এরদোয়ানের সাংস্কৃতিক লড়াই

প্রকাশিত: ৯:৫৩ অপরাহ্ণ, জুন ১৯, ২০২০
ছবিঃ DW

লিখেছেনঃ সৈয়দ শামসুল হুদা।

 

ইসলামকে সামগ্রীকভাবে সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে বিজয়ী করতে হলে যেসকল বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে তার মধ্যে অন্যতম হলো সংস্কৃতি। একটি দেশের সামগ্রিক সংস্কৃতির ওপর নির্ভর করে দেশটি কোন দিকে যাবে,কোন দিকে যাচ্ছে। যাপিত জীবনের একটি বাস্তবধর্মী চিত্রই হলো সে দেশের সংস্কৃতি। দৈনন্দিন জীবনের বিরাট একটি অংশজুড়ে প্রভাব বিস্তার করে আছে এই সংস্কৃতি। এটাকে অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই।

 

বিদ্যমান সংস্কৃতির প্রভাব নতুন প্রজন্মের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভর করে। তারা যা দেখে অভ্যস্থ হয়ে বড় হয়,তা থেকে তাদেরকে ফিরিয়ে আনাটা অনেক বেশি কঠিন হয়ে যায়। সেজন্যই আমাদের পারিবারিক সংস্কৃতি,আমাদের সামাজিক সংস্কৃতি এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কৃতির সব ক্ষেত্রেই ব্যাপক পরিবর্তন ছাড়া ইসলামের আদর্শিক,নৈতিক বিজয় সম্ভব নয়। ধর্ম কোন মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়। ধর্ম একটি বিশ্বাসের সমষ্টির নাম। যা দ্বারা সে প্রভাবিত হয়,আলোড়িত হয়। নিয়ন্ত্রিত হয়।

 

তুরস্কে এই সাংস্কৃতিক লড়াইটা ছিলো অনেক বেশি কঠিন। দীর্ঘ ৬শ’বছরের উসমানী খেলাফতকে ধ্বংস করার পর কামাল আতাতুর্কের আদর্শে বড় হওয়া একটি প্রজন্ম কীভাবে,কতদূর ইসলাম থেকে দূরে সরে গিয়েছিলো,তা এরদোয়ান সরকারের বিরুদ্ধে আনীত কয়েকটি অভিযোগের ধরণ থেকে কিছুটা হলেও বোঝা যাবে। ২০০৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এরদোয়ানের সাথে সেনাবাহিনী এবং সাংবিধানিক কোর্টের দ্বন্ধের বিষয়টা প্রকাশ্যে আসে। রেফারেন্ডামের মাধ্যমে সে যাত্রায় তারা কোনভাবে বিজয়ী হয়। কিন্তু আবারও একে পার্টি বন্ধসহ শীর্ষ নেতারা রাজনীতিতে নিষিদ্ধের ঝামেলায় আটকে যায়।

 

তুর্কী সেনাবাহিনী।

 

২০০৮সালের ৮ মার্চ সেক্যুলার রাষ্ট্রের নিয়মনীতি না মানার অপরাধে প্রধানমন্ত্রী এরদোয়ান,প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ গুলসহ ৭১ নেতাকে রাজনীতিতে নিষিদ্ধের আবেদন করে সাংবিধানিক কোর্টে বিচার চাওয়া হয়। একেপার্টি এবং এরদোয়ানের বিরুদ্ধে সেক্যুলার তুরস্কের মূলনীতি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়। এরদোয়ান ও একেপার্টির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয় তা দেখলে বুঝা যায় তুরস্ককে সাংস্কৃতিকভাবে কামাল আতাতুর্ক কতদূর পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিলো। সেই জায়গা থেকে এরদোয়ানদের উঠে আসাটা কতো যে কঠিন ছিলো তা নিম্নের অভিযোগপত্রের তালিকা দেখলেই কিছুটা অনুভব করা যায়। আসুন,অভিযোগগুলোর দিকে একবার চোখ বুলিয়ে নিই। অনেকগুলো অভিযোগের মধ্যে প্রধান প্রধান অভিযোগগুলো হলো এমন :

১। এরদোয়ান সরকার বিকিনির বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দিয়েছে।

২।  শহরের মদ বিক্রির এলাকাকে ‘রেডলাইট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

