করোনাকে হারিয়ে দিচ্ছে ‘পুরোনো’ পদ্ধতি

প্রকাশিত: ৪:৫৫ অপরাহ্ণ, জুন ১, ২০২০

যারা মনে করেন করোনার বিপক্ষে লড়াইটা সহজে সফল করতে পারে আধুনিক কোনো অ্যাপ, তাদের ভুল ভেঙে দেবে যুক্তরাষ্ট্রের লুসিয়া, সিঙ্গাপুরের এডউইন এবং জার্মানির ফ্রান্সিসকার গল্প৷

লুসিয়া আবাসকাল স্যানফ্রান্সিসকোর একজন কন্টাক্ট ট্রেসার৷ তার কাজই হলো মানুষের সঙ্গে কথা বলে কেউ করোনায় সংক্রমিত কিনা তা জানা, সংক্রমিত হলে তাকে চিকিৎসার প্রক্রিয়ায় নেয়া৷ সংক্রমণের ঝুঁকিতে যারা, তাদের কোয়ারান্টিনে রাখার ব্যবস্থা করাও লুসিয়ার দায়িত্বের অংশ৷

ঘরে বসেই কাজ করেন লুসিয়া৷ তথ্য সংগ্রহের জন্য কথা বলেন মোবাইলে৷ প্রতি জনের সঙ্গে ১৫ মিনিট করে কথা বলে সব তথ্য জেনে ওপেন সোর্স সফটওয়্যারের মাধ্যমে সেভ করে রাখেন৷ কথা বলে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নেয়া হয় উপযুক্ত ব্যবস্থা৷ কোনো কোভিড অ্যাপ নয়, এক সময় ইবোলার সংক্রমণ ঠেকানোয় সফল ওপেন সোর্স সফটওয়্যারের মাধ্যমেই দারুণ কাজ করে যাচ্ছেন লুসিয়া৷

একা কাজ করছেন না লুসিয়া৷ মহামারির বিরুদ্ধে একা আর কতটুকু করা যায়! মেক্সিকান বংশোদ্ভূত এই নারী স্যানফ্রান্সিসকোর ৪০ জনের একটা বিশেষ দলের সদস্য৷ চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং মেডিকেলের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে গড়া এই দল করোনা পরীক্ষা এবং করোনায় সংক্রিমতদের চিকিৎসার পাশাপাশি যাদের কোয়ারান্টিনে থাকার মতো জায়গা নেই তাদের হোটেল বা অন্য কোনো স্থানে রেখে খাবারও দিয়ে থাকে৷

অ্যাপ ব্যবহার না করার কারণ জানাতে গিয়ে লুসিয়া বলেন, ‘‘কেউ স্টারবাকসে গিয়েছে কিনা তা বলতে পারে অ্যাপ, কিন্তু পরীক্ষা করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে কিনা, কিংবা তাদের পরিবার চালাতে কষ্ট হয় কিনা, তা বলতে পারে না৷ এ কাজে এমন জটিলতা আছে যা কোনো অ্যাপ এখনো ঠিক করে উঠতে পারে না৷’’

এডউইন ফিলিপ এবং ফ্রান্সিসকা ভাইসও করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কোনো অ্যাপ ব্যবহার করছেন না৷ এডউইন ফিলিপ কাজ করছেন সিঙ্গাপুরে আর ফ্রান্সিসকা ভাইস জার্মানিতে৷

সিঙ্গাপুরের জেনারেল হাসপাতালের কন্টাক্ট ট্রেসার এডউইনেরও মূল হাতিয়ার ‘হিউম্যন কন্টাক্ট ট্রেসিং’, অর্থাৎ মানুষের সঙ্গে কথা বলে সব তথ্য জেনে চিকিৎসা শুরু করার পদ্ধতি৷ এই প্রক্রিয়ায় সার্স ভাইরাসকে হারিয়েছিল সিঙ্গাপুর৷ চীন, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো এশিয়ার আরো কিছু দেশ অ্যাপকে দূরে রেখে শুধু এই পদ্ধতি অনুসরণ করেই বাঁচাচ্ছে অসংখ্য মানুষের প্রাণ৷

যুক্তরাষ্ট্রের লুসিয়া আর সিঙ্গাপুরের এডউইনের মতো জার্মানির বাভারিয়া রাজ্যের ফ্রান্সিসকাও কোরোনায় সংক্রমিতদের চিকিৎসা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের ঝুঁকির বাইরে রাখছেন ট্রেসার হিসেবে কাজ করে৷ ২৫০০ সদস্যের এক দলের হয়ে কাজ করতে তাকে অবশ্য নিয়মিত অফিসে যেতে হয়৷

লুসিয়া কাজ করেন ঘরে বসে, এডউইনের কর্মস্থল হাসপাতাল আর ফ্রান্সিসকার কর্মস্থল বড় একটা অফিস৷ তবে কর্মস্থল ভিন্ন হলেও একটা জায়গায় তিনজনেরই খুব মিল৷ তিনজনের কেউই কোনো অ্যাপ ব্যবহার করছেন না৷

সূত্রঃ DW