করোনাভাইরাস: বেনাপোলে আটকে আছেন ১৯ ভারতীয়

প্রকাশিত: ৩:৪৭ অপরাহ্ণ, জুন ১, ২০২০

“রপ্তানি পণ্য নিয়ে এসে ১৯ জন ভারতীয় শ্রমিক তাদের ট্রাকসহ প্রায় আড়াই মাস আটকে আছেন বেনাপোল বন্দরে”
গত ২০ মার্চ পণ্য নিয়ে বেনাপোল ঢোকার পর করোনাভাইরাস সংক্রমণের কথা বলে ভারতের পেট্রাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের গ্রহণ না করায় বেনাপোল স্থলবন্দর ইয়ার্ডের ভেতরে অবস্থান করছেন। এদেশের বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সিএন্ডএফ এজেন্ট সংশ্লিষ্টরা সহায়তা করায় কোনোরকমে তারা বেঁচে আছেন।

বাংলাদেশের আমদানিকারক ও সিএন্ডএফ এজেন্টরা এই বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলছেন বলে জানান।

বেনাপোল সিএন্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে ভারতে ‘লকডাউন’ ঘোষণার আগের দিন ২০ মার্চ বাংলাদেশে শিল্প কারখানার কাঁচামালসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য নিয়ে আসে ১৯টি ট্রাক।

“কথা ছিলো পণ্য বেনাপোল বন্দরে খালাসের পর তাদের ফেরত পাঠাতে হবে। সে অনুযায়ী বাংলাদেশি সিএন্ডএফ এজেন্ট ও স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ দ্রুত ট্রাক খালি করে সেগুলো ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করে। কিন্তু সরকারের নির্দেশনা নেই বলে তাতে বাধ সাধে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। ফলে ওইদিন থেকেই ট্রাকসহ চালকরা বেনাপোলে আটকে আছেন।”
অনাহারে অর্ধাহারে মানবেতর জীবনযাপন করায় বন্দর, কাস্টমস, সিএন্ডএফ কর্তৃপক্ষ তাদেরকে খাদ্য সহায়তা দিয়ে আসছে বলে জানান সাজেদুর।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভারতের উত্তর প্রদেশের ট্রাক চালক সীতারাম বলেন, “আমরা বাংলাদেশে এসে আটকে গেছি। পেট্রাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ আমাদের নিচ্ছে না। পরিবার পরিজনের সাথে যোগাযোগ করতে পারছি না। কাছে যে টাকা পয়সা ছিল তা শেষ হয়ে গেছে। এখানে সবাই খাদ্য দিচ্ছে। তারপরেও খেয়ে না খেয়ে গাড়িতেই ঘুমাচ্ছি। এতে কি আর জীবন চলে! আমরা খাদ্য চাই না, দেশে ফিরতে চাই।”

ভারতের পেট্রাপোল বন্দর ক্লিয়ারিং এজেন্ট স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, “আমরাও কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়ার চেষ্টা করছি। অনুমতি পেলেই ওরা লরিসহ ভারতে ফিরবেন।”

বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক মামুন কবির তরফদার বলেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে বেনাপোল স্থলবন্দরের ইয়ার্ডের ভেতরেই ট্রাক ও চালকদের খাবার ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বন্দর, কাস্টমস ও সিএন্ডএফ এজেন্টরা চালকদের খাদ্য সহায়তা দিচ্ছেন। চালকরা নিজেরাই রান্না করে খাচ্ছেন।

“দ্রুত সমস্যা সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি; তবে ওদের ফিরিয়ে নেওয়া নির্ভর করছে সেদেশের ওপর। অনুমতি পেলে যে কোন মুহুর্তে চালক ও ট্রাকগুলো ফেরত পাঠানো হবে।”

সূত্র কৃতজ্ঞতা- বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম