ই-অরেঞ্জের দুই মালিক কারাগারে

প্রকাশিত: ৮:২০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০২১

গ্রাহকের পণ্য অথবা পরিশোধ করা অগ্রিম অর্থ ফেরত না দেওয়ায় দেশীয় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে দায়ের করা অর্থ আত্মসাত মামলায় দুই মালিককে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে দায়ের করা এক হাজার ১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় জামিন নিতে গেলে ই-অরেঞ্জের মালিকদের মধ্যে সোনিয়া মেহজাবিন বা তার স্বামী এবং আরেক মালিক মাসুকুর রহমানকে কারাগারে পাঠান আদালত।

মঙ্গলবার (১৭ আগস্ট) ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর হাকিম আবু বক্কর সিদ্দিকের আদালতে তারা আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

গুলশান থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক আলমগীর হোসেন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পণ্যের নগদ টাকা পরিশোধের পর নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও অর্ডারকৃত পণ্য বুঝে না পেয়ে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে মামলা করেন একজন গ্রাহক। মঙ্গলবার (১৭ আগস্ট) সকালে রাজধানীর গুলশান থানায় মামলাটি করা হয়।

গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটির একজন গ্রাহক বাদী হয়ে একটি প্রতারণা মামলা করেছেন।

আসামিরা হলেন- মাসুকুর রহমান, আমানউল্ল্যাহ, বিথী আক্তার, কাউসার আহমেদ, সোনিয়া মেহজাবিনসহ ই-অরেঞ্জের মালিকরা। এজাহারে সবাইকে ই-অরেঞ্জের মালিক বলে দাবি করা হয়েছে।

ওসি বলেন, মামলার মূল বাদী তাহেরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির প্রতারণার শিকার দাবি করছেন এমন ৩৭ ব্যক্তির স্বাক্ষরও মামলার এজাহারে রয়েছে।

এর আগে, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের মালিকানা পরিবর্তনসহ কর্তৃপক্ষের কোনো খোঁজ না পেয়ে বিক্ষোভ করেন ই-অরেঞ্জে অর্ডার করে পণ্য বুঝে না পাওয়া ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।

সোমবার (১৬ আগস্ট) গুলশান-১ এর ১৩৭ নম্বর রোডে অবস্থিত ই-অরেঞ্জের কার্যালয় রোড এবং গুলশান-২ চত্বর আটকে আন্দোলন করেন ভুক্তভোগীরা।

বিক্ষুব্ধ ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারের চেয়ে অনেক কম মূল্যে মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য অনেক পণ্যের বিপরীতে প্রায় ২০০ কোটি টাকার অর্ডার নেওয়ার পর ই-অরেঞ্জের মালিক ও কর্মকর্তারা লাপাত্তা। তাই লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেও এখন তাদের দিন কাটছে দুশ্চিন্তায়। নিরূপায় হয়ে সোমবার দিনভর ক্রেতারা বিক্ষোভ করেছেন ই-অরেঞ্জের গুলশানের কার্যালয়ের সামনে।

তারা বলছেন, বারবার ডেলিভারির প্রতিশ্রুতির পরও পণ্য না পেয়ে বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমেছেন। এমন অবস্থায় ১৯ আগস্ট থেকে পর্যায়ক্রমে ডেলিভারির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ই-অরেঞ্জ।

প্রসঙ্গত, সারা দেশ থেকে অন্তত ২ লাখ ক্রেতা ই-অরেঞ্জের মাধ্যমে বিভিন্ন পণ্য অর্ডার করেছে।