আয়া সোফিয়া যাদুঘরকে মসজিদ ঘোষণার প্রতি সমর্থন জানালো রাশিয়া

প্রকাশিত: ১:২০ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০২০

তুরস্ক সরকারের পক্ষ থেকে আয়া সোফিয়া জাদুঘরকে মসজিদ হিসেবে ঘোষণা করার পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেছে রাশিয়া। রুশ উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ভেরশিনিন বলেছেন- এটি সম্পূর্ণ তুরস্কের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এতে বাইরের কোনো দেশের হস্তক্ষেপ কাম্য নয়।

তিনি এমন সময় এ বক্তব্য দিলেন যখন পশ্চিমা দেশগুলোর পাশাপাশি রাশিয়ার অর্থোডক্স চার্চের পক্ষ থেকেও তুর্কি সরকারের এ পদক্ষেপের নিন্দা জানানো হয়েছে।

রুশ উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন- বিষয়টি নিয়ে বিশ্বব্যাপী যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়েছে সে বিষয়ে সম্যক অবহিত হয়েই বলতে চাই- একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।

এর আগে রাশিয়ার ভলোকলামস্ক শহরের অর্থোডক্স চার্চের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়- আয়া সোফিয়া জাদুঘরকে মসজিদ হিসেবে ঘোষণা করা খ্রিস্টানদের মুখে চপেটাঘাতের শামিল।

তুরস্কের সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ের সূত্র ধরে দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান গত শুক্রবার তার দেশের আয়া সোফিয়া জাদুঘরকে মসজিদ হিসেবে ঘোষণা করেন। তিনি বলেন- শিগগিরই এই ঐতিহাসিক স্থাপনা মুসলমানদের নামাজ আদায়ের জন্য খুলে দেয়া হবে। তুর্কি জনগণ এরদোগানের এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও পশ্চিমা দেশগুলো এর তীব্র বিরোধিতা করে।

এর আগে গত শুক্রবার (১০ জুলাই) তুরস্কের বিশ্বখ্যাত স্থাপনা আয়া সোফিয়ার জাদুঘর মর্যাদা নাকচ করে দেয় কাউন্সিল অব স্টেট। আদালতের দেয়া রায়ের ফলে স্থাপনাটিকে মসজিদে রূপান্তরের পথ সুগম হলো। ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের অধিপতি সম্রাট প্রথম জাস্টিনিয়ানের নির্দেশে এটি নির্মিত হয়। ১৯৩৪ সালে জাদুঘরের স্বীকৃতি পায় আয়া সোফিয়া। সেসময় স্থাপনাটি গীর্জা হিসেবেই ব্যবহৃত হতো। ১৪৫৩ সালে ইস্তাম্বুল অটোম্যান সাম্রাজ্যের দখলে এলে এটিকে মসজিদে পরিণত করা হয়। ১৯৩৪ সালে সাম্রাজ্যের পতনের পর মুস্তফা কামাল আতাতুর্ক স্বাক্ষরিত এক ডিক্রিতে মসজিদটিকে পরিণত করা হয় জাদুঘরে।

গত মে মাসে আয়া সোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তরের ঘোষণা দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। সে সময় এই ঘোষণার তীব্র সমালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্র, গ্রিস ও রাশিয়া। বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় থাকা জাদুঘরটিকে আলোচনা ছাড়া রূপান্তর না করতে আহ্বানও জানিয়েছিলো ইউনেস্কো। তবে তুরস্ক তা তোয়াক্কা করে নি। ফলে এখন মসজিদ হিসেবে রূপান্তরিত করে ধর্মীয় কাজ ও প্রার্থনার জন্য খুলে দেওয়া হবে এই স্থাপনাটি।