করোনাকালে বিদেশ যাওয়ার অপেক্ষায় লক্ষাধিক কর্মী

প্রকাশিত: ১০:১৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০২০
ছবি: সংগৃহীত

করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে বিদেশ যেতে না পারা এক লাখের বেশি কর্মী অপেক্ষমাণ আছেন। তাদের মধ্যে ৮৫ শতাংশ সৌদি আরবসহ মোট ৯৫ শতাংশ যাবেন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে।

আজ বুধবার অনলাইনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এক প্রশ্নের জবাবে জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান এ তথ্য জানান। খবর- ইউএনবি

বায়রা মহাসচিব বলেন- ‘বিদেশগামী এক লাখ কর্মীর মধ্যে কারও ভিসা হয়েছে, কারও টিকিট করা হয়েছিলো। কিন্তু করোনাভাইরাস ছড়ানো শুরু হওয়ায় তারা বিদেশ যেতে পারেন নি। তারা যেনো সবাই বিদেশ যেতে পারেন সে বিষয়ে কোরবানির ঈদের পর নিয়োগকর্তা দেশের সঙ্গে কথা বলবো।’

এসব কর্মীর ভিসা ও টিকিটসহ বিভিন্ন কাজ করতে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর প্রায় ১৬ কোটি টাকা খরচ হয়েছে উল্লেখ করে শামীম আহমেদ চৌধুরী বলেন- ‘এ বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। এ বিষয়ে সরকারি প্রণোদনা চেয়েছি।’

কোভিড-১৯ এর আগে বিভিন্ন দেশ থেকে ছুটিতে আসা কর্মীরা যাতে আবার যেতে পারেন সে বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে জানিয়ে শামীম আহমেদ চৌধুরী বলেন- ‘করোনার পরে আমরা দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর জন্য কাজ করবো, যাতে কোনো দুর্যোগ আসলেও আমাদের কর্মীদের কোনো সমস্যা না হয়।’

এ সময় বায়রা সভাপতি বেনজীর আহমেদ বলেন- ‘বিশ্বব্যাপী যে মহামারি চলমান তার কারণে অন্যান্য খাতের মতো আমাদের এ খাত ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। এ উদ্ভুত পরিস্থিতির কারণে আমাদের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সচল রাখা প্রায় অসম্ভব।’

বেনজীর আহমেদ জানান, তাদের প্রায় এক হাজার ৬০০ এজেন্সির ৩২ হাজারের অধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। বর্তমান এ স্থবির অবস্থায় কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাসিক বেতন-ভাতা দেওয়া ও অফিস ভাড়াসহ অন্যান্য খরচ বহন করা তাদের জন্য প্রায় দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।

মতবিনিময়ে জানানো হয়- বায়রার সদস্য রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে প্রতিবছর গড়ে সাত লাখের অধিক কর্মী বিভিন্ন পেশায় কর্মসংস্থানের জন্য বিশ্বের প্রায় ১৫৬ দেশে গমন করে থাকেন। তাদের বছরে প্রেরিত প্রায় ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স জাতির অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে স্বীকৃত।