৩। একে পার্টির কিছু মেয়র কর্তৃক পৌরসভায় মদনিষিদ্ধকরণ।

৪। ইমাম হাতিপ স্কুলের ছাত্রদের আলাদা পরিবহণ সুবিধা দেওয়া।

৫। ইমাম হাতিপ স্কুলের মেয়েদের বিনামূল্যে বাস সার্ভিস প্রদান।

৬। সমাজে আলেমদের গুরুত্ব দেওয়া।

৭। এরদোয়ান ও তার মন্ত্রীদের ইসলামী মূল্যবোধের পক্ষে বক্তব্য দেওয়া।

৮। হিজাবী মহিলাদের চাকুরিতে প্রবেশ সংক্রান্ত বক্তব্য দেওয়া।

৯। সরকারী উদ্যোগে কুরআন বিতরণ।

 

সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে একে পার্টির ব্যাপারে সাংবিধানিক আদালতে অভিযোগপত্র দ্বারা প্রমাণিত হয়, একে পার্টি যা করছিলো, ধর্মের দিক থেকে,মানবিক মূল্যবোধের দিক থেকে সঠিক অবস্থানেই ছিলো। কিন্তু তুরস্কের সামরিক বাহিনী কামাল আতাতুর্ক -এর সময় থেকে যে ইস্যুরভিত্তিতে এতোদিন ক্ষমতা প্রয়োগ করে আসছিলো,সেই ইস্যুগুলোকে এরদোয়ান ধীরে ধীরে কবর দিয়ে দিচ্ছেন তা তারা বুঝতে পারছিলো। তারা তখন থেকেই আতঙ্কিত ছিলো।

 

 

মামলার পরিণতি :

একে পার্টি যথাসময়ে তাদের কর্মকাণ্ডের আইনি ব্যাখ্যা দেয়। শুনানী শেষে সাংবিধানিক আদালতের ১১ জন বিচারপতির মধ্যে ৬ জন একে পার্টিকে নিষিদ্ধের পক্ষে রায় দেয়। ৪ জন একে পার্টির বাৎসরিক সরকারি বাজেটের অর্ধেক কর্তনের নির্দেশ দেয়। বাকী থাকে একজন। তিনি হলেন প্রধান বিচারপতি। একে পার্টির নিষিদ্ধের জন্য ৭ জনের রায় প্রয়োজন ছিলো। প্রধান বিচারপতি একে পার্টির পক্ষে রায় দেন। তবে রায় ঘোষণার পূর্বে একে পার্টিকে তিনি এই মামলা থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহবান জানান। সেই সঙ্গে পার্টি নিষিদ্ধ হলে রাষ্ট্রের কী কী ক্ষতি হতে পারে,সেগুলোরও উল্লেখ করেন। কতোটা ঝুঁকি এবং রাজনৈতিক চাপকে সহ্য করে এরদোয়ানদের ক্ষমতায় টিকে থাকতে হয়েছে- এসব ঘটনা দ্বারা কিছুটা অনুভব করা যায়।

 

হিজাব পরিহিতা তুর্কী নারী।

 

তুরস্কে সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের অন্যতম ইস্যু হলো হিজাব :

তুরস্কের রাজনীতিতে হিজাব একটি গুরুত্বপুর্ণ ইস্যূ। তুরস্কের নারীরা দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে হিজাব পরিধানের দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলো। এই ইস্যুুকে কেন্দ্র করে অসংখ্য নারী কারাবরণ করেছে, নিজেদের প্রতিষ্ঠান থেকে চাকুরিচ্যুত হয়েছে,শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কৃত হয়েছে। হিজাবপরিহিতা এমপি মেরভেকা ভাকজির এর সংসদ সদস্যপদ বাতিল করে তার নাগরিকত্ব পর্যন্ত কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এই হিজাব ইস্যুকে কেন্দ্র করেই সামরিক বাহিনীর সহযোগিতায় নাজমুদ্দিন আরবাকানের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিলো।

 

২০০৬ সালের অক্টোবরে তুরস্কের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য একেপির অনেক নেতাকে অনুমতি দেন নি তদানীন্তন প্রেসিডেন্ট আহমেদ নেজেদ সিজার। কেননা,তাদের স্ত্রীরা হিজাব পরতেন। অনুমতি না পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী এরদোয়ানও ছিলেন। ২০০৭ সালে হিজাব খুলতে রাজি না হওয়ায় তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী এরদোয়ানের স্ত্রীকে সামরিক হাসপাতালে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় নি। চিকিৎসা না নিয়েই তাকে ফিরে আসতে হয়েছিলো। একে পার্টি ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রীয় আইনকে তোয়াক্কা না করে তৎকালীন ফার্স্ট লেডি হায়রুন্নেছাগুল(সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহগুল এর স্ত্রী) হিজাব পরিধান করায় সরকার সামরিক বাহিনীর সাথে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্ধে জড়িয়ে পড়ে।

