আমি স্টিভ রোডসের বিদায়ের কোনো কারণ খুঁজে পাই না- মাশরাফি বিন মর্তুজা।

প্রকাশিত: ৫:০৭ অপরাহ্ণ, মে ২৮, ২০২০
চন্ডিকা হাথুরুসিংহের বিদায়ের পর ৭ জুন ২০১৮ বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করেন ইংলিশ কোচ স্টিভ রোডস। এবছরের টি-২০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত স্টিভ রোডস এর চুক্তির মেয়াদ থাকলেও গত বছর বিশ্বকাপের পর স্টিভ রোডস কে ছাটাই করে বাংলাদেশ ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রন সংস্থা বিসিবি! রোডসের বিদায়ী বছরে টি-২০ কে বিদায় বলে দিয়েছিলেন বাংলাদেশ কাপ্তান মাশরাফি বিন মর্তুজা। কিন্তু মাশরাফি মনে করেন রোডসের বিদায়ের পিছনে ছিলো না কোনো যথাপোযুক্ত কারণ! এমনকি তিনি আরো জানান রোডস ছিলেন এক দুর্ভাগা কোচ।
সম্প্রতি বিডিনিউজ ২৪.কম কে দেওয়া সাক্ষাতকারে মাশরাফি বলেন, ‘এসব ক্ষেত্রে একেক জনের একেক রকম মতামত থাকে। আপনি যদি আমার কথা জিজ্ঞাসা করেন, আমার মতে স্টিভ রোডসের যাওয়ার কোন কারণ আমি খুঁজে পাইনি।’
এমনকি তখন মাশরাফি আরো জানান, বিশ্বকাপের পরে সব ঝড় মাশরাফির নিজের উপর দিয়েই গেছে। যদি পারফরম্যান্স বিবেচনা করা হয়ে তাহলে স্টিভ রোডস ছিলো বাংলাদেশ ইতিহাসে সেরা কোচ!
মাশরাফি বলেন, ‘বিশ্বকাপের পর আমার ওপর দিয়েই তো সব গিয়েছে, তো একজনই যথেষ্ট ছিল। এধরণের টুর্নামেন্ট যখন খারাপ যায় তখন একজনের ওপর ঝড় ওঠে। আমার ওপর দিয়ে গেলে আমি ফ্যাক্ট বলতাম, পারফর্ম করিনি, তুমি সাইড হও। এটা হচ্ছে বাস্তবতা। পারফরম্যান্সই যদি বিবেচ্য হয় তাহলে স্টিভ রোডসের বাংলাদেশের সেরা কোচদের একজন হওয়া উচিৎ।’
মাশরাফি তখন এ ব্যাপারে আরো যোগ করেন, ‘স্টিভ রোডসের পরিসংখ্যান যদি দেখেন, ও ওর প্রথম অ্যাসাইনমেন্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজে যেয়ে দুটো টেস্ট হেরেছে। এরপর থেকে কিন্তু ও জেতা শুরু করেছে। বাংলাদেশ প্রথম কোন ট্রাইনেশন জিতেছে স্টিভ রোডসের আমলে। এশিয়া কাপের ফাইনালে সাকিব-তামিমকে ছাড়া বাংলাদেশ উঠেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তাদের হোমে যেয়ে হারানো, আমাদের মাঠে হারানো- দুইবার হারিয়েছে। এই ক্ষেত্রে বললে আমি বলবো স্টিভ রোডস সাকসেসফুল কোচ ছিলেন।’
রোডস ছিলো বড়’ই অভাগা, এমনকি বিশ্বকাপে বেশ ভালো বাংলাদেশ সেমিতে যাওয়ার দৌড়েও ছিলো। কিন্তু বোর্ডের সিদ্ধান্ত কে স্বাগত জানানোর ব্যাপারেও অবগত করেন মাশরাফি!
মাশরাফির মতে, ‘স্টিভ রোডস খুবই আনফরচুনেট কোচ। বিশ্বকাপে শেষ দুই ম্যাচের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ সেমিতে যাবার দৌড়ে ছিল। আমি তাকে কোন জায়গা থেকে আনসাকসেসফুল দেখিনা। তবে বোর্ডের সিদ্ধান্তকে সবাইকে স্বাগত জানাতে হবে।’
বিগত ১০ বছরে বাংলাদেশে অনেক কোচ এসেছে এবং আবার চলেও গিয়েছে। কিন্তু স্টিভ রোডস ছিলেন একজনই! বাংলাদেশের দলের প্রতি তার ডেডিকেশন ছিলো ভিন্ন লেভেলের। নিজের সেরা টা দিয়ে খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সেরা টা আদায় করে নিতে বেশ সিদ্ধহস্ত ছিলেন রোডস। কিন্তু বোর্ড কর্তাদের কাছে মনে হয়েছে এদেশের ক্রিকেটীয় সংস্কৃতিতে রোডস বেমানান। রোডস চলে যাওয়ার এতোদিন পরেও হয়তোবা প্রতিটা ক্রিকেপ্রেমীর মনে গেথেঁ আছে তার কার্যক্রম! ভালো থাকবেন রোডস!