আগামীর আশঙ্কা নয়, বর্তমান সঙ্কটেই নাজেহাল বিশ্ব।

প্রকাশিত: ৫:১৩ অপরাহ্ণ, মে ২৮, ২০২০

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি যতই বাড়ছে ততই ধীরে ধীরে অঞ্চলভেদে লক ডাউন শিথিলতার পথে হাটছে গোটা অসুস্থ পৃথিবী।

বিশ্ব জুড়ে করোনা-আক্রান্তের সংখ্যা ৫৫ লক্ষের গণ্ডি ছাড়িয়েছিল গত কালই। আজ, ৫৬ লক্ষ ১৭ হাজার! মৃত সাড়ে তিন লক্ষের কাছাকাছি।
পরিস্থিতির এমন ভয়াবহতার মাঝেও গত মঙ্গলবার (২৬ মে) থেকে করোনা হটস্পট ইউরোপের অন্যতম দেশ ইটালির বিভিন্ন পর্যটনস্থল খুলে দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে প্রথম দিনেই কয়েকজন ভ্রমণ পিপাসু হাজির হয়েছেন ইটালির বিখ্যাত পম্পেই নগর দেখতে।

অপর দিকে অর্থনীতির চাকা ঘোরাতে বহু দেশই লকডাউন শিথিল করে, আংশিক বিমান পরিষেবাও চালু করে দিয়েছে।
তা হলে প্রশ্ন দাড়ায় যে এ বার কি তবে বিদায়ের পথে কোভিড-১৯? সেই আকাশ কুসুম জল্পনায় জল ঢেলে দিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর মাইক রায়ান জানালেন, ‘‘আমরা এখন সবে সংক্রমণের প্রথম ধাপের মাঝামাঝি পর্যায়ে। দ্বিতীয় ঝড়ের ঢের বাকি। এখন প্রথম ঝড়ের দাপট সামলানোটাই চ্যালেঞ্জের।’’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বে মোট করোনা-আক্রান্তের দুই-তৃতীয়াংশই ইউরোপের। আবার তালিকার শীর্ষে থাকা আমেরিকায় সংক্রমিতের সংখ্যা ১৭ লক্ষ ছাড়িয়েছে। মৃতের সংখ্যা এক লক্ষ ছাড়িয়েছে। অন্য দিকে, ক্রমশ চিন্তা বাড়ছে দক্ষিণ আমেরিকা এবং দক্ষিণ এশিয়ার। বিশেষত, ব্রাজিল ও ভারতের।

তাই চীনের উহানে সৃষ্ট প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণকে উপেক্ষা করে যখন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো কিংবা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো অনেকেই অর্থনীতির চাকা ঘোরাতে আপন-আপন দেশে সর্বত্র লকডাউন তুলে দিতে চাইছেন ঠিক তখনই হু-কর্তা রায়ান ব্রাজিলকে হুঁশিয়ারির সুরে বললেন, ‘‘সংক্রমণ যখন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, তখন অর্থনীতির উপর যা-ই প্রভাব পড়ুক না কেন, এলাকা বুঝে লকডাউন না-তোলাই মঙ্গলের।’’