আপনার ব্যক্তিত্ব বিকশিত করুন

প্রকাশিত: ৪:৪৩ অপরাহ্ণ, জুন ৪, ২০২০

জীবনকে উপভোক করুন (দ্বিতীয় পর্ব)

ডাঃ মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান আল-আরেফী

অনুবাদঃ সাব্বির আহমাদ

সবার ব্যক্তিত্বের বিকাশ সমান নায় । বিশ বছররের কিছু তরুণকে আপনি পাবেন যাদের কথা বলার ঢং, চিন্তা চেতনা, লাইফস্টাইল এখন যেমন দেখতে পাচ্ছেন দশ বছর পরেও ঠিক তেমনি থাকবে। কোন পরিবর্তন আসবে না। জীবনের কোন উন্নতি হবেনা। অপরদিকে এমন কিছু যুবককেও পাবেন যারা প্রতিটা মুহূর্তে নিজেদেরকে উন্নতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে । প্রতিনিয়ত তাদের ব্যক্তিত্ব বিকশিত হচ্ছে। হোক সেটা দুনিয়াবী বা আখেরাতী। এমনটা কেন হয়? চলুন তাহলে কিছুটা পার্যালোচনা করি।

ধরুন, দুজন ব্যক্তি নিয়মিত টিভি চ্যানেল দেখে।সোশাল মিডিয়ায় সময় দেয়। তাদের একজন নিয়মিত নিউস পড়ে । গুরুত্বপূর্ণ প্রোগ্রাম দেখে । জ্ঞানগর্ভ লেকচার বা সংলাপ শুনে- যা থেকে তার চিন্তা শক্তি সমৃদ্ধ হয়।  জ্ঞানের বিকাশ ঘটে । অপরের অভিজ্ঞতাকে সে বাস্তব জীবনে কাজে লাগায়। বড়দের মহৎ কাজগুলোর অনুসরণ করে। উপকারি কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখে- এতে তার ভাষাগত দক্ষতা, উপস্থিত বুদ্ধিমত্তা, বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা ভাবনা বৃদ্ধি পাবে।

অপরদিকে অন্যজন প্রেমকাহিনী নির্ভর সিরিয়াল দেখে,  রাত জেগে আজেবাজে মুভি দেখে, ভিডিও গেইম খেলে, কল্পনাপসূত লাভ স্টরি পড়ে, গান শুনে , অযাথা সময় নষ্ট করে।

পাচঁ-দশ বছর পর এ দুইজনের ব্যক্তিত্ব ও চিন্তাধারা কেমন হবে? কে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা, জেনারেল নলেজের দক্ষতা , অপরকে প্রভাবিত করার যোগ্যতা রাখবে? সর্বোপরি প্রতিকূল পরিবেশে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেয়ার মানসিকতা লালন করবে? অবশ্যই প্রথমজন দ্বিতীয়জন থেকে দক্ষতা ও যোগ্যতার দিক দিয়ে এগিয়ে থাকবে। তার কথা বলার স্টাইল ও উদ্ধৃতি দেয়ার পদ্ধতি হবে আকর্ষণীয়। সে কুরআন হাদীস ও সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধৃতি দিবে।

অপরদিকে দ্বিতীয়জন নায়ক-নায়িকাদের সংলাপ, মুভির ডায়ালগ বা গানের কলি দিয়ে উদ্ধৃতি দিবে। এমনি একজনের সাথে কিছুদিন আগে আমার সাক্ষাত। সে কথার মাঝখানে রেফারেন্স দিতে গিয়ে বলছেঃ আল্লাহ তায়ালা বলেছেনঃ হে বান্দা, তুমি চেষ্টা কর আমিও তোমার সাথে চেষ্টা করবো” । পরক্ষণেই আমরা বললাম, বল কি, এটা ত কোরআনের আয়াত না ! তখন তার চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেলো। সে একেবারেই থ হয়ে গেলো। আমি অনেক খোঁজাখুঁজি করে বের করলাম যে, এটা ছিল মিশরীয় লোকগাঁথা । কোন ধারাবাহিক সিরিয়াল দেখে তার মনে গেঁথে গেছে। পাত্রের মধ্যে যা রাখা হবে তা থেকে তাই বের হয়।

আবার দেখেন, কত লোক অনলাইনে সময় দেন। ফেইসবুক চালান, পত্র-পত্রিকা পড়েন। কিন্তু এমন কতজন পাঠক পাওয়া যাবে ,যারা গুরুত্বপূর্ণ নিউজ, তথ্যবহুল ফিচার, সম্পাদকীয় কলাম পড়েন, যা তার আত্নার উন্নতি, দক্ষতা বৃদ্ধি ও জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করবে। অথচ বিনোদন ও খেলার পাতা পড়ার মতো লোকের অভাব নেই। এই কারণেই আজকাল পত্রিকাগুলো বিনোদনের পাতা, খেলাধুলার পাতার কলেবর বৃদ্ধির প্রতিযোগীতায় নেমেছ।