 

২০০৯ সালের ১সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রীয় প্রোগ্রামে প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহগুলের সাথে তার হিজাবপরিহিতা স্ত্রী থাকায় জেনারেল আসলানগুনের প্রেসিডেন্টকে রাষ্ট্রীয় প্রটৌকলে রিসিভ করেন নি। অধ:স্তনদের রেখে তিনি সেই স্থান ত্যাগ করে চলে যান। তুরস্কের নারী স্বাধীনতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার এই অন্ধকারাচ্ছন্ন সময় থেকে এরদোয়ান ধীরে ধীরে জনগণকে শুধু মুক্তই করেন নি,নতুন কিছু করার স্বপ্নও জাগিয়ে তুলেছেন। কিছু সাহসী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সকলের জন্য হিজাবের এই সমস্যাকে দূর করে উম্মুক্ত করে দিয়েছেন। ১৫জুলাই ২০১৭ সালের সামরিক অভুত্থানের পর থেকে এরদোয়ান এসব সাংবিধানিক কোর্ট,সেনাবাহিনীর খবরদারি,বিচারপতিদের খামখেয়ালীর ক্ষেত্রগুলোকে উপড়ে ফেলেছেন। 

 

এরদোয়ানের বিরুদ্ধে ২০০৬ সালে যে মামলা ঠুকে দেওয়া হয়, যেসব অভিযোগ আনা হয়,তার সবই ছিল সত্য। এসব অভিযোগে এরদোয়ান অভিযুক্ত। কিন্তু সেদিন ক্ষমতাসীন হওয়া সত্ত্বেও প্যারালাল সরকার তথা বিচার বিভাগ ও সামরিক বিভাগের তথাকথিত সাংবিধানিক আদালতকে ক্ষেপিয়ে না তুলে কৌশলের আশ্রয় নিয়েছিলেন এরদোয়ান। তিনি ধৈর্য ধরেছিলেন। এর সুফল তিনি এখন পাচ্ছেন। আজ সেই বিচারপতিরা নেই। আজ সেই সামরিক অফিসাররা নেই। তাদের বাড়াবাড়ির দিন শেষ হয়ে গেছে। এরদোয়ান শুধু এখানে এসেই থেমে যান নি। তিনি এই সাংস্কৃতিক লড়াইটাকে শুধু তুরস্কেই নয়,সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে এমন সব ড্রামা সিরিয়াল তৈরী করছেন,যেখানে ইসলামী আদর্শের সকল কিছু বিদ্যমান থাকে। সুলতান আব্দুল হামীদ, দিরিলিস আরতুগ্রুল,কুরুলুস উসমান ইত্যাদি চলচিত্রের মাধ্যমে তুরস্কের নতুন প্রজন্মের সামনে কোনটি সত্যিকার চেতনা,কোনটি সত্যিকার আদর্শ তা সগৌরবে তুলে ধরেছেন।

 

দিরিলিস আরতুগ্রুলের পোস্টার।

 

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতায় যেসব ড্রামা সিরিয়াল করা হচ্ছে তার মধ্যে দিরিলিস আরতুগ্রুল,কুরুলুস উসমান অন্যতম। এসবকে শুধু সিনেমা বললে ভুল হবে। এগুলো তুরস্কের গৌরবময় অতীতের বাস্তব চিত্র। পরিবারে নারীর ভূমিকা,পুরুষদের করণীয়,পারিবারিক বন্ধন,নারীর অবস্থান,গৃহবিবাদ, খুব কাছের লোকদের থেকে একের পর এক সুগভীর ষড়যন্ত্র, এসব বিষয় এমনভাবে ইতিহাসের প্রতিটি স্তরে স্তরে তুলে আনা হয়েছে, যাতে রয়েছে প্রতিটি নাগরিকের জন্য শিক্ষা। রাজনৈতিক দল,সংগঠন ইত্যাদির জন্য রয়েছে শিখার অনেক কিছু। আজকের মুসলিমবিশ্ব কোথায় অবস্থান করছে, কেন তাদের এই দূরাবস্থা তা বুঝতে হলে এসব চলচ্চিত্র অনেক বেশি সহায়ক ভূমিকা রাখবে। আর সেজন্যই এসব চলচ্চিত্র শুধু তুরস্কেই নয় মুসলিম বিশ্বের প্রতিটি দেশেই মাতৃভাষায় ডাবিং করা হচ্ছে, প্রচার করা হচ্ছে। এটা যতো বেশি প্রচার হবে,ততোই মুসলমানদের মধ্যে সচেতনতা তৈরী হবে। তারা তাদের করণীয় বুঝতে পারবে। তারা তাদের শত্রু-মিত্র চিনতে পারবে।

