“আমার বিল্ডিং পুড়ে যাক৷ কিন্তু ন্যয়বিচার প্রতিষ্ঠিতো হোক৷”

প্রকাশিত: ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ, জুন ৩, ২০২০

রেস্টুরেন্ট পুড়লেও আন্দোলনে সমর্থন বাংলাদেশি পরিবারের

বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিস শহরে এক বাংলাদেশি পরিবারের আয়ের একমাত্র অবলম্বন রেস্টুরেন্টটি পুড়িয়ে দিয়েছেন৷ তা নিয়ে বিন্দুমাত্র ক্ষুব্ধ না হয়ে উল্টো আন্দোলকারীদেরই সহযোগিতা করছে সেই বাংলাদেশি পরিবার৷

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী:

পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ তরুণের মৃত্যুতে ফুঁসে উঠেছে গোটা যুক্তরাষ্ট্র৷ ফ্লোরিডা, আটলান্টা, ওয়াশিংটন ডিসিসহ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন শহরে৷ চলছে অগ্নিসংযোগ আর ভাংচুর৷ এরমধ্যে মিনিয়াপোলিস, আটলান্টা, ফিলাডেলফিয়া আর লস এঞ্জেলেসসহ অনেকগুলো শহরে কারফিউ ঘোষণা করা হয়েছে৷ আন্দোলন থামাতে ফেডারেল সরকার প্রয়োজনে সামরিক বাহিনী নামাতে প্রস্তত বলে টুইটে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প৷

প্রতিবাদের সূত্রপাত

শুরুটা হয়েছিল মিনিয়াপোলিস থেকে৷ জর্জ ফ্লয়েডের পুলিশি নির্যাতনের ভিডিও আর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই জ্বলছে শহরটি৷ ক্ষোভের আগুনে পুড়ে গেছে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান৷ বাদ যায়নি বাংলাদেশের রুহেল ইসলামের একমাত্র আয়ের উৎস রেস্টুরেন্টটিও৷ এটিই ছিলো তার একমাত্র আয়ের অবলম্বন৷ অথচো ঘটনাটি জানার পর এক বন্ধুকে তিনি ফোনে বলেন,
‘‘আমার বিল্ডিং পুড়ে যাক৷ কিন্তু ন্যয়বিচার প্রতিষ্ঠিতো হোক৷’’

শুক্রবার আগুন নিভে যাওয়ার পর পরিবারসহ রেস্টুরেন্টে যান রুহেল৷ তিনি সেখানেও অন্দোলনকারীদের প্রতি তার সমর্থন ব্যক্ত করেন৷ নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘‘আমরা ভবনটি আবার তৈরি করতে পারবো, কিন্তু একজন মানুষকে তো আর ফেরাতে পারবো না৷’’

কৃষ্ণাঙ্গ তরুণের মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রে সহিংসতা

২০০৮ সালে বাংলাদেশি ও ভারতীয় খাবারের এই রেস্টুরেন্টটি চালু করেন তিনি৷ মহাত্মা গান্ধীর অহিংস আন্দোলনে বিশ্বাসী হওয়ায় নাম দেন গান্ধী মহল৷ যুক্তরাষ্ট্রে শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হওয়া আন্দোলনটি এখন সহিংসতায় রূপ নিলেও তার পেছনে কারণ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি৷ ‘‘আমাদের তরুন প্রজন্ম ক্ষুব্ধ হয়েছে, এবং এর যথেষ্ট যৌক্তিকতা রয়েছে,’’ বলেন রুহেল৷

শুধু রুহেল নন, তার কন্যা হাফসা ইসলামও বাবার মতকেই সমর্থন দিচ্ছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘বিক্ষোভকারীরা তো শান্তিপূর্ণ উপায়ে চেষ্টা করেছে, কিন্তু তাতে তো কাজ হয়নি৷’’

প্রতিবেদনে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে শুধু নৈতিক সমর্থনই নয়, রেস্টুরেন্ট ভবনের একটি কক্ষকে ফিল্ড হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহারের জন্যেও ছেড়ে দিয়েছিলেন তারা৷ সেখানে অনেক আন্দোলনকারীদেরই চিকিৎসা দেয়া হয়েছে৷ এমনকি তাদের শক্তি যোগাতে রেস্টুরেন্টে নান, বাসমতি চালের ভাত আর ডাল রান্না করেছেন তিনি৷

যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে পুলিশের নিপীড়নে সোমবার মারা যান কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ জর্জ ফ্লয়েড৷ নির্মমতার এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে মঙ্গলবার থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়৷

সূত্র কৃতজ্ঞতা- এফএস/এআই (নিউইয়র্ক টাইমস, এপি, রয়টার্স)