যাকসিন বানরের উপরে পরীক্ষা শুরু করেছে। দেশটির সরকার আশাবাদী যে, তারা আগামী বছরের মধ্যে একটি কার্যকর ভ্যাকসিন প্রস্তুত করে ফেলতে পারবে।

সরকার এবং ব্যাংককের একটি শীর্ষ ইউনিভার্সিটির সাথে কাজ করা স্থানীয় সংস্থা বিওনেট-এশিয়া এই ভ্যাকসিন তৈরির বিষয়টি সমন্বয় করছে। তারা অন্যান্য সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ রেখে তাদের ২৫০ জন কর্মী, ল্যাব, প্রযুক্তি এবং কারখানাগুলো এ কাজে নিবেদিত করেছে।

প্রতিষ্ঠানটির সিইও ফ্যাম হং থাই বলেন, ‘কোভিডের ক্ষেত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, তথ্য ভাগ করে নেয়া, ডায়াগনস্টিকস ভাগ করে নেয়ার জন্য বিশ্বব্যাপী প্রচেষ্টা রয়েছে এবং এ কারণেই আমরা খুব দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার মতো অবস্থানে রয়েছি।’ তিনি জানান, প্রাণীদের উপর পরীক্ষায় এই পর্যন্ত উৎসাহজনক ফলাফল পাওয়া গেছে। পরবর্তী পদক্ষেপে মানুষের উপরে ক্লিনিকাল ট্রায়ালের জন্য সরকারের অনুমোদন চাওয়া হবে।

জনস্বাস্থ্য মন্ত্রী অনুটিন চার্নভিরাকুল বলেছেন, ‘থাইল্যান্ডে একটি ভালো স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ও ভালো চিকিৎসা অনুশীলন রয়েছে। এটি পর্যটক এবং বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রচুর আগ্রহ অর্জন করবে এবং একটি মেডিকেল হাব হিসাবে আমাদের গুরুত্ব বাড়িয়ে তুলবে।

সূত্র কৃতজ্ঞতা- রয়টার্স, সিএনবিসি।