আবার ফিরতে চাই প্রাণের আবিপ্রবি ক্যাম্পাসে

প্রকাশিত: ১০:১৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০২০

মীর ইমরান আলী

প্রিয় তার স্কুল, কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। হোক তা টিনের চাল বা ভাঙা দরজার, ভাঙা জানালার; তবু প্রতিটি ক্যাম্পাস একেকটি দুর্বলতার স্থান। এই তো বেশ কিছুদিন আগের কথা, যখন দেশে করোনাভাইরাস দেখা মেলেনি, প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নতুন নতুন সুরের বার্তা জানান দিত আহছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (আবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে।

প্রধান গেট থেকে শুরু করে ক্যাম্পাসের প্রতিটি গাছপালা, চেয়ার, টেবিল, নতুন কিংবা পুরোনো দালানে যত্ন করে গাঁথা প্রতিটি ইট শিক্ষার পতাকা তুলে ধরে রাখত। (আবিপ্রবি) সপ্তাহের প্রায় সব দিনই পাখির সুরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাজত নানা রকম সুর। সকাল শুরু হতো ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ শব্দের সুরে। প্রতিটি ক্লাস, ক্লাসের বেঞ্চ যেন পূর্ণতা বহন করত।

অডিটরিয়াম থেকে ভেসে আসত শুদ্ধস্বর কবিতা মঞ্চের কবিতার সুর, নাট্যদলের নাটকের সংলাপের সুর, বিতর্ক মঞ্চে বিতার্কিকদের ঝাঁজাল বক্তব্য। ক্লাস থেকে মাঠ, দালান থেকে ঘাস, নিয়ম থেকে অনিয়ম তুলে ধরাই ছিল সাংবাদিক সমিতির প্রতিদিনকার রুটিন। স্কাউট, ক্যাডেটদের পায়ের তীব্র শব্দে জানান দিত উদ্যম, তেজ আর মহত্ত্ব। এমনই আহছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অভিন্নতায় মিলিত শব্দের সুর থমকে আছে করোনার প্রভাবে।

শিক্ষার্থীদের আসা-যাওয়া, ক্লাস, ক্লাবগুলোর নতুন নতুন সুর থমকে গেলেও থমকে যায়নি, (আবিপ্রবি) কৃষ্ণচূড়ার ফুল ফোটা, আকাশমনিগাছের আকাশ ছুঁয়ে দাঁড়িয়ে থাকা, কোকিল ডাকার শব্দ।

ক্যাম্পাসের হাওয়া ভবনের ঠিক সামনে মৃত্যুর দিকে অগ্রসর হওয়া শিউলি ফুল গাছে এখন হয়তো নতুন কুড়ি জন্মেছে। পুষ্পকাননে হয়তো নতুন নতুন অজানা ফুলের মেলা চলছে। হয়তো দুপুর হলেই বিতর্ক মঞ্চে চলে পাখিদের খোশগল্পের আড্ডা। ওদের বিরক্ত করার এখন কেউ নেই।

খাঁ খাঁ করছে চিরচেনা সেই বাদাম বিক্রির জায়গাটা, কিশোর ছেলেমেয়েগুলো গোলাপ, বেলি ফুলের মালা নিয়ে পুরো ক্যাম্পাস হেঁটে হেঁটে বিক্রি করে দুবেলা দুমুঠো আহার জোগাত। প্রায় দেখা যেত ক্যাম্পাসের প্রথম গেটের দিকে পথশিশুদের নিয়ে জন্মদিনের কেক কাটা হচ্ছে। আচ্ছা, শূন্য ক্যাম্পাসে এখনো কি ছেলেমেয়েগুলো আসে? সব সময় ব্যস্ত থাকা ‘সি আর’ কী এখনো আগের মতো ব্যস্ত থাকে?

পড়াশোনার ফাঁকে আড্ডায় শিক্ষার্থীরা। ছবি: লেখকআচ্ছা যে ছেলেটা প্রতিদিন সকালের ক্লাস মিস করত আর ঘুম ঘুম চোখ নিয়ে ক্যাম্পাসে আসত, সে এখন অবশ্য ঘুমানোর অনেক সময় পাচ্ছে? নাকি নতুন কোনো মাঠ, নতুন কোনো ঘাটের সন্ধান পেয়েছে তারা?

কবে হবে ফিরে যাওয়া সেই চিরচেনা প্রিয় ক্যাম্পাসে, কবে আবার পাখির সুরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শুদ্ধস্বর কবিতা মঞ্চের গান, বিতর্ক মঞ্চের যুক্তিনির্ভর বিতর্কে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করে দেওয়া শব্দ, কবে আবার সাংবাদিক সমিতির সেই তরুণেরা মাঠে বিচরণ করবে, কবেই–বা ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ শব্দে মুখরিত হবে ক্যাম্পাস?

এমনই হাজারো প্রশ্নের দানা বেঁধে আছে আহছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থীর মনে। অপেক্ষা একদিন সুস্থ পৃথিবীর বুকে, ফিরে যাব (আবিপ্রবি) সবুজ সুরের ক্যাম্পাসে।

লেখক: শিক্ষার্থী, আহছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।