আমেরিকায় মৃত্যু এক লাখ

প্রকাশিত: ৭:০৬ অপরাহ্ণ, মে ২৮, ২০২০
ছবিঃ DW বাংলা

অ্যামেরিকায় করোনা-মৃত্যু এক লাখ ছাড়ালো। করোনা তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এলো ব্রাজিল।

প্রায় দুই মাস আগে একটি সমীক্ষা বলেছিল, অ্যামেরিকায় করোনা-মৃত্যু এক থেকে দুই লাখ পর্যন্ত হতে পারে। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সে সময় এই তথ্যকে গুরুত্ব দেননি। বলেছিলেন, প্রতি বছর সাধারণ ফ্লুয়েই বহু হাজার মানুষের মৃত্যু হয় অ্যামেরিকায়। ফলে করোনাকে তিনি আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছেন না। মে মাসের শেষ সপ্তাহে ঠিক সেই ঘটনাই ঘটলো। অ্যামেরিকায় মৃতের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে গেল। আগের চেয়ে সংক্রমণ কমলেও, এখনও সে দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সমীক্ষা অনুযায়ী অ্যামেরিকায় এখনও পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১৭ লাখ ৪৫ হাজার জন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে এক লাখ দুই হাজার মানুষের। সুস্থ হয়েছেন চার লাখ ৯০ হাজার। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই দেশে লকডাউন ক্রমশ তুলে দেওয়া হচ্ছে। খুলছে দোকানপাট, অফিস। প্রেসিডেন্ট বার বার স্বাভাবিক জনজীবনের পক্ষে সওয়াল করছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আরও কিছু দিন লকডাউন চললে অ্যামেরিকায় করোনার যে ঢেউ উঠেছিল তা আরও খানিকটা স্তিমিত করা সম্ভব হবে। এড়ানো যাবে মৃত্যু। কিন্তু এখনই সব খুলে দিলে দ্বিতীয়বার করোনার ঢেউ আসতে পারে। তা সামাল দিতে আরও বেগ পেতে হবে প্রশাসনকে। এবং সে ক্ষেত্রে মৃত্যুর পরিমাণ আরও বাড়ার সম্ভাবনা থাকবে। যদিও মার্কিন প্রশাসন সে কথায় এখনও পর্যন্ত বিশেষ কান দেয়নি।

গত কয়েক সপ্তাহে করোনার অন্যতম হটস্পট হয়ে উঠেছে ব্রাজিল। রাশিয়াকেও পিছনে ফেলে করোনার তালিকায় দুই নম্বরে জায়গা করে নিয়েছে পেলের দেশ। বুধবার সকাল পর্যন্ত ব্রাজিলে আক্রান্ত হয়েছেন চার লাখ ১৪ হাজার জন। মৃত্যু হয়েছে ২৫ হাজার ৬৯৭ জনের। সুস্থ হয়েছেন এক লাখ ৬৬ হাজার মানুষ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্রাজিলে মৃত্যুর হার অন্যান্য দেশের তুলনায় চোখে পড়ার মতো বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রাজিলে রেকর্ড মৃত্যু হয়েছে। এক হাজার ৮৬ জন করোনায় মারা গিয়েছেন। এক দিনে আক্রান্ত হয়েছেন ২০ হাজার ৫৯৯ জন। যদিও ট্রাম্পের মতোই ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টও করোনাকে সময় মতো গুরুত্ব দেননি বলে অভিযোগ। বস্তুত, তিনি এখনও বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে বিরোধীদের অভিযোগ। করোনার নিয়মও তিনি মানছেন না।

করোনার প্রকোপ নতুন করে বাড়ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ লকডাউন যত শিথিল করছে, ততই নতুন করে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল এ বিষয়ে দেশের মানুষকে সতর্ক করেছেন। করোনার দ্বিতীয় দফার ঢেউ আসছে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। কিন্তু সমস্যা হলো, প্রায় দুই তিন মাস ধরে লকডাউনের কারণে বিশ্বের প্রায় সমস্ত দেশের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়েছে। ফলে কাজ শুরু না করলে অর্থনীতি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই বাধ্য হয়েই করোনাকে তোয়াক্কা না করে লকডাউন তুলতে বাধ্য হচ্ছে বহু দেশে। চীন জানিয়েছে আরও সাতটি দেশের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ কিছু দিনের মধ্যেই শুরু করা হবে। ভারতেও দেশের ভিতর বিমান যোগাযোগ শুরু হয়ে গিয়েছে। জুন থেকে বিদেশেও বিমান চলাচল শুরু হবে বলে প্রশাসনের এক আধিকারিক ইঙ্গিত দিয়েছেন। দেশে ৩১ মে পর্যন্ত লকডাউন রয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আরও দুই সপ্তাহের জন্য লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে। কিন্তু কড়াকড়ি আরও কমে যাবে। বস্তুত, লকডাউনের কড়াকড়ি আগেই কমে গিয়েছিল। এবং তার ফলে প্রায় প্রতিটি শহরে করোনা সংক্রমণ দুই গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

সূত্রঃ রয়টার্স, পিটিআই, এপি