উপ-কমিটির গঠন নিয়ে নতুন করে ভাবছে আওয়ামী লীগ

প্রকাশিত: ১:২৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৬, ২০২০

উপ-কমিটি গঠন, সহ-সম্পাদক বা সদস্য নিয়োগ এসব নিয়ে কঠোর নীতিমালা তৈরির কথা ভাবছে আওয়ামী লীগ। উপ-কমিটিগুলোর সদস্য সংখ্যাও সীমিত করা হবে। আর সদস্যদের নিযুক্ত করা হবে ব্যপক যাচাই-বাছাইয়ের পর। সাহেদকাণ্ড নিয়ে বিব্রত আওয়ামী লীগের এমন ভাবনার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

ছাত্রলীগ শেষে আওয়ামী লীগ, বর্তমান নেতৃত্বের বড় অংশের শুরুটা সহ-সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের মধ্যে দিয়ে। যে ধারা ছিলো ২০০৮ সালে দল ক্ষমতায় আসার পরও। ঢালাওভাবে সহ-সম্পাদক পদ করা নিয়ে ছিলো সমালোচনা।

এবার আলোচনায় এসেছে রিজেন্ট হাসপাতালের সাহেদের উপ-কমিটির সদস্য হওয়ার বিষয়টি। সাহেদ আর্ন্তজাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক পরিচয় দিলেও দলটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ জানান- ‘গতবারের কোনো উপকমিটিরই লিখিত অনুমোদন ছিলো না। এই কমিটি আওয়ামী লীগ সভাপতি অনুমোদন দেন নি।’ কিন্তু সব বৈঠকে ঠিকই যোগ দিতেন তিনি। এমনকি মঞ্চেও আসীন হতে দেখা গেছে তাকে।

দলের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের আগে উপ-কমিটির সহ-সম্পাদকের পদ বিলুপ্ত করে শুধু সদস্য রাখা হয়। গঠনতন্ত্রে ‘যারা বিভিন্ন সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, তারা পদাধিকার বলে সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত উপ-কমিটির সদস্য হবেন। সংগঠনের সভাপতি কর্তৃক উপ-কমিটির সদস্য সংখ্যা নির্ধারিত হবে এবং তিনি উপ-কমিটিসমূহ গঠন করে দিবেন।’ এমন বলা হলেও প্রতিটি উপ-কমিটিতেই ঢালাওভাবে সদস্য হতে দেখা গেছে।

 

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান বলেন- ‘এই উপ-কমিটির বৈধতা নিয়ে এবং দলের আনুষ্ঠানিক যে অনুমোদন সেটা মাননীয় নেত্রী তিনিই দিবেন। তিনি যতক্ষণ পর্যন্ত এই কমিটির অনুমোদন দেবেন না ততক্ষণ এই কমিটির সদস্য হিসেবে কেউ পরিচয় দিতে পারবেন না। সাহেদ কখনই দলের কেউ ছিলো না, এখনও কেউ না।’

উপ-কমিটিগুলোকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে নতুন করে ভাবনা শুরু হয়েছে দলে। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন- ‘উপ-কমিটি নিয়ে অবশ্যই একটা নীতিমালার মধ্যে আসা উচিত। এই কমিটিতে কার কী অবস্থা আমরা সিভিগুলো দেখতে চাইবো ও চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হবে। যোগ্য ব্যক্তিরাই কি উপ-কমিটির সদস্য হয়েছেন নাকি এর পিছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য আছে।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন- ‘ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ কমিটিতে অনেক লোকের সংশ্লিষ্টতা থাকতে হয়। কিছু কমিটি বড় হতে হয়, কিন্তু কাজের জন্য কমিটিতে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা রাখা ভালো।’

 

ত্যাগী নেতারা বঞ্চিত হয়ে শাহেদের মতো অনুপ্রবেশকারীরা যেনো দলে ঢুকতে না পারে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে সম্পাদকদের।