ঔষধ কিনে বাড়িতে মজুদ, বিশেষজ্ঞদের অনুৎসাহ ও ঝুঁকির আশংকা

প্রকাশিত: ৫:১৪ অপরাহ্ণ, জুন ১০, ২০২০

করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় এখনো পর্যন্ত কোন ঔষধ আবিষ্কৃত হয় নি। কোন টিকাও নেই। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির যেসব লক্ষণ প্রকাশিত হয়, তার চিকিৎসায় এখন যেসব ঔষধ ব্যবহৃত হচ্ছে সেগুলোই দেয়া হচ্ছে কোভিড ১৯ রোগীদের।

 যেসব ঔষধে সুবিধা পাচ্ছেন বলে চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন সেগুলো প্রচুর পরিমাণে কিনে বাড়িতে মজুদ করে রাখছেন বহু মানুষ। সেই সুযোগে অনেক ঔষধের দাম বেড়ে গেছে। এসব ঔষধ কিনে বাড়িতে মজুদ করার ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে এর নানা ধরনের ঝুঁকি রয়েছে।

যেসব ঔষধের বিক্রি বেড়ে গেছে

ঢাকার কয়েকটি বড় ফার্মেসির সাথে কথা বলে জানা গেল যেসব ঔষধের বিক্রি বেড়েছে তা হল ঠাণ্ডা, হাঁপানি, সাইনোসাইটিস ও অ্যালার্জির ঔষধ। শরীরে নানা ধরনের ‘প্যারাসাইট’ আক্রমণ প্রতিহত করে এমন ঔষধ। ব্যাকটেরিয়াজনিত প্রদাহ প্রতিরোধ করে এমন অ্যান্টিবায়োটিক।

প্যারাসিটামল, ভিটামিন-সি, জিঙ্কের ঘাটতি পূরণ করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এমন সম্পূরক ঔষধ। জ্বর, শুষ্ক কাশি, শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যাই মূলত প্রধান লক্ষণ।

কেনো কিনছে মানুষজন?

আজকাল ঔষধের দোকানে অন্যসময়ের তুলনায় অনেক বেশি মানুষ দেখা যায়। বেশ কিছু ঔষধ কিনে বাড়িতে রেখে দিয়েছেন ঢাকার এমন এক বাসিন্দা বলছেন, “বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপরে আমার আস্থা নেই। সেখানে চিকিৎসা সম্পর্কে যেসব খবর পড়ছি, তাতে আমি এখন হাসপাতালে যেতে চাই না। তাই বাড়িতেই দরকারি ঔষধ কিনে রেখে দিয়েছি। একটু ভয় কাজ করছে মনে।”

তিনি বলছেন, আগেভাগে পরিবারের সবার শরীরকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী করে তুলতে চান তিনি। তাই তিনি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে এমন সম্পূরক ঔষধও কিনেছেন।

ঝুঁকি কোথায়?

ভাইরোলজির চিকিৎসক ডা: নজরুল ইসলাম বলছেন, “ধরুন শরীরে কিছু অর্গানিজম থাকে। আপনি বেশি অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে ফেললেন বা দরকার না থাকলেও খেলেন, তখন সেই অর্গানিজম অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে ওঠে। নির্দিষ্ট সেই অ্যান্টিবায়োটিক, যেটা আপনি বেশি খেয়েছেন তখন সেটা কার্যকারিতা হারায়। আপনার যখন সত্যিই কোন প্রদাহ তৈরি হবে, তখন সেই অ্যান্টিবায়োটিক আর কাজ করবে না অথবা আংশিক কাজ করবে। এজন্য অ্যান্টিবায়োটিক যত কম খাওয়া যায় ততই ভাল।”

তিনি বলছেন, ঔষধ দরকার হলে উপকারী, কিন্তু প্রয়োজন ছাড়া ব্যবহার করলে ক্ষতিই বেশি।

অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলছেন, “করোনাভাইরাসে এই ঔষধ কাজ করে, এটা করে না এরকম জনশ্রুতি শোনা যাচ্ছে। কোন চিকিৎসক হয়ত একটা ঔষধের কথা বললেন, কোন দেশের প্রধান হয়ত একটার কথা বললেন, এতে মানুষ বিভ্রান্ত হয়। একারণেই মানুষজন নিজেরা ঔষধ কিনে কিনে মজুদ করছে যা খুবই বিপদজনক।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসির অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার বলছেন, “প্রতিটা ঔষধেরই কোন না কোন সাইড এফেক্ট আছে। একেক জনের একেক রকম সাইড এফেক্ট হয়। চিকিৎসকেরা প্রশ্ন করে সেগুলো জেনে নেন আর সেই অনুযায়ী ঔষধ দেন। কিন্তু আপনি নিজে নিজে খেলে সেটা জানবেন না। তাতে আরও উল্টো সাইড এফেক্ট হয়ে বিপদ বাড়বে।”

তিনি আরও বলছেন, “এখন দরকার নেই, তবুও একটা রোগ হতে পারে সেটা ভেবে একটা টক্সিক জিনিস শরীরে ঢোকানোর কোন মানে হয় না।”