করোনাকালেও চলছে মহাসমারোহে একদলীয় শাসনকে চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার আয়োজন: রিজভী

প্রকাশিত: ১১:২৩ অপরাহ্ণ, জুন ৯, ২০২০

করোনাকালেও চলছে একদলীয় শাসনকে চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার আয়োজন!

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে এক ভিডিও কনফারেন্সে বক্তব্য দেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘বাংলাদেশে এখন করোনাকালেও চলছে মহাসমারোহে একদলীয় শাসনকে চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার আয়োজন।’ তিনি বলেন, ‘সরকার মনে হয় এক মহা অস্থিরতায় ভুগছে। তাই, নিজেদের পছন্দের লোকদের পদোন্নতি দেওয়ার হিড়িক চালাচ্ছে।’ রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় এক ভিডিও কনফারেন্সে এ কথা বলেন রিজভী।

এ সময় রিজভী আরও বলেন, ‘গত কয়েকদিন আগে ১২৩ জন উপসচিবকে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার সরকারি ছুটির দিনে এই আদেশ দেওয়াও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। পদ নেই, তবুও পদোন্নতি চলছে আলোর গতিতে। পর্যাপ্ত পদ না থাকায় বেশিরভাগ কর্মকর্তাকেই আগের পদে থাকতে হবে। সরকারের এই সুপারনিউমারি পদোন্নতি সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক স্বার্থে। পদোন্নতিপ্রাপ্তদের মধ্যে আছেন চারজন মন্ত্রীর একান্ত সচিব ও ছয়জন জেলা প্রশাসকসহ আওয়ামী ঘনিষ্ঠরা। এই ঘোর দুর্দিনে পদ না থাকা সত্ত্বেও এতগুলো পদোন্নতি দেওয়ায় এটা সুপ্রমাণিত যে, সরকার জনগণের বাঁচা-মরাকে তোয়াক্কা করে না। শুধু ক্ষমতাকে অনিশ্চয়তার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য যত ধরনের স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা দরকার, তারা সেটিই করছে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘করোনাভাইরাস যখন ঝড়ের বেগে বাংলাদেশের মানুষকে আক্রান্ত করছে, প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ মারা যাচ্ছে, যে মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন অক্সিজেন সিলিন্ডার, বেড, আইসিইউ বেড, মাস্ক, গ্লাভস, ফেসশিল্ড, স্যানিটাইজারের, সেই মুহূর্তে পদ না থাকার পরেও এই বিশাল পদোন্নতি করোনায় উদ্বিগ্ন জনগণের প্রতি মস্ত বড় তামাশা। দেশে লাশের সারি দীর্ঘ হলেও, হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে মানুষ আহাজারি করলেও সরকারের সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। সরকারের গদি কীভাবে রক্ষা হবে, নব্য বাকশালী শাসন কীভাবে শক্তিশালী হবে, সেদিকেই তারা এগিয়ে যাচ্ছে।’

রিজভী আরও বলেন, ‘২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকেই দলীয় বিবেচনায় ঢালাও নিয়োগ ও পদোন্নতি চলছে। অনেক মেধাবী কর্মকর্তা যোগ্যতা থাকার পরেও তাদের পদোন্নতি হয়নি। কুষ্ঠিনামা যাচাই করে শুধুমাত্র তাদেরই পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে, যারা ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে নানাভাবে যুক্ত। এই সরকারের পুরোটা সময় জুড়ে বঞ্চিত করা হয়েছে সৎ, যোগ্য ও মেধাবী কর্মকর্তাদের। তবে এ মুহূর্তে প্রশাসন ক্যাডারে এতগুলো কর্মকর্তার পদোন্নতি জনগণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। যে মুহূর্তে একটি ভেন্টিলেটর, একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার, একটি পিপিই সোনার হরিণের ন্যায়, সে মুহূর্তে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পদোন্নতি পাওয়া এতজন কর্মকর্তার জন্য সরকারিভাবে যে ব্যয় হবে, সেই অর্থ করোনার হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার সরঞ্জাম ক্রয়ে সহায়ক হতো।’

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘এ সরকার নিজেদের জনগণের শত্রু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এখন জনপ্রশাসনকেও জনগণের বিরুদ্ধশক্তি হিসেবে দাঁড় করাচ্ছে।’