ঈদ আনন্দে তুচ্ছ ভাইরাস আতঙ্ক

প্রকাশিত: ৪:১৪ অপরাহ্ণ, মে ২৪, ২০২০

করোনা ভাইরাস মহামারির আতঙ্ককে তুচ্ছ করে এশিয়ার দেশগুলোতে মুসলমানরা ঈদ আনন্দে মেতে উঠেছে৷

মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের একটি ঈদুল ফিতর৷ দীর্ঘ একমাস রোজা রাখার পর আসে ঈদ৷ কিন্তু এবার পৃথিবীর চিত্র ভিন্ন৷

বছরের শুরুতেই থাবা বিস্তার করতে থাকা কোভিড-১৯ এক সময় বৈশ্বিক মহামারির রূপ নেয়৷ একে একে লকডাউন হয়ে যায় বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ৷

বন্ধ হয়ে যায় স্কুল-কলেজ, অনুষ্ঠান-আয়োজন৷ জনসমাগম বন্ধ করে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে একে একে অফিস-আদালত, গণপরিবহন, বাজার এবং প্রার্থনালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়৷

লকডাউনের মধ্যেই শুরু হয় রোজা৷ ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, আফগানিস্তানের মতো মুসলমান অধ্যুষিত এশিয়ার দেশগুলোতে বাজার ও শপিংমল খুলতে শুরু করে৷ ঈদ আনন্দে লোকজন বাজার করা শুরু করে৷

যদিও সব দেশের সরকারই স্বাস্থ্যসুরক্ষা বিধি মেনে দোকান খোলার এবং ক্রেতাদের কেনাকাটা করার শর্ত বেঁধে দেয় এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেয়৷ কিন্তু বাস্তবে দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া কাউকে ওই সব নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা করতে দেখা যায়নি৷ লোকজন দোকানে ভীড় করে পছন্দের পোশাক, উপহার ও খাদ্যসামগ্রী কেনা শুরু করে৷

পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে ভীড়ের মধ্যে কেনাকাটা করতে যাওয়া চার সন্তানের মা ইশরাত জাহান বলেন, ‘‘দুই মাসের বেশি সময় ধরে আমার বাচ্চারা ঘরবন্দি হয়ে আছে৷ ঈদ তো বাচ্চাদের জন্যই৷ আর তারা যদি নতুন পোশাক পরে ঈদ উদযাপন করতে না পারে তবে সারা বছর ধরে আমাদের এত পরিশ্রমের তো কোনো মানেই থাকে না৷”

পাকিস্তানে ফেব্রুয়ারিতে প্রথম করোনা ভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত হয়৷ ভাইরাসের বিস্তার রোধে দেশজুড়ে ব্যবস্থা গ্রহণে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে মতভেদ আছে৷

অর্থনীতি বাঁচাতে দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমরান খান কঠোর লকডাউন আরোপে রাজি নন৷ তাই শুরুতে কিছুটা কড়াকড়ি আরোপ করা হলেও ঈদ সামনে রেখে তা শিথিল করা হয়৷

দেশটিতে গণপরবিহন ও ব্যবসা-বাণিজ্য খুলে দেওয়া হয়েছে৷ লাহোরে একটি বাজারে কেনাকাটা করতে যাওয়া সানা আহমেদ বলেন, ‘‘লকডাউনের কারণে অনেক কিছু কিনতে পারিনি৷ ঈদের পর আবার দোকানপাট বন্ধ হয়ে যাবে৷ তাই এখন আমাকে বাজার করতেই হচ্ছে৷ আমরা সারা জীবনের জন্য বন্দি থাকতে পারবো না,জীবন চালাতে হবে৷’’

এরকম আরো ‍অনেকেই ভীড়ে করোনা ভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকিকে উপেক্ষা করে বাজার করেছেন৷ তবে ব্যবসায়ীরা বলেন, বাজারে ক্রেতা অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক কম৷

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মুসলমানের বাস ইন্দোনেশিয়ায়৷ সেখানেও চলছে ঈদ উৎসব৷ পশ্চিম জাভা প্রদেশের একটি বাজারে আসা সিতি নেসিয়া বলেন, ‘‘আমি আতঙ্কে আছি৷ কিন্তু তারপরও বাইরে এসেছি, ঈদে আমার নতুন পোশাক চাইই চাই৷’’

মালয়েশিয়াতেও একই অবস্থা৷ তবে রাজধানী কুয়ালালামপুরের এক বিক্রেতা বলেন, ‘‘এ বছর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন৷ লোকজন বাইরে আসতে ভয় পাচ্ছে৷ ভবিষ্যতের চিন্তা করে অনেকে অর্থ বাঁচাতেও এবার কেনাকাটা করছেন না৷”

বাংলাদেশেও গত ১০ মে থেকে স্বাস্থ্যসুরক্ষা বিধি মেনে চলার শর্তে দোকানপাট খুলে দেওয়া হয়৷ রাজধানীতে বড় বড় কয়েকটি শপিংমল এবং বাজার ক্রেতা না পাওয়ার আশঙ্কায় দোকান খোলেনি৷

তবে দেশজুড়ে জেলা শহরগুলোতে দোকানে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে৷ সরকার কেনাকাটার সময় শিশুদের সঙ্গে না নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পরও পছন্দমতো পোশাক কিনে দিতে অভিভাবকরা সে নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা করেননি৷

তথ্যসূত্রঃ DW বাংলা