 

মুসলিমবিশ্বের নেতাদের সামনে পাশ্চাত্য এক ধরণের পর্দা ফেলে রেখেছে। যে কারণে তারা সত্য-মিথ্যা নির্ণয় করতে পারছে না।পাশ্চাত্যের অন্ধ অনুকরণপ্রিয়তা তাদেরকে বধির বানিয়ে দিয়েছে। এরদোয়ান এটা খুব ভালো করেই বুঝতে পেরেছেন যে, শুধুমাত্র হুকুম জারি করে ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করা যাবে না। মানুষের জীবনযাত্রাকে তাদের ভিতর থেকেই বদলে দিতে হবে। কামালীয় আদর্শের কবর রচিত হচ্ছে এসব নাটক-সিনেমার মাধ্যমে। তরুণ প্রজন্মও সেভাবেই গড়ে উঠছে যেভাবে উসমানী খেলাফতের মহানায়কদের উত্থান ঘটেছিলো। উসমানী খলিফাদেরকে এতোদিন খলনায়ক হিসেবে সকল মিডিয়ায় উপস্থাপন করতো,তাদের চরিত্রকে কলুষিত করতে কোন ত্রুটি করতো না। আর এখন দিন বদলে গেছে। এসব সাংস্কৃতিক লড়াইয়ে এরদোয়ানের সামনে একটি লক্ষ্য রয়েছে। ২০২৩সালকে সামনে রেখে কুরুলুস উসমান ড্রামা সিরিয়ালটি প্রচার শুরু করেছে। ১৯২৪ সালে কামাল আতাতুর্কের মাধ্যমে উসমানি খেলাফতের বিলুপ্তি ঘটেছিলো। ২০২৩ সালে সেই উসমানি খেলাফতের পুনরুত্থান না ঘটলেও সিনেমাজগতে এক আলোড়ন জাগাবে কুরুলুস উসমান।

 

কুরুলুস উসমান সিরিয়ালের পোস্টার।

 

আমাদের দেশে হুমায়ুন আহমদের বাকের ভাইয়ের ফাঁসি যেমন জনমনে তুমুল ঝড় তুলেছিলো, এরদোয়ান ঠিক সেই ক্যারিশমেটিক কাজটিই করতে যাচ্ছেন। জনমানুষ থেকেই আওয়াজ উঠবে-শুধু সিনেমার জগতেই নয়,বাস্তব জগতেও আমরা সেই উসমানি খেলাফত না হোক,অন্তত তার আদলে কোন সরকার চাই। এইসব গণতন্ত্র দিয়ে পাশ্চাত্যের গোলামী ছাড়া কিছুই জুটবে না। কতদিন গোলামী করা হবে? এটাই হবে এরদোয়ানের সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের চূড়ান্ত সফলতা।

 

একটি প্রজন্মকে সাংস্কৃতিকভাবে জাগিয়ে তুলতে পারলে এদেরকে কোন শক্তিই দাবিয়ে রাখতে পারবে না। বর্তমান তুরস্ক সরকার ও এরদোয়ান সেই কাজটিই করছে। আশা করা যায় অচিরেই মুসলিম বিশ্বে বড় ধরণের পরিবর্তন আসবে। আর এর পিছনে এসব ড্রামা বড় ধরণের ভূমিকা রাখবে। বর্তমান মুসলিম বিশ্বের সর্বত্র পশ্চিমাদের অন্ধ আনুগত্য বিরাজ করছে। নিজস্ব সাংস্কৃতিক বলয় তৈরীর মাধ্যমে পাশ্চাত্যকে চ্যালেঞ্জ করতে পারলেই সফলতা সম্ভব।