এটা তো গেলো শুধু পত্রিকার ব্যপার । সব ক্ষেত্রেই আমাদের একই অবস্থা । আমাদের গল্পের আসরগুলো এই সকল অহেতুক বিষয়ের উপরই হয়ে থাকে। আমাদের অবসর সময়গুলোতে আলোচনার বিষয়বস্তু থাকে “কোন ছবিটা এবার হিট খেয়েছে” এতে কতো আয় হয়েছে? কোন মডেলের এবার ডিভোর্স হয়েছে? কোন খেলোয়ার পরিবারের সাথে কিভাবে সময় কাটাচ্ছে”- এইসব । আপনি যদি বড় কিছু হতে চান , তাহলে আপনাকে পরিবেশের উল্টো স্রোতে হাঁটতে হবে। আপনাকে আত্নবিকাশে মনোযোগী হতে হবে। নিজের যোগ্যতা ও প্রতিভা বিকাশে সহায়ক এমন কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে হবে। সেজন্য আপনাকে লেগে থেকে প্রচুর অনুশীলন করতে হবে।

আব্দুল্লাহ নামে এক বুজুর্গ ব্যক্তি ছিল । তাঁর আচরণ দক্ষতায় কিছু ঘাটতি ছিল। সে একবার যোহর নামাজ আদায় করার জন্য মসজিদের দিকে রওয়ানা হলো। নামাজের প্রতি প্রচণ্ড আগ্রহ ও মসজিদের প্রতি সীমাহীন ভালোবাসা লালন করতো। সে খুব দ্রুত পায়ে হাঁটছিলো যাতে নামাজ ছুটে না যায়। পথিমধ্যে সে এক লোককে পেলো । সে খেজুর গাছে বসে খেজুরের কাঁদি নিয়ে ব্যস্ত। আশ্চর্য ! এই লোকের দেখছি নামাজের প্রতি কোন গুরুত্বই নেই। মনে হচ্ছে আযান-ইকামাত কিছুই শুনে নি।

-এই মিয়া, আপনি নামাজের সময় ওখানে কী করেন, নামাজ পড়তে আসুন।

-জ্বি ভাই , আসছি।

-তাড়াতাড়ি করুন, নামাজের কোন বালাই নেই, গাধা কোথাকার!

-কি, আমি গাধা?!

সে একটি খেজুরের ডাল ঐ বুজুর্গের মাথায় ছুড়ে মারলো। বুজুর্গ লজ্জায়, ক্ষোভে চেহারা ঢেকে মসজিদে চলে গেলো। ঐ লোক বুঝতে পারলো না কাকে সে ডাল ছুঁড়ে মেরেছে। গাছ থেকে নেমে বাসায় নামাজ আদায় করলো। কিছুক্ষণ বিশ্রাম শেষে বাগানের বাকী কাজ শেষ করতে বের হলো। আসরের সময় ঘনিয়ে এলো। ঐ বুজুর্গ এবারো এই পথ দিয়েই মাসজিদে যাচ্ছে। এবার তাঁর আচরণে ভিন্নতা নিয়ে আসলো।

-আসসালামু আলাইকুম , কেমন আছেন ভাই?

– ওয়ালাইকুম আসসালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ , এই তো ভাই, ভালো আছি।

– এবার খেজুর কেমন ধরেছে?

-আলহামদুলিল্লাহ , ভালোই।

-আল্লাহ আপনার রিযিকে বরকত দান করুক, নেয়ামত আরো বাড়িয়ে দিক, আপনার পরিবার পরিজনের জন্য এই মেহনতকে আল্লাহ কবুল করুক!

– আমীন ! আমীন!

– কাজের ব্যস্ততার কারণে মনে হয় আসরের আযান শুনতে পান নি। আসর নামজের সময় হয়েছে। কিছুক্ষণ পর জামাত দাঁড়াবে। আপনি মনে হয় এখন নেমে কিছু বিশ্রাম করে নামাজটা সেরে নিতে পারেন। তারপর না হয় বাকী কাজ শেষ করবেন।

– অবশ্যই ,অবশ্যই। এখনি নামছি ভাই।

নেমে করমর্দন করলো এবং বললো- চমৎকার অমায়িক ব্যবহার ভাই আপনার! যোহরের সময় এখান দিয়ে এক লোক গিয়েছিলো । যদি তাকে পেতাম, বুঝিয়ে দিতাম, গাধা কে?!

ফলাফল

  • “আপনি মানুষের সাথে যেমন আচরণ করবেন, যেকোনভাবেই আপনি তেমনটাই ফিরে পাবেন”