করোনারোধে সচেতনতার বিকল্প নেই

প্রকাশিত: ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ, জুন ১, ২০২০

গোটা পৃথিবী আজ করোনাভাইরাসের সংক্রমণের আঘাতে বিপর্যস্ত। কোনোভাবেই প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের লাগাম টানা যাচ্ছে না। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সাবধানতা এবং সতর্কতা পারে এই ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে। কিছু মৌলিক সাবধানতা অবলম্বন করলে সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা কিছুটা হলেও কমে আসবে।
এ সতর্কতাগুলো কী কী? আসুন জেনে নেই:

১. নিজেকে বিচ্ছিন্ন করুন
যদি সন্দেহ হয় যে আপনার মধ্যে কোভিড-১৯-এর এক বা একাধিক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে নিজেকে পরিবারের অন্য সদস্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন বা আইসোলেট করুন। এতে করে অন্যদের মাঝে সংক্রমণের আশংকা কমে আসবে।

২. জ্বর আসলে কী করবেন
করোনাভাইরাস সংক্রমণ থামানোর যেহেতু কোনো ঔষধ নেই সেজন্য সাধারণ সর্দি-কাশির ক্ষেত্রে যে ধরণের পদক্ষেপ নেয়া হয় সেগুলো অনুসরণ করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

৩. কফ থাকলে যা করবেন
যদি আপনার কফ জমে থাকে বসার সময় পিঠে ভর দিয়ে হেলান দিয়ে না বাসাই ভালো। মেরুদণ্ড সোজা করে বসুন। এতে কফ কিছুটা হালকা হয়ে আসতে পারে।

ব্রিটেনের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের ওয়েবসাইটে এ তথ্য দেয়া হয়েছে।

সেখানে আরো বলা হয়েছে, কফ হালকা করার জন্য এক চামচ মধু খেতে পারেন। এতে উপকার হতে পারে। তবে বারো বছর বয়সের নিচে বাচ্চাদের মধু দেবেন না।

৪. টেস্ট সেন্টারের ফোন নম্বর রাখুন
বাংলাদেশে এখন ৪৯টির মতো ল্যাবরেটরিতে করোনাভাইরাসের টেস্ট করানো হচ্ছে। আপনার নিকটস্থ টেস্ট সেন্টার কোথায় হতে পারে সে সংক্রান্ত খোঁজ রাখুন।

এখন কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বাসায় গিয়ে নুমনা সংগ্রহ করছে। তাদের ফোন নম্বর সংগ্রহ করে রাখতে পারেন।

৫. অক্সিজেন ভাড়া নিতে পারেন
শ্বাসকষ্ট হলে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর প্রয়োজন হয়। কিন্তু বাংলাদেশে অনেক ক্ষেত্রেই সেটি সম্ভব হচ্ছে না।

এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটোছুটি করতে করতে রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হয়। রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে না পারলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাসায় অক্সিজেন নিতে পারেন।

৬. টেলিমেডিসিন সম্পর্কে জেনে রাখুন
করোনা সংক্রমনের এই সময়টিতে অনেক চিকিৎসক রোগীদের সরাসরি দেখছেন না। অধিকাংশ ডাক্তারের চেম্বারও বন্ধ।

তবে দেশে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এখন টেলিমেডিসিন সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

যে কোন ব্যক্তির ভেতর যখন করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রাথমিক কিছু লক্ষণ দেখা দেয় তখন তিনি আতঙ্কিত হয়ে উঠেন।

৭. বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক নির্দেশিত সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন।

৮. বাহিরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করবেন।

৯. সাবান পানি দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলবেন।

১০. সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখবেন।

সূত্র- স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিবিসি অবলম্